শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ এপ্রিল, ২০২১ ২১:০১
প্রিন্ট করুন printer

কুড়িগ্রামে লকডাউনে চরম বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে লকডাউনে চরম বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
Google News

কুড়িগ্রামে লকডাউনে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হলেও চরম বিপদে পড়েছেন শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষজন। টানা তৃতীয় দিন লকডাউনের ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা পড়েছেন বিপাকে। ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিভিন্নভাবে ঋণ করে দোকানপাট ও সংসার চালাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

তাছাড়াও তাগিদ রয়েছে সাপ্তাহিক কিস্তি প্রদানের। সে কারণে এসব ব্যবসায়ীদের এখন মহাবিপদ। এসব পরিবারের কাছে লকডাউন এখন অনেক কষ্টের কারণ। যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া। ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললেও ক্রেতার অভাবে ব্যবসায় কোনো বিক্রি নেই। এরপরও প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়েও অনেকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এদিকে, হোটেল শ্রমিক ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষজনও পড়েছে চরম বিপাকে। কাজ নেই, নেই কোনো সহায়তা।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ইতিমধ্যেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা ও লকডাউনে শ্রমজীবীসহ নিম্ন আয়ের মানুষজনকে সহায়তা প্রদানে সরকারিভাবে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।এ বরাদ্দ পবিত্র রমজান ও ঈদের আগে ৭৩টি ইউনিয়ন ও ৩ পৌরসভায় বিতরণ করা হবে।

লকডাউনে বিপদে পড়া হোটেল শ্রমিকনেতা নুর মোহাম্মদ জানায়, এখন সব হোটেল বন্ধ। আমাদের মালিকরা কোনো টাকা-পয়সা দিচ্ছেন না। তাহলে আমরা এখন কোনো সহায়তা না পেলে পরিবারকে নিয়ে কিভাবে বাঁচব।

কুড়িগ্রাম পৌরবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাজু, রমজান, রফিকুল ও কালাম জানান, লোন করে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করছি। প্রতিদিন কিস্তি দিতে হয়। এখন ব্যবসা বন্ধ। ঘর থেকে টাকা এনে কিস্তি শোধ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ সুদের উপর টাকা নিয়ে কিস্তি দিচ্ছে। আমাদের নিয়ম করে দিক। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে চাই। না হলে আমরা পথে বসবো।

অন্যদিকে, ঊর্ধ্বমুখী কোভিড-১৯ ঠেকাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন থেকে নানান উদ্যোগ নেওয়া হলেও মানছেন না সাধারণ মানুষ। জেলা প্রশাসনের প্রচারণা ও মাইকিংয়ের পরেও মাস্ক ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য জেলার ৭৩টি ইউনিয়ন ও ৩ পৌরসভায় ভিজিএফ’র টাকা প্রতি পরিবারকে ৪৫০ টাকা করে ১৯ কোটি ২৮ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়াও ওই ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রতি পরিবারকে ৪০০ টাকা করে প্রদান করা হবে। এ টাকা আসন্ন রমজান ও ঈদের আগে বিতরণ করা হবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর