বরিশাল নগরীতে আতঙ্ক ছড়ানো কথিত ‘শয়তানের নিশ্বাস’ প্রতারক চক্রের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। চক্রের পাঁচ সদস্যকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কোতোয়ালি মডেল থানা সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চক্রের সদস্যরা বরিশালে এসে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করত। পরে কৌশলে অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করত তারা।
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বশির আহমেদ জানান, এক নারীর স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পাঁচ সদস্যকে দুই দিনের রিমান্ডে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
আটক সদস্যরা হলেন— রায়হান হাসান, সুমন আহমেদ, সলেমান মিয়া, রাশেদুজ্জামান রাশেদ এবং সাইফুল ইসলাম টুটুল।
পুলিশের দাবি, চক্রটি ‘স্কোপোলামিন’ নামের একটি রাসায়নিক ব্যবহার করে প্রতারণা চালাত। নির্জন এলাকায় নারী-পুরুষকে টার্গেট করে কথোপকথনের একপর্যায়ে তাদের ওপর ওই রাসায়নিক প্রয়োগ করা হতো। এতে ভুক্তভোগীরা সাময়িকভাবে অসংলগ্ন বা অচেতনসদৃশ অবস্থায় চলে যেতেন। এরপর তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেত চক্রের সদস্যরা।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার সূত্র খুঁজতে গিয়ে একটি ভিডিও ফুটেজে ব্যবহৃত একটি মিনি ট্রাকের নম্বর শনাক্ত করা হয়। সেই সূত্র ধরে চুয়াডাঙ্গা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, বাকি চার সদস্য অন্য একটি মামলায় শরীয়তপুরে কারান্তরীণ ছিলেন। সেখান থেকে এনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে স্কোপোলামিন ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল