Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১১

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আবাসিক এলাকার বৈশিষ্ট্য রক্ষা পাক

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

রাজধানী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আবাসিক এলাকা। রাজউকের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে ঢাকাকে গড়ে তুলতে যেসব আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হয়েছিল তার সব কটিই এখন পুরো দস্তুর বাণিজ্যিক এলাকার চেহারা ধারণ করেছে। ধানমন্ডি, গুলশান, বানানী, উত্তরা, বারিধারা সর্বত্রই বিরাজ করছে অভিন্ন চিত্র। আশার কথা দেরিতে হলেও এ বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ ব্যাপারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন আবাসিক এলাকার এক হাজার ৬২৫টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকা তৈরির কাজকে চলমান প্রক্রিয়া বলে অভিহিত করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন এ সংখ্যা আরও বাড়বে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আবাসিক এলাকার আসল চেহারা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য মতে, প্রণয়নকৃত তালিকার এক হাজার ৬২৫টি অবৈধ স্থাপনার মধ্যে উত্তরায় ২১৫টি, মিরপুরে ৫৮০টি, গুলশান-বারিধারায় ৫৫২টি, ধানমন্ডি-লালবাগ এলাকায় ১৭৩টি এবং মতিঝিল-খিলগাঁওয়ের ১০৫টি স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনার মালিক রাজউকের লিজশর্ত ভঙ্গ করে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্মর্তব্য, জঙ্গি হামলার শিকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল। নার্সিং হোম করার জন্য ১৯৭৯ সালে এই প্লটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৯৮২ সালে নার্সিং হোমের নির্মাণকাজ শুরুও হয়। নার্সিং হোমের নামে বরাদ্দ করা প্লটের একটি অংশে হলি আর্টিজান বেকারি গড়ে তোলা হয়। অথচ রেস্টুরেন্ট বা বেকারির জন্য কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আবাসিক এলাকা থেকে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদে অভিযান চালানোর পাশাপাশি তালিকাভুক্ত স্থাপনার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। দেশের রাজধানীকে পরিকল্পিতভাবে সাজানোর স্বার্থে এ ব্যাপারে সরকারকে আরও সক্রিয় হতে হবে। রাজধানী ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে হলে সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হতে হবে। এ ব্যাপারে রাজউক যাতে কুম্ভকর্ণের ঘুমে আচ্ছন্ন না থাকে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা দরকার।


আপনার মন্তব্য