শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:০৬
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:১৩

মাচায় ঝুলছে শত শত তরমুজ

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

মাচায় ঝুলছে শত শত তরমুজ

অসময় মৌসুমেও ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রভাষক মো. হুমায়ুন জলিলসহ চারজন। তাদের দেখে অনেকে এগিয়ে আসছেন এই তরমুজ চাষে। 

ব্ল্যাক বেবি এই তরমুজ জাতটি বারো মাসই চাষ করা যায়। মাচার পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। দুই মাসে ব্ল্যাক বেবি তরমুজটির ভালো ফলন ধরে এবং বিক্রয় করা যায়।

বাজারে ভালো চাহিদা, ভালো দাম, রঙ ও স্বাদ দেখতে আকর্ষণীয় ও লাভজনক হওয়ায় এই জাতের তরমুজ দেখতে ক্ষেতে ভিড় করেন অনেকে। 

করোনার এই সময়ে ইউটিউবে তরমুজ চাষ দেখে আবাদ শুরু করেন প্রভাষক মো. হুমায়ুন জলিলসহ চারজন। তরমুজ চাষের প্রথম ধাপে তাদের খরচ হয় প্রায় ৭ লাখ টাকা। বিক্রয় করে তারা পান প্রায় ৮ লাখ টাকা।

এখন তাদের তরমুজের বাগানে ছোট-বড় মাচায় বাতাসে দুলছে হাজারো ব্ল্যাক বেবি তরমুজ। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলন ফলাতে সক্ষম হওয়ায় লাভের স্বপ্নও দেখেন তারা। 

প্রভাষক মো. হুমায়ুন জলিল জানান, শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়ে বসে না থেকে ইউটিউবে দেখে চারজন মিলে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির দিকে বোচাগঞ্জের ইশানিয়া ইউপির বকুতলায় ৩ একর জমি লিজ নেওয়া হয়। এরপর তরমুজ চাষ শুরু। 

তরমুজ চাষ শুরুর পর এখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন নারী-পুরুষ কাজ করছে। এতে কিছু বেকারত্ব মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, তরমুজ চাষের প্রথম ধাপেই এক লাখ টাকা লাভ হয়। প্রথম ধাপে খরচ একটু বেশি হয়। কারণ মাচায় চাষ করতে হয়। মাঠ থেকে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রয় করেন তারা। ব্ল্যাক বেবি তরমুজগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের হয়।

বোচাগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আরিফ আফজাল জানান, বোচাগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে ১৩ হেষ্টর জমিতে ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে উপজেলার বকুলতলা, ডহরা, নাফানগর এলাকায় কৃষকেরা ব্ল্যাক বেবি তরমুজটি চাষ করছে। 

উল্লেখ্য, ব্ল্যাক বেবি তরমুজের জাতটি ভারতের। বাংলাদেশে প্রথম চুয়াডাঙ্গায় চাষ হয়। পরে জয়পুরহাট, মেহেরপুর ও ঢাকার ধামরাইয়ের পর দিনাজপুরের চাষিরাও এই তরমুজ চাষ শুরু করেন। 

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর