শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:১৮
প্রিন্ট করুন printer

১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আড়াল করতে সংবাদ সম্মেলন!

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আড়াল করতে সংবাদ সম্মেলন!
রেজাউল কবির

ভোলার চরফ্যাশন মধুমতি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক রেজাউল কবিরের বিরুদ্ধে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১৪ জানুয়ারি ব্যাংকের বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক মো. ইয়াসিন উদ্দিন সোহেল চরফ্যাশন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এদিকে, রেজাউল কবির তার অপকর্ম লুকাতে গত বুধবার ভোলা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ চেষ্টায় অন্যদের ওপর কাল্পনিক ও অবাস্তব দায় চাপানোর কৌশলে লিপ্ত হন।

জানা যায়, চরফ্যাশন থানায় সাধারণ ডায়েরির পর সাবেক ব্যবস্থাপক রেজাউল কবির এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দৈনিক ৫-৬ কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ার উদ্ভট অভিযোগ করেন।

অথচ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল কবির প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলার গুইংঘার হাটে একটি গরুর খামারসহ প্রচুর সম্পত্তির মালিক। এছাড়াও তিনি জেলা সদরের অনেক প্রভাবশালীদের নিকট সুদের উপর টাকা লগ্নী করেছেন। তার এক ভগ্নিপতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের জেলা প্রতিনিধি। তার সহযোগিতায় উক্ত দুরভিসন্ধিমূলক সংবাদ সম্মেলন করার ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন বলে অনেকে জানিয়েছেন।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, উক্ত ব্যাংকের ভোল্টে টাকা রাখার অনুমোদিত লিমিট মাত্র ১ কোটি টাকা। তাছাড়া বিধি বহির্ভূত কোনো টাকা কাউকে দেওয়ার এখতিয়ার কোনো ব্যাংক কর্মকর্তার নেই। এছাড়া যে কয়েকজন গ্রাহকের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন তাদের কারোই উক্ত ব্যাংকের শাখায় কোনো লোন একাউন্ট নাই।

এ প্রসঙ্গে বর্তমান মধুমতি চরফ্যাশন শাখার ব্যবস্থাপক মো. ইয়াসিন উদ্দিন সোহেল বলেন, ব্যাংক একটি সুরক্ষিত ও বিধিবদ্ধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকে টাকা দুই ভাবে আত্মসাত করা যায়। এক. কোনো গ্রাহক লোন নিয়ে তা পরিশোধ না করে আত্মসাত করা। দুই. ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজসে টাকা আত্মসাত করা। এর বাহিরে অন্য কারো বা সাধারণ কোনো গ্রাহকের পক্ষে টাকা আত্মসাতের সুযোগ নেই। 

তিনি আরো বলেন, কোনো ব্যাংকে ৫ হাজার টাকার অনিয়ম হলেও তা ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপর বর্তায়।  

তিনি জানান, গত রবিবার সাবেক ব্যবস্থাপক রেজাউলের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সমঝোতা করতে তার নিকট আত্মীয় জৈনক একজন ভোলার সাংবাদিকসহ তার কিছু স্বজন দু’দফা ব্যাংকের শাখায় এসেছিলেন। তাদের স্বজনরা টাকা আত্মসাতের সাথে জড়িত আছে এমন সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চরফ্যাশন থানায় ৭ জনকে আটক করা হয়েছিল। 

চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মনির হোসেন মিয়া জানান, নতুন পাশ হওয়া আইন অনুযায়ী টাকা আত্মসাতের মামলা গ্রহণের এখতিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের। 

এ ব্যাপারে মো. ইয়াসিন উদ্দিন সোহেল জানান, ইতোমধ্যে বরিশালের দুদক কার্যালয়ে সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে। দ্রুত তার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর