শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১৯:৫০
প্রিন্ট করুন printer

বগুড়ায় আনসার আল ইসলামের দুই সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ায় আনসার আল ইসলামের দুই সদস্য আটক

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের দুই সদস্যকে আটক করেছে। 

এ সময়ে তাদের নিকট থেকে ১টি ওয়ান শুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি, বোমা তৈরির বিস্ফোরক উপাদান ৪৭৫ গ্রাম, ১টি চাপাতি, ২৫টি জঙ্গি পুস্তক ও ৫০টি জঙ্গি প্রচারণার লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার বাঘোপাড়া উত্তরপাড়া ১টি মসজিদের সামনে থেকে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়। 

তারা হলেন- কুমিল্লা জেলার বি-পাড়া থানার সিদলাই উত্তরপাড়া জোরপুল এলাকার হাকিম সরকারের ছেলে দাওয়াহ বিভাগের সদস্য ইকবাল হোসেন সরকার (৪০) ও একই জেলার দেবিদ্বারা থানার ভৈষরকুট এলাকার  শহীদুর রহমানের ছেলে দাওয়াহ বিভাগের সদস্য জায়েদুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ (৩৮)। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি ওয়ান শুটারগান, ২ রাউন্ড গুলি, বোমা তৈরির বিস্ফোরক উপাদান ৪৭৫ গ্রাম, ১টি চাপাতি, ২৫টি জঙ্গি পুস্তক ও ৫০টি জঙ্গি প্রচারণার লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

আজ শুক্রবার দুপুরে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিরা নিজেদের আনসার আল-ইসলামের দাওয়াতি বিভাগের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে এবং দাওয়াতি কার্যক্রম ও অর্থ সংগ্রহের জন্য তারা বিভিন্ন জেলা সফর করে বলে জানিয়েছে। 

আটককৃতরা বিগত ৫ বছর ধরে সংগঠনের কার্যক্রম হিসেবে দেশের ১৪টি জেলায় নিয়মিত সফর করেছে। আনসার আল ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতাদের সহিত তাদের যোগাযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক ব্যক্তিদের আদালতে প্রেরণ করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫৪
প্রিন্ট করুন printer

করোনা ভ্যাকসিন সংরক্ষণে প্রস্তুত কুড়িগ্রাম জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

করোনা ভ্যাকসিন সংরক্ষণে প্রস্তুত কুড়িগ্রাম জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কুড়িগ্রামে আসার আগেই জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ তা সংরক্ষণের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

আগামী ৮ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশের ন্যায় একযোগে কুড়িগ্রামেও ভ্যাকসিন প্রয়োগের কথা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এ ভ্যাকসিন যাদেরকে দেয়া হবে সে তালিকা তৈরি করছে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ।

কুড়িগ্রামে জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতাল ও সদর উপজেলাসহ মোট ১০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ভ্যাকসিন দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা তালিকা অনুযায়ী ভ্যাকসিন প্রয়োগ করবেন। ইতোমধ্যেই জেলা সিভিল সার্জন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য-পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালকসহ ৫জন ঢাকা থেকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

চলতি মাসের যেকোন দিন জেলার আড়াইশত শয্যার জেনারেল হাসপাতালসহ বাকি ৯ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ৫০জন করে মোট সাড়ে ৪শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ সদর উপজেলা ও অন্যান্য ৯ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে করোনার ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য সকল রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আমরা কতটি ভ্যাকসিন প্রথম পর্যায়ে পাব তা এখনও নিশ্চিত না হলেও ৪ থেকে ৫ লাখ ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করতে পারব বলে আমি আশা করি। তিনি আরো বলেন, আমরা কয়েকজন ঢাকা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আর অল্প সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই পর্যায়ক্রমে ওই সব কেন্দ্রের চিকিৎসক, নার্স, সেকমো,প.প পরিদর্শক ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ দেব আমরা। তারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অন্যদের প্রশিক্ষণ দেবেন এবং ভ্যাকসিন প্রয়োগে কাজ করবেন। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫০
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫২
প্রিন্ট করুন printer

বগুড়ায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:

বগুড়ায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

৩৯ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বগুড়া সোনাতলা থানার সাবেক এসআই আলমগীর হোসেন পিপিএম'র (৪৩) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমতিক্রমে রবিবার মামলা দায়ের করেন উপ-সহকারী পরিচালক সুদীপ কুমার চৌধুরী। 

অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার শৌলীসবলা এলাকার মৃত মবজেল হোসেনের ছেলে। তিনি বর্তমানে বগুড়া শহরের লতিফপুর এলাকায় বসবাস করছেন।

সোমবার বগুড়া জেলা দুদক কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসআই আলমগীর হোসেন ১৯৯৭ সালে কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগদান করেন। তিনি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিক হয়েছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধানে নামে। এরপর আলমগীর হোসেনের কাছে তার সম্পদের বিবরণী চায় দুদক। তিনি দুদকের কাছে তার ৭২ লাখ ৫১ হাজার ৭৮ টাকা সম্পদের মালিকানা অর্জনের ঘোষণা প্রদান করেন। সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে তার নামে ৪৫ লাখ ২ হাজার ৭০১ টাকা গ্রহণযোগ্য আয় এবং ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ এই ২২ বছরে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় পাওয়া যায়। ফলে পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদ অর্জন ৮৪ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৮ টাকা। 

এদিকে দুদক তদন্তকালে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের জ্ঞাত আয়ের বাইরে আরও ৩৯ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৭ টাকার সম্পদ অর্জন দেখতে পায়। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপ- সহকারী পরিচালক সুদীপ কুমার চৌধুরী জানান, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা অনুযায়ী এসআই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি এসআই আলমগীর হোসেন বগুড়ার সোনাতলা থানা থেকে বদলী হয়ে রাজশাহীর বাঘা থানায় গিয়েছেন। 

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৪৬
প্রিন্ট করুন printer

বগুড়ার ১০ মামলার আসামি ডাকাত সর্দার ঢাকা থেকে গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক

বগুড়ার ১০ মামলার আসামি ডাকাত সর্দার ঢাকা থেকে গ্রেফতার

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ৯টি মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত ও একটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ডাকাত সর্দার বেলাল হোসেন (৪৫)-কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। 

গতকাল রবিবার (২৪ জানুয়ারী) ঢাকার মিরপুর উত্তর মীরেরবাগ ছাপড়া মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। সে নন্দীগ্রামের রিধইল গ্রামের গ্রামের মুন্সির ছেলে।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা বিপিএম এর দিক নির্দেশনায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ডাকাত সর্দারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আজ সোমবার গ্রেফতারকৃত ডাকাত সর্দার বেলালকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারো প্রেরণ করা হয়েছে।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই চাঁন মিয়া, এএসআই আবুল কালাম আজাদসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।


বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৪১
প্রিন্ট করুন printer

দিনাজপুরে পৃথক সড়ক ঘটনায় তিনজন নিহত

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরে পৃথক সড়ক ঘটনায় তিনজন নিহত

দিনাজপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে এবং একটি তেলবাহি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে পড়েছে। 

ঘন কুয়াশার মাঝেই সোমবার সকাল ৯টার দিকে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়ক দিয়ে নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে আজিজার রহমান (৪২) শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে বীরগঞ্জের ২৫ মাইল নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে, একই সময়ে দিনাজপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের চম্পাতলি এলাকায় একটি তেলবাহি লড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
অন্যদিকে, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে হাকিমপুর উপজেলার হিলি-দলারদরগা রাস্তার বোয়ালদাড়ের বিশাপাড়া এলাকায় পিকআপের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নজরুল ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেন নিহত হয়েছে। 

নিহত আজিজার রহমান(৪২) বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউপির এলায়গা এলাকার মনছুর আলী ছেলে এবং অপর নিহত মোটরসাইকেল আরোহীরা হলো, নজরুল ইসলাম (৫০) রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার মোকসেদপুর বানিয়াপাড়ার মৃত জামালউদ্দিনের ছেলে এবং সাখাওয়াত হোসেন (২৪) একই এলাকার সেকান্দার আলীর ছেলে বলে জানা যায়।  

বীরগঞ্জের ভোগনগর চেয়ারম্যানের বদিউজ্জামান পান্না বলেন, ভোরে নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে নিহত আজিজার রহমান মাহানপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে দিনাজপুর-ঠাকুরগাও মহাসড়কের ২৫ মাইল এলাকায় অজ্ঞাত একটি পরিবহন তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। 
দশমাইল হাইওয়ে থানার ওসি ইয়ামিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত্যু ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কোন গাড়ির চাপায় সে নিহত হয়েছেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘন কুয়াশার কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে ঘন কুয়াশার কারণে চম্পাতলি এলাকায় উল্টে যাওয়া তেলবাহি লড়িটি উদ্ধারের কাজ চলছে। ডিজেলবাহি লড়ি উল্টে যাওয়ায় সেখান থেকে বেশ কিছু তেল পড়ে যায়, পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা সেই তেল নিতে হুড়াহুড়ি করে। তবে এঘটনায় কোন হতাহত হয়নি।

এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করে হাকিমপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, স্থানীয় মাধ্যমে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, নিহত নজরুল ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেন হিলি বাজার থেকে মোটরসাইকেলের পার্টস নিয়ে বোয়ালদাড় হয়ে দলারদরগার দিকে নিজ গন্তেব্যে যাচ্ছিলো। এসময় তারা বোয়ালদাড়ের বিশাপাড়া নামক এলাকায় পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৩৮
প্রিন্ট করুন printer

ফরিদপুরে চোর আখ্যা দিয়ে স্কুলছাত্রকে বেদম প্রহার, হাসপাতালে ভর্তি

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে চোর আখ্যা দিয়ে স্কুলছাত্রকে বেদম প্রহার, হাসপাতালে ভর্তি

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কোন্দারদিয়া গ্রামে ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে চোর আখ্যা দিয়ে বেদম পিটুনী দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। সারা শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ব্যাথায় কাতরাচ্ছে শিশুটি। এ ঘটনায় থানায় মামলার পুস্তুতি চলছে। স্কু ছাত্রকে চোর আখ্যা দিয়ে পিটুনীর ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, দাদপুর ইউনিয়নের কোন্দারদিয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক রাজা মোল্যার পুত্র, স্থানীয় রাঙামুলারকান্দি স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্র মো. সাব্বির মোল্যা (১২) আজ সোমবার ফজর নামাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে অদূরে মসজিদে যাচ্ছিল। মসজিদে যাবার পথে একটি গাছগাছালী ঘেরা বাগান পার হতে হয়। সাব্বির মোল্যা ভয়ের কারণে বাগানটি এড়িয়ে জনৈক মাজেদ মাস্টারের বাড়ির উঠানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় বাড়ির লোকজন সাব্বিরকে ধরে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। 

পরে মাজেদ মাস্টারের ছেলে ফারুক, জিয়াদ ও মাজেদ মাস্টারের নাতি হাসিব লাঠি দিয়ে সাব্বিরকে বেদমভাবে প্রহার করে। এসময় তারা তার হাতের নখ প্লাস দিয়ে তুলে ফেলার চেষ্টা করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সাব্বিরের বাবা-মা সেখান থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

সাব্বিরের বাবা রাজা মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী মাজেদ মাস্টারের বাসায় দীর্ঘ ৬ বছর ধরে কাজ করে আসছিল। গত কয়েকমাস আগে অসুস্থ্যতার কারণে সে আর কাজ করতে পারবে না বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মাজেদ মাস্টার। বিভিন্ন সময় মাজেদ মাস্টার ও তার ছেলেরা আমার ছেলে সাব্বিরকে তাদের বাড়ির কাজ করে দিতে বলে। কিন্তু আমার ছেলে তাদের কাজ না করায় দেখে নেবার হুমকি দেয়। ভোরে আমার ছেলে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে মাজেদ মাস্টারের ছেলে ও নাতি মিলে তাকে বেদমভাবে প্রহার করে। মারপিটের কারণে আমার ছেলের সারাদেহে মোটা কালো দাগ হয়ে গেছে। আমার ছেলের নখ ভেঙ্গে গেছে। সে এখন ঠিকমতো দাঁড়াতে এবং শুতেও পারছেনা। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের উপর নির্মম নির্যাতনের বিচার চাই। 

সাব্বিরের মা মোসা. পানোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যারা অমানুষিক নির্যাতন করেছে তাদের বিচার চাই। আমরা গরীব মানুষ বলে আমাদের উপর এমন অত্যাচার কেন করা হবে। 

এ বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই মাজেদ মাস্টারের ছেলে ফারুকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সামনাসামনি কথা বলবো। আমি এখন ব্যস্ত আছি বলেই ফোনটি কেটে দেয়। 

বোয়ালমারী থানার ওসি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 

বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর