শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৪৪
আপডেট : ৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫৭
প্রিন্ট করুন printer

হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে নদীই ভরসা

সাইদুর রহমান রাজু, হালুয়াঘাট

হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে নদীই ভরসা
নদীর মাঝখানে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহের চেষ্টা

ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তঘেঁষা ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলার স্থানীয় আদিবাসী ও বাঙালী পরিবাগুলোর বছরের পর বছর বর্ষায় বৃষ্টির পানি আর শুষ্ক মৌসুমে গর্ত খুড়ে কর্দমাক্ত পানি সংগ্রহ করে চলে জীবনধারণ। বর্তমানে অত্যাধুনিক টিউবওয়েল, গভীর নলকূপ, বিদ্যুৎচালিত মটর ব্যবহার করে খাবার পানি সংগ্রহ করলেও প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদের বসবাসরত মানুষগুলো নিত্য নৈমিত্তিকভাবে দূষিত ও কর্দমাক্ত পানি ব্যবহার করছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ১নং দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের দীঘলবাগ, ঘিলাগড়া গোবরচুনা গ্রামের শতাধিক পরিবার ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার হালুয়াঘাটের ১নং গাজীরভিটা ইউনিয়নের ভুটিয়াপাড়া ও ডুমনিকুড়া এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার দৈনন্দিন সকল কাজে ব্যবহার করছেন উত্তোলিত কূয়ার পানি। এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির কাছে এক কলস পানি যেন সোনার হরিণ। পানি সংগ্রহের উৎপত্তিস্থল স্থানীয় নেতাই নদী বা বানাইজুরিসহ কখনো শাখা নদী থেকে। বর্ষায় ওইসব কুয়া পানিতে তলিয়ে গেলে দূর দূরান্ত থেকে যেসব স্থানে নলকূপ আছে সেসব বাড়িতে গিয়ে পানি আনতে হয়। এদিকে চৈত্র-বৈশাখ মাসের খড়ার সময় পানিও অনেক কমে যায়। এক কলসি পানি সংগ্রহ করতে লেগে যায় কয়েক ঘণ্টা। সম্প্রতি এসব এলাকা ঘুরে ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তাদের দুর্ভোগের কথা।

ধোবাউড়া উপজেলার দীঘলবাগ গ্রামের হত দরিদ্র চেজিনা মান্দা ও রাসি রংদি আক্ষেপ করে বলেন, সারা জীবন পানির জন্য কষ্ট করলেও শেষ বয়সে এসে আর পারছি না। আর এ গভীর নলকুপ বসাতে যে খরচ হয় তা আমাদের মত হত দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। ফলে বাধ্য হয়েই ওই নদী থেকে উঠানো কুপের পানি খেতে হয়।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক মুঠোফোনে জানান, পাহাড়ি এলাকায় মাটির নিচে প্রচুর পরিমাণে পাথর থাকার কারণে সেখানে কোন টিউবওয়েল স্থাপন সম্ভব হয় না। 

সমস্যা সমাধানকল্পে ধোবাউড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন ইউসুফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিগত সময়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ২০টি রিংওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। আপাতত রিংওয়েল আর দেওয়া হচ্ছে না আমরা চেষ্টা করব মেশিনের মাধ্যমে টিওবওয়েল স্থাপনের জন্য। সেক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে রিংওয়েল স্থাপন করা হবে।    

অপরদিকে হালুয়াঘাট উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, এলাকা পরিদর্শনকালে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভুক্তভোগীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আসছে বরাদ্দে অগ্রাধিকার থাকবে। 

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর