শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:১৯

স্মরণ

জননেতা ফজলুল হক বিএসসি

সিতারা হাসিন চৌধুরী সোমা

জননেতা ফজলুল হক বিএসসি

আজ ১৬ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সহচর জননন্দিত প্রবীণ নেতা সৈয়দ ফজলুল হক বিএসসির ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী। দেখতে দেখতে দুই দশক পার হয়ে গেল। তাঁর প্রতি নিবেদন করছি আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। মরহুম সৈয়দ ফজলুল হক বিএসসি ১ নভেম্বর, ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তিনি যখন মাত্র ক্লাস ফাইভে পড়েন, তখন তাঁর পিতা সৈয়দ আহমেদ পরলোকগত হন। বাল্যকাল থেকেই সৈয়দ ফজলুল হক ছিলেন দৃঢ়চেতা, সাহসী, মেধাবী। সংসারে বিধবা মা, ভাই-বোনদের সঙ্গী করে জীবন-যুদ্ধে পদার্পণ করেন। প্রথম দিকে তিনি জায়গির থেকে মনের ভিতর সাহস ও একাগ্রতা নিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যান। চিটাগাং কলেজ থেকে ইন্টার-মিডিয়েট পরীক্ষা কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে, ’৪৮ সালে ঢাকায় আসেন। তাঁর সমগ্র শিক্ষাজীবন ছিল খুবই কৃতিত্বপূর্ণ।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সিক্ত। তিনি আগাগোড়া ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ ছিলেন। সক্রিয় ছিলেন ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনে। সান্নিধ্যে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুও তাঁকে বিএসসি বলে ডাকতেন। বহুবার একসঙ্গে জেল খেটেছেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজ হাতে লিখিত দিনলিপিতে তা লিখেছিলেন। (বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী : পৃষ্ঠা ১৬৮, ১৭৬)। রাজনীতিতে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি পরপর দুবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার কারণে প্রথমবারের মতো কারাগারে অন্তরিন হয়েছিলেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানে বিএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তবে তাঁকে মুচলেকা দিতে হয়েছিলÑ পাস করার পর বিশ্ববিদ্যালয়মুখী হওয়া যাবে না। ’৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে গণপরিষদ ও জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর জনপ্রিয়তার কথা প্রখ্যাত লেখক ইমেরিটাস কিউরি, জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান তাঁর বই ‘কালনিরবধি’তে উল্লেখ করেছেন সাবলীলভাবে। (কালনিরবধি : পৃষ্ঠা ৪৮৭)। প্রয়াত নেতা সৈয়দ ফজলুল হক বিএসসি সবার কাছে সৎ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহচর, সমাজহিতৈষী, বিদ্বান হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন বিদ্যানুরাগী। প্রায়ই তিনি আমাকে বলতেন, ‘সোমা! ডিকশনারিটা আনো তো, শব্দটা খুঁজে বের কর।’ অথচ কখনো এক কাপ চায়ের কথা বলেননি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বউদ্যোগে তাঁকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তাঁর অনুপস্থিতি হৃদয় দিয়ে অনুভব করি। আমার সৌভাগ্য আমি এমনই একজন মহান ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভ করেছিলাম। আজ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এই মহান নেতার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

লেখক : মরহুমের পুত্রবধূ।


আপনার মন্তব্য