শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৯

আল কোরআনের মর্যাদা অপরিসীম

মুফতি এহছানুল হক মোজাদ্দেদী

আল কোরআনের মর্যাদা অপরিসীম

পৃথিবীতে একমাত্র সন্দেহমুক্ত আসমানি কিতাব আল কোরআন। পবিত্র এ গ্রন্থ প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাজিল হয়েছে রমজান মাসে। কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে যা মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নির্দেশনাবলি ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।’ সূরা বাকারা : ১৮৫।

আল কোরআন বোঝার জন্য বুদ্ধিমত্তার চেয়ে কলবের পরিশুদ্ধতার প্রয়োজন বেশি। কেননা, কোরআন নাজিল করা হয়েছে কলবের ওপর। আল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই এ কোরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাজিলকৃত। বিশ্বস্ত ফেরেশতা জিবরাইল আলাইহিস সালাম এটা নিয়ে অবতরণ করেছে তোমার নুরানি কলবে (হৃদয়ে); যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’ সূরা আশ শুয়ারা : ১৯২।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার পক্ষ থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ এ কিতাব, যা তাঁর ওপর দীর্ঘ ২৩ বছরে নাজিল হয়েছে। এ কিতাবটির নাম, নাজিলের ভাষা, বিষয়বস্তু সবকিছুই অভিনব ও মুজিজাপূর্ণ। কোরআন শব্দটি ‘কারউন’ শব্দ থেকে নিষ্পন্ন হয়েছে। এর ধাতুগত অর্থ দুটি। ১. জমা করা। এর তাৎপর্য হলো এ কিতাবের মধ্যে অতীতের সব আসমানি কিতাবের মূল শিক্ষা একত্রিত হয়েছে। এর মধ্যেই পৃথিবীর প্রলয় দিন অবধি মানবজাতির প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও হিদায়াত সন্নিবেশিত হয়েছে। আল মুফরাদাতু ফি গারিবিল কোরআন, পৃষ্ঠা ৪১১। ২. বার বার পাঠ করা বা পঠিত গ্রন্থ। এ কিতাবটি কোটি কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত অধ্যয়ন করছে। পাঠ করছে। এত অধিক পঠিত কিতাব দুনিয়ায় আর একটিও নেই। আল ইতকান ফি উলুমিল কোরআন, প্রথম খ-, পৃষ্ঠা  ৫১।

আল কোরআন হলো মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মাঝে ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কোরআন শেখে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ বুখারি, তিরমিজি। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর বাণী। আর সর্বশ্রেষ্ঠ পথ হলো আমার দেখানো পথ।’ বুখারি, মুসলিম।

কোরআনের একটি হরফ পাঠ করলে ১০টি নেকি লাভ করা যায়। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করল, এতে সে ১০টি নেকির অধিকারী। তিনি আরও বলেন, আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মিম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ ও মিম একটি হরফ। তিরমিজি।

লেখক : মুফাসসিরে কোরআন বেতার ও টিভির ইসলামবিষয়ক উপস্থাপক; খতিব, মণিপুর বাইতুর রওশন (মাইকওয়ালা) জামে মসজিদ, মিরপুর, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য