শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৮

বাড়ির ছাদে ফুলের বাগান

আফতাব চৌধুরী

বাড়ির ছাদে ফুলের বাগান

এ পৃথিবীতে সব জীবেরই ক্ষুধা-তৃষ্ণা বহু রকমের। পেটে ক্ষুধা, মনে ক্ষুধা, প্রাণে ক্ষুধা, আরও অধিক ক্ষুধা চোখে। খাদ্য শুধু পেটের ক্ষুধাই মেটাতে পারে কিন্তু অন্যান্য ক্ষুধা মেটাতে পারে কি?  মনের ক্ষুধা, প্রাণের ক্ষুধা ও চোখের ক্ষুধা কিছুটা মেটাতে পারে রংবেরঙের ফুল। এ বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে গাছে গাছে ফুটে আছে কত নাম জানা ও না জানা সুন্দর সুন্দর ফুল আর ফল। ফুল থেকে ফল হয়, এতে আরও আছে রূপ, রস ও সুগন্ধ। প্রজাপতি ও নানা জাতীয় ভ্রমর সকাল-সন্ধ্যায়, প্রখর রোদে ও নিশীথ রাতে ফুলে ফুলে গুনগুন করে পেটের ও মনের ক্ষুধা মেটায়।

মৌমাছিরা তাদের বাচ্চাদের জন্য ফুলে ফুলে মধু আহরণ করে এবং মানুষের তরে পানীয় জোগায়। ফুল ভালোবাসে না এমন কথাও কখনো কাউকে বলতে শুনিনি। ফুলের বাগান করে মানুষ যতটা আনন্দ পায় ফলের ও অন্যান্য বাগান করে ততটা আনন্দ পায় কিনা সন্দেহ। ফুল-ফুলদানি ঘরবাড়ি সাজায় আরও সাজায় বর-কনের বাসরঘর। উৎসবে ফুল, বিয়েতে ফুল, আবার ফুল দেখা যায় বক্তার সামনে টেবিলের ফুলদানিতে, গোকুলে কানুর বাঁশের বাঁশিতে গোপিনীরা যেমন পাগল হয় তেমন ফুলের রূপ, রস, গন্ধে পাগলপ্রায় হয়ে ওঠে ভ্রমর, মৌমাছি ও প্রেমিক-প্রেমিকারা।

আজ ফুল মানুষের পেটের ক্ষুধাও মেটাতে সক্ষম হয়েছে। ফুল চাষিরা ফুলের চাষ করে তা বাজারে বিক্রি করে পরিবারের ভরণ-পোষণ করেন। তাই তো মানুষ এখন গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সব ঋতুতে ফুল গাছ লাগায়।

গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে মৌসুমি ফুলের সংখ্যা খুব কম নয়। এর একটি অংশকে গ্রীষ্ম ও বর্ষা এ দুই মৌসুমেই চাষ করা যায় এবং অন্য অংশটিকে বর্ষা ও শীত এ দুই সময়ে করা সম্ভব। এ ছাড়া অনেক মৌসুমি ফুল রয়েছে যেগুলো বছরের তিনটি মৌসুমেই চাষ করা চলে। শীতের মৌসুমি ফুলের সংখ্যা প্রচুর, এর থেকে বেশি সুন্দর ফুলের মৌসুমে চাষের সুযোগ হয়ে ওঠে না। অথচ তিনটি মৌসুমেই চাষ করা চলে। তাদের, বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় চাষ করা প্রচলিত। সব মিলিয়ে এ দুই মৌসুমে চাষ করার মতো মৌসুমি ফুলের যে সংখ্যা দাঁড়ায় তা মোটেই নগণ্য নয়। তবু এ কথা স্বীকার করতেই হবে, শীতের তুলনায় এ দুটি ঋতুর মৌসুুম ফুলের বাগান সত্যিই হীনপ্রভ। শুধু গ্রীষ্মকালেই চাষ করার নিয়ম এ রকম মৌসুমি ফুল খুঁজে পাওয়া ভার এবং শুধু বর্ষার মৌসুমেই করা চলে এ রকম গাছও বোধহয় মাত্র একটি, নাম কচিয়া। অন্য সব দুটি মৌসুমে বা তিনটি মৌসুমেই চাষ করা সম্ভব। গ্রীষ্মে করা প্রচলিত কিন্তু বর্ষায়ও করা চলে এ রকম মৌসুমি ফুল কক্সকোস্ব, ভারবিনা এরিয়াডিস ও সিলোশিয়া গ্রীষ্মে চাষ করা হয় কিন্তু শীতেও চাষ করা চলে এ রকম মৌসুমি ফুল আর্কটোটিস, ক্যাকেলিয়া ও একিয়ংম। বর্ষাকালে চাষ করা প্রচলিত কিন্তু শীতেও করা চলে সহজেই এ রকম ফুল টিথোনিয়া, টোরেনিয়া, দোপাটি বা বলসাম, লাভ লাইজ ব্লিডিং বাহারি পাতার এমারানথাস লতানো মৌসুমি ফুলের গাছ মিনালোবাটা। গ্রীষ্ম ও বর্ষাতেই এদের চাষ বেশি। কিন্তু শীতের মৌসুমে করাও সহজে সম্ভব এ রকম ফুল করিয়পসিস, কসমস, ক্লিওম, গাঁদা বা মেরিগোল্ড, গিলার্ডিয়া, গ্লোব আমরাস্থ, জিনিয়া, ট্রার্গেটিই, নিকোটিয়ানা, পরচুল্যাকা, পিটুনিয়া বেডিং স্ট্রেইন, সূর্যমুখী বা সানফ্লাওয়ার, সিলভিয়ার দুটি প্রজাতি, হাইমেনাথেরাম, বাহারি পাতার কোলিয়াস ও লতানো ফুল গাছ ইপোমিয়ার ঔষধি প্রজাতিগুলো।

গ্রীষ্মকালে যেসব মৌসুমি ফুলের চাষ হয় তার মধ্যে একিয়াম, সিলোশিয়া, সূর্যমুখী ও সিলভিয়া ককসিনিয়ার বেশি জনপ্রিয়। এ সময়ে কেকেলিয়া, পরচুল্যাকা ও ভারবিনা, এনিনয়াডিস, আর্কটোটিস, গিলাউয়া, গ্লোব আমারাস্থ ও পিটুনিয়া, কক্সকোস্ব, করিয়পসিস, কসমস, গাঁদা, জিনিয়া, নিকোটিয়ানা, সূর্যমুখী, সিলবিয়া, ককসিনিয়া বেশি জনপ্রিয়। এ তালিকায় প্রথম পাঁচটি উচ্চতায় ছোট, এতই ছোট যে কেয়ারিতে বিভিন্ন উচ্চতর মৌসুমি ফুল গাছ লাগালে এগুলো সব সময় সামনের জায়গা দখল করে।

তালিকার ষষ্ঠ থেকে নবমটি উচ্চতায় মাঝারি এবং পরের সব কটি উচ্চতায় আরও বড়। করিয়পসিস, কসমস, গাঁদা ও জিনিয়ার স্বল্প উচ্চতার ও মাঝারি উচ্চতারও প্রজাতি রয়েছে এবং কক্সকোস্ব, পিটুনিয়া ও সিলোশিয়ার স্বল্প উচ্চতারও প্রজাতি রয়েছে।

আমরা ইচ্ছা করলেই এবং একটু যত্নবান হলেই বসতবাড়ির ছাদে ও বাড়ির আঙিনায় একটা ছোট্ট বাগান করতে পারি, সেখানে ফুল ফুটবে আর আমাদের দেবে আনন্দ, মনকে রাখবে সতেজ, সমৃদ্ধ। প্রস্ফুটিত এ ফুলের বাগান দেখে পাড়া-পড়শিরাও এগিয়ে আসবে, রচিত হবে সুন্দর পরিবেশ।

সাংবাদিক-কলামিস্ট


আপনার মন্তব্য