Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ মে, ২০১৮ ২৩:২৮

তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই...

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট


তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই...

১৭ মে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নিজ দেশে ফিরে আসার দিন। আজ থেকে ৩৭ বছর আগে ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন একটি স্বপ্নের বাংলাদেশের নির্মাতা হওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে। শেখ হাসিনা ফিরে এসেছেন বলেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যায়িত বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে বিশ্বদরবারে। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে ফিরে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সেদিন শোককে শক্তিতে পরিণত করতে পেরেছিলেন বলেই আজ মাটিতে মেট্রোরেল, সমুদ্রে সাবমেরিন ক্যাবল এবং স্যাটেলাইট মহাকাশের অংশীদার। আজ থেকে ৩৭ বছর আগের কথা। দিনটি ছিল রবিবার। কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়ার বেগ ছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়াও গতিরোধ করতে পারেনি গণতন্ত্রকামী লাখো মানুষের মিছিল। সারা দেশের গ্রামগঞ্জ-শহর, নগর-বন্দর থেকে অধিকারবঞ্চিত মুক্তিপাগল জনতা ছুটে এসেছিল রাজধানী ঢাকায়। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে তাঁর রক্তের উত্তরাধিকার গণতন্ত্রের মানসকন্যা রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনাকে একনজর দেখার জন্য সেদিন কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলানগর পর্যন্ত জনসমুদ্র। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি। সেদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলে দেশে গণজাগরণের ঢেউ জাগে, গুণগত পরিবর্তন সূচিত হয় আন্দোলনের-রাজনীতির, গণসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায় সংগঠনের। দেশবাসী পায় নতুন আলোর দিশা। আলো হাতে আঁধারের কাণ্ডারি হয়ে বঙ্গবন্ধুবিহীন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় ফিরে এসেছিলেন বলেই স্বল্পোন্নয়ন দেশ থেকে আজকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং মহাকাশের গর্বিত অংশীদার আজকের বাংলাদেশ। সবকিছুই সম্ভব হয়েছে সেদিন দেশের মাটিতে পা রেখেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সাহসী উচ্চারণ ‘...আমি সামান্য মেয়ে। সক্রিয় রাজনীতির দূরে থেকে আমি ঘর-সংসার করছিলাম। কিন্তু সবকিছু হারিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করতে চাই। বাংলার দুঃখী মানুষের সেবায় আমি আমার এ জীবন দান করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাঁদের ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই, বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।’ সেদিনই তিনি স্বাধীনতাকামী মানুষকে দেন তাঁর অমোঘ দিকনির্দেশনা— ‘শোককে শক্তিতে পরিণত করুন’। শেখ হাসিনা সেদিন জনগণকে দেওয়া সেই অঙ্গীকার পূরণে ৩৭ বছর ধরে প্রতিনিয়ত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে জনগণের ভাগ্যবদলে নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। সেদিন লাখ লাখ মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধুকন্যা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। স্বল্পোন্নয়ন দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ। পাঁচ কোটি লোক নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছে। আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশ হব। দারিদ্র্য বিমোচনে আপনার সাফল্যকে বিশ্বব্যাংক মডেল হিসেবে সারা বিশ্বে উপস্থাপন করেছে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে স্বাবলম্বী করেছেন। আপনার যুগান্তকারী ঘোষণা, ‘একটি লোকও গৃহহীন থাকবে না’ মানবিক বাংলাদেশের প্রতিধ্বনি। আপনার চিন্তাপ্রসূত গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ক্লিনিক, ডিজিটাল বাংলাদেশ, বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, ‘মায়ের হাসি’ নামে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান ও ২৫ লাখ মাকে মোবাইল ফোন প্রদান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ফান্ড গঠন, কৃষকের জন্য কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান, দশ টাকায় কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, দুস্থ ভাতা প্রদানে উপকারভোগী বাংলাদেশের মানুষ। শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর হয়েছে।  গণতন্ত্রের সংগ্রামে তাঁর লড়াকু সংগ্রামমুখর জীবন এতটাই উদ্ভাসিত হয়ে উঠল যে, মানুষ তাঁর দিকে স্রোতের মতো ছুটেই গেল না, ভালোবেসে তাঁকে কখনো গণতন্ত্রের মানসকন্যা, কখনো বা জননেত্রী বলে দক্ষিণ এশিয়ার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে উচ্চাসনে অভিষিক্ত করল। ২০০৮-এর জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছিল তারুণ্যের একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে যাওয়া। ইতিমধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে ২০২৩ সালের আগেই উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই রূপকল্প বাস্তবায়ন রাজনৈতিক কোনো কথার ফুলঝুরি নয়; আজ তা প্রমাণিত সত্য। আজকে আমরা স্যাটেলাইট মহাকাশের অংশীদার। ডিজিটালের সুফল ভোগ করছে দেশের জনগণ। হাতের মুঠোয় এখন সবকিছু। দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে কোটি কোটি টাকারও বেশি। আমাদের এই স্বপ্ন, বিশ্বাস এবং এতটুকু যে অর্জন তা কেবল শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছেন বলেই সম্ভব হয়েছে।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ।


আপনার মন্তব্য