শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০১৯ ২৩:১৭

মানসিক অবসাদ

আফতাব চৌধুরী

মানসিক অবসাদ

ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ এমন একটি মানসিক রোগ, যা দিনের পর দিন মানুষের মনকে কুরে কুরে ফেলে। শেষমেশ মানুষটির মধ্যে দেখা দেয় আত্মহত্যার মতো ভয়ঙ্কর প্রবণতা। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় সতর্কবার্তা হলো নতুন শতাব্দীতে চারটি রোগ সারা বিশ্বের মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলবে। এ রোগগুলো হলো-কার্ডিয়াক ডিজিজ, ক্যান্সার, রিউমেটিক এবং ডিপ্রেশন। চার নম্বরে থাকা এ ডিপ্রেশন নামক মনোরোগটি অন্যান্য রোগগুলোকে পিছনে ফেলে আগামী কুড়ি বছরের মধ্যে এক নম্বরে উঠে আসবে বলে অনুমান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার।

ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ কখনো একাকিত্বের সঙ্গে সমার্থক নয়। একাকিত্ব একটি মানসিক অবস্থান, ভাবনা বা চিন্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটা আবেগ তবে সব সময় সেটা বিমর্ষতার আবেগ হবে এমন কোনো কথা নয়।         অন্তর্মুখী এমন অনেক সৃষ্টিশীল মানুষ আছেন যারা একাকিত্ব ভালোবাসেন আবার এমন অনেক মহিলা-পুরুষ আছেন যারা নিজের কাজ নিয়েই সদাব্যস্ত, অপরের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্থাপনে অনিচ্ছুক। তাদের কাছে একাকিত্ব চরম উপভোগের। অন্যদিকে বহির্মুখী মানুষ যারা হৈচৈ করতে ভালোবাসেন তাদের মনে একাকিত্ব বিমর্ষতা ডেকে আনে। কোনো বন্ধু বিচ্ছেদ বা প্রিয়জনের মৃত্যু তাদের এতটাই বিমর্ষ করে তুলতে পারে যে সে জাল কেটে তারা আর বেরিয়ে আসতে পারে না। ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে পড়েন তারা। বিমর্ষতা কাটানোর জন্য পাঁচজনের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে এতে অনেক সময় দেখা যায় তাদের বিমর্ষতা যা ক্রমশ বেড়ে যায়, কমে না। নির্দিষ্ট কতগুলো উপসর্গ দেখে বোঝা যায়, কোনো মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগছে কিনা। যেমন তারা এতটা নিজের খেয়ালে ডুবে যায় যে কেউ কোনো কথা জিজ্ঞেস করলে অন্য কথা বলে কিংবা মনে মনে হাসে ইত্যাদি। ডিপ্রেশনে মানুষ নিজেকে নিজের কাছে গুটিয়ে নেয় এবং নিজস্ব একটা পরিম-ল রচনা করে। যদি সাধারণ মানুষের বাইরে থাকাটা ডিপ্রেশনের একমাত্র মাপকাঠি নয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে পুরুষদের চেয়ে মহিলারা ডিপ্রেশনে ভোগেন বেশি। বিশেষ করে চল্লিশের পর থেকে এ মহিলাদের মেনোপোজ হয় ফলে হরমোনাল কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে মহিলারা যারা বয়সকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেন না, খিটখিটে হয়ে যান, সব বিষয় সম্পর্কে অনাগ্রহ দেখিয়ে থাকেন কিংবা আগের বিনোদনগুলোকে উপভোগ করতে পারেন না, তারা বেশিরভাগ এ ডিপ্রেশনের শিকার বলে ধরা হয়। অনেক সময় এ বয়সের মহিলাদের স্বামীরা কর্মসূত্রে অত্যধিক ব্যস্ত থাকায় এবং সন্তান বড় হয়ে যাওয়াতে সন্তানকে আঁকড়ে ধরার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয় না বলে ডিপ্রেশন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে মহিলাটির প্রতি বিশেষ সহানুভূতিশীল হয়ে স্বামী, সন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য লোকজনের মহিলার পাশে দাঁড়ানো উচিত এবং তাকে যথাযথ সঙ্গ দেওয়া জরুরি। বাঁচানোর উপায় হলো মহিলাটি আগে যেসব বিষয় ভালোবাসতেন, সেসবে ন্যাক ছিল গানবাজনা ও লেখালেখি এসবে নতুন করে আগ্রহ জন্মাতে সাহায্য করা, পুরনো হবি বা শখগুলোকে ফিরিয়ে আনা ইত্যাদি। সুতরাং যোগাসন বা মেডিটেশন যাই করা হোক না কেন মনকে শান্ত করে সমর্পণ করতে হবে নিজের কাছে। নিজেকে সৎ কাজে ব্যস্ত রাখতে পারলে ডিপ্রেশনের মতো মানসিক রোগের হাত থেকে অব্যাহতি সহজেই পাওয়া যায়।

লেখক : কলামিস্ট।


আপনার মন্তব্য