শিরোনাম
প্রকাশ : ৩ জুলাই, ২০২১ ১২:৪৯
প্রিন্ট করুন printer

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল সংকট, নামেই ৫০ শয্যা

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল সংকট, নামেই ৫০ শয্যা
Google News

গত ১৫ বছর ধরে নষ্ট হয়ে আছে এক্স-রে মেশিন। নেই এক্স রে টেকনেশিয়ান। সনোলজিস্ট্র না থাকায় অকেজো পরে আছে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন। টেকনেশিয়ান না থাকায় ইসিজি মেশিনটিও অকেজো। শূন্য রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (এনেসথেসিয়া) পদ। আউটডোর ও ইনডোরে রয়েছে ডাক্তার সংকট। পর্যাপ্ত জনবল নেই প্যাথলজি বিভাগে। এতে করে ব্যহত হচ্ছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। 

জানা যায়, ২০১২ সালের ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হয়। কিন্তু দীর্ঘ নয় বছরেও ৫০ শয্যার জনবলের জন্য নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এই ৯ বছরে নতুন পদ সৃষ্টির জন্য ৬ বার আবেদন জানানো হয়। সর্বশেষ গত বছরের মার্চ মাসে আবারও জেলা সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি পাঠানো হয়। বর্তমানে ৩১ শয্যার জনবলও এখানে নেই। 

২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী, এ উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ১৮ হাজার ২৪ জন। এর মধ্যে দারিদ্র সীমার নীচে রয়েছে ১১ শতাংশ মানুষ। এছাড়া এ উপজেলার রয়েছে বিপুল সংখ্যাক চা জনগোষ্টি। 

এখানে প্রতিদিন আউটডোরে ৪৫০ জন ও ইমার্জেন্সিতে ১৫০ জন রোগী আসে। প্রতিদিন ভর্তি হয় ৩০ থেকে ৫০ জন রোগী। আর নিয়মিত ভর্তি থাকে ৩০-৩৫ জন। রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য উপজেলার ২টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল কর্মকর্তা ও ৬টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সহকারী সার্জনকে দিয়ে ইমার্জেন্সি ডিউটি করানো হয়। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে তৃণমূলে স্বাস্থ্য সেবা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই নিরপত্তা কর্মী, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন কর্মী ও রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের রতন বৈধ্য বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কোন সেবা পাওয়া যায় না। রোগীকে ভাল করে দেখার আগেই সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে দেয়া হয়। 

মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট খায়রুল আলম জানান, জনবল সংকটের কারনে রোগীদের প্যাথলজি টেষ্টও ভাল ভাবে হচ্ছে না। তিনি একাই করছেন রক্ত সংগ্রহ, পরীক্ষা। এছাড়া বর্তমানে করোনার সেম্পুলও নিচ্ছেন। যখন আউটডোরে বের হন, তখন ইনডোরে রোগীরা দুর্ভোগে পরে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সংকটের মধ্যও আমরা রোগীদের কাঙ্খিত সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনবল চেয়ে সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি পাঠিয়েছি। ৫০ শয্যার জনবল নিয়োগ হলে রোগীদের আরও ভাল সেবা দেয়া যাবে।  


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত

এই বিভাগের আরও খবর