শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৪ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ অক্টোবর, ২০১৪ ০০:০০

পবিত্র হজ

পবিত্র হজ

পবিত্র মক্কা নগরীতে প্রতি বছরের মতো এবারও লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয়েছেন হজ পালনের জন্য। আরাফাতের ময়দানের হজ সমাবেশ লাখো কণ্ঠের লাব্বায়েক আল্লাহুমা লাব্বায়েক ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে। জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা হজব্রত পালনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সমাবেশে দুনিয়ার সব প্রান্ত থেকে নানা জাতির, নানা বর্ণের নানাভাষী মুসলমানরা সমবেত হয়েছেন মহান আল্লাহর কাছে সমর্পিত হতে। হজ অবস্থাপন্ন ও শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ মুসলমানের জন্য ফরজ বা অবশ্যপালনীয় ইবাদত। জীবনে অন্তত একবার হজ পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে। কাবাকেন্দ্রিক মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ভাবা হয় এই ইবাদতকে। হজ পালনের জন্য নানা ক্ষেত্রে ত্যাগ স্বীকারের প্রয়োজন হয়। এ জন্য মুসলমানরা আর্থিক ও শারীরিক কষ্টকে বরণ করে নেয়। হজ পালনের মাধ্যমে মহান স্রষ্টার প্রতি তাদের আনুগত্য যেমন প্রকাশ পায় এমনি দেহ ও মনকে আল্লাহমুখী করা সম্ভব হয়। হজের মাধ্যমে মুমিনরা আত্দশুদ্ধির সুযোগ পান। মানবশিশু জন্মলাভ করে নিষ্পাপভাবে। হজ পালনের মাধ্যমে বান্দা অতীতের ভুলত্রুটির জন্য মহান আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করে এবং নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসার সুযোগ পায়। হজের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। বিশ্বের নানা প্রান্তের লাখ লাখ মানুষ একই ধরনের পোশাক পরে আল্লাহর কাছে নিজেদের সমর্পিত করে। হজ উপলক্ষে মানব জাতির যে মহামিলন ঘটে তা বিশ্বজুড়ে সৌহার্দ্যের পরিবেশ গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা জোগায়। বিশ্ব শান্তি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে এই ইবাদত। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মুসলমান হজব্রত পালন করছেন। সুষ্ঠুভাবে হজ পালনে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারপরও অনেক হজযাত্রী হজ এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে এ বছর হজ পালন করতে পারেননি। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল হাজীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু প্রতারকদের থাবা তাদের জন্য যেভাবে বিড়ম্বনা ডেকে আনছে, তা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আশা করব, এ ধরনের বিচ্যুতির পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার সব কিছু করবে। আল্লাহর মেহমান হিসেবে যারা এ বছর হজ পালন করছেন তাদের অভিনন্দন।


আপনার মন্তব্য