২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৬:৩৭

বন্যায় শিবগঞ্জে বাড়ছে সাপের উপদ্রব

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

বন্যায় শিবগঞ্জে বাড়ছে সাপের উপদ্রব

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে বাড়ছে বিষধর সাপের উপদ্রব। এসবের মধ্যে রয়েছে বিষধর রাসেল ভাইপারও। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। ঘরে ও উঠান থেকে শুরু করে সড়কেও দেখা যায় নানান প্রজাতির বিষধর সাপ। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে বিষধর সাপের আনাগোনা হওয়ায় সাপের কামড়ে হতাহতের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত অনেকেই মৃত্যুর মুখে পতিত হন। 

সাপের দংশনে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অত্যন্ত জরুরি। অথচ শিবগঞ্জ উপজেলায় সাপে কাটা রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দংশিত রোগীর জন্য নেই অ্যান্টিভেনম ইঞ্জেকশন। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ জানিয়েছেন। 

জানা যায়, সাপে কাটা রোগী শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিভাগীয় কিংবা জেলা শহরে পাঠানো হয়। এ অবস্থায় সময় ক্ষেপণের কারণে অনেক সময় রোগী পথিমধ্যে মারা যান। আবার কবিরাজ ওঝার শরণাপন্ন হয়ে অনেকে অপচিকিৎসার শিকার হন। 

ধারণা করা হচ্ছে, ভারত থেকে পদ্মায় ভেসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এসব সাপ। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন বাড়ির উঠান বা মাছ ধরার জালে ধরা পড়ছে নাম না জানা সাপসহ বিষধর রাসেল ভাইপার। 

পদ্মা তীরবর্তী এলাকার তোফিকুর রহমান বলেন, বর্ষাকালে এই অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বাড়ে। সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা থাকার পরও প্রয়োজনীয় ওষুধ শিবগঞ্জে না থাকায় আমরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। মো. সোহেল নামের আরেক যুবক বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা না থাকা অকল্পনীয়। প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় সাপে কাটা রোগীরা সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। 

এদিকে, শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল মজিদ জানান, 'সব সাপ বিষধর নয়। আগে সবাইকে সাপে কাটার বিষয়টি নিশ্চিত ও কোন সাপে কেটেছে তা শনাক্ত করতে হবে। সাপের কাটা স্থানটি ভালো ভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে এবং হালকা কিছু দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে।' 

তবে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েরা খান বলেন, 'এখানে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার ওষুধ নেই। এছাড়া সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার মতো তেমন কোনো সরঞ্জামও নেই। এ কারণে হাসপাতালে সাপে কাটা রোগী আসলে বিভাগীয় কিংবা জেলা শহরে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়া হয়।'

তিনি আরও বলেন, সাপে কাটার ওষুধ ‘অ্যান্টিভেনম’ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

এই বিভাগের আরও খবর