শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৪০

বোন শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

বোন শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন

আশায় থাকি ভালো কিছু শুনব, ভালো কিছু দেখব, ভালো কিছু বলব। সে আশা এখন আর পূরণ হয় না। শত চেষ্টায়ও আর ভালোর নাগাল পাই না। ১৯৭৭ থেকে ’৮০ আমার পাটনায় বেশ যাতায়াত ছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পর বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা পাটনায় যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। ১৯৭৭ সালে আমি পেরেছিলাম। তাই হয়তো এখনো বেঁচে আছি। পাটনার কদমকুয়ায় সর্বোদয় নেতা শ্রী জয়প্রকাশ নারায়ণের সঙ্গে জানাশোনা হলে প্রায় সময়ই পাটনার বিশাল গান্ধী ফাউন্ডেশনের অতিথিশালায় থাকতাম। সে এক দেখার মতো জায়গা। ৮-১০ একরজুড়ে গান্ধী পিস ফাউন্ডেশনে বাগান, মাঠ, অফিস আরও কত কি। এক জায়গায় পাশাপাশি তিনটা হনুমান অথবা বানরের চমৎকার মূর্তি। একটা মুখ বন্ধ, অন্যটা কান, সর্বশেষ দুই হাতে চোখ বন্ধ করে আছে। বুড়া মাত বলো, বুড়া মাত শুনো, বুড়া মাত দেখো- মানে খারাপ বোলো না, খারাপ শুনো না, খারাপ দেখো না। মহাত্মা গান্ধীর জীবনের ব্রত কত আশা করি ভালো দেখব, ভালো শুনব। কিন্তু এখন আর ভালো দেখিও না, ভালো শুনিও না। কেমন যেন অন্ধকারে আটকে হা-হুতাশ করি। মুক্তির পথ নেই। আমরা যখন করটিয়া কলেজে পড়তাম তখন করটিয়ার আশপাশের লোকজন তেমন ভালো ছিল না। অনেকেই লোক ঠকিয়ে খেতো। কিন্তু করটিয়া কলেজের কয়েক শ একর আঙিনা ছিল মক্কা-মদিনার মতো পবিত্র। কলেজে যাওয়ার সাত-আট বছর আগ থেকেই করটিয়া কলেজ সম্পর্কে জানতাম। দূর থেকে দেখতাম আর ভাবতাম কবে কলেজে যাব। বাংলাদেশের যত পকেটমার তার অর্ধেক বৃহস্পতিবার করটিয়া হাটে জড়ো হতো। তার পরও কলেজ আঙিনা ছিল চোরচোট্টা-বাটপাড়-নেশাখোরমুক্ত। কলেজে যাওয়ার আগে কোনো দিন শুনিনি কোনো ছাত্র কারও টাকা মেরেছে, হোস্টেলে কোনো মেয়ের সম্মান নষ্ট হয়েছে। শিক্ষকের কাছে ছাত্ররা ছিল সন্তানের মতো। মূল কলেজ ভবনের দক্ষিণে ছাত্রী হোস্টেল, পুব-পশ্চিমে ছাত্র হোস্টেল। পুবে মুসলিম, পশ্চিমে হিন্দু। কোনো দিন কোনো রেষারেষি ঠুকোঠুকি ছিল না। মেয়েরা চলাফেরা করত বাগানে ফোটা ফুলের মতো। কেউ তার বোঁটা ছিঁড়তে যেত না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রাণকেন্দ্র আইয়ুব-মোনায়েমবিরোধী আন্দোলনের পীঠস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় ঢুকলেই মনে হতো আর ভয় নেই। জোর-জুলুম, অত্যাচারমুক্ত এলাকা। ছাত্ররা ছিল তখন মানুষের বন্ধু। আমরা যখন কোনো অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতাম তখন আমাদেরও মনে হতো যেন মায়ের কোলে এসেছি। দলাদলি ছিল ছাত্রলীগ-ছাত্র ইউনিয়ন-মোনায়েম খানের ছাত্র ফেডারেশন আর ইসলামী ছাত্রসংঘ বা ছাত্রশিবির। কিন্তু তেমন কোনো খুনাখুনি ছিল না। কোনো দলের নেতা-কর্মীদের এখনকার মতো স্খলন ছিল না। কিছুটা চরিত্রহীন দুর্বল স্বভাবের গুন্ডাপান্ডা ছিল ছাত্র ফেডারেশনে। কিন্তু তারা সাধারণ ছাত্রদের সামনে দাঁড়াতে পারত না। সেসব সোনার দিনগুলো কোথায় যে হারিয়ে গেল! সে ছিল পাকিস্তানের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর একটা চিত্র। কিন্তু আজ তো আমরা স্বাধীন। কি দুর্ভাগ্য, কি লজ্জার! যে ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ করে আমি গর্ববোধ করতাম, ছাত্রলীগ না করলে হয়তো বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেতাম না, বঙ্গবন্ধুকে না পেলে আমার আজকের জীবন হতো না। আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী ছাত্রলীগ করতেন বলে না বুঝেই আমি ছাত্রলীগ করতাম। ’৬৩ সালে ছাত্রনেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শেখ ফজলুল হক মণি, ফেরদৌস আহমদ কোরেশী আরও অনেকে টাঙ্গাইল মহকুমা ছাত্রলীগকে জেলার মর্যাদা দিয়েছিলেন। শওকত আলী তালুকদার সভাপতি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সাধারণ সম্পাদক। রওশন টকিজে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়েছিল। আমি মাঝের দিকে বসেছিলাম। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের বক্তৃতা অতুলনীয়। সবাই ভালো বক্তা ছিলেন। কিন্তু শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন তুলনাহীন। সম্মেলন শেষে নেতারা আমাদের আকুরটাকুরপাড়ার সিদ্দিকী কটেজে খেয়েছিলেন। তারপর টাঙ্গাইল পুলিশ প্যারেড ময়দানে জনসভা। এখন আর সেই বিশাল পুলিশ প্যারেড ময়দান নেই। একদিকে নজরুল সেনা স্কুল, অন্যদিকে পৌর উদ্যান। পৌর উদ্যানের উত্তরে টেলিফোন ভবন। সব ঢেকে গেছে। টাঙ্গাইলে এখন আর তেমন ফাঁকা নেই। আমরা চলে যাওয়ার পর কী হবে তা স্রষ্টাই জানেন। সেই সম্মেলন এবং জনসভার পর আমাদের পরিবারের পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল। আমি ছিলাম সব থেকে গবেট। পড়তে পারতাম না, লিখতে পারতাম না। শুধু খেলা আর খেলা। সকালে ছোটাছুটি, বিকালে ফুটবল-ভলি-ক্রিকেট আর গরু চরানো- এ ছিল আমার জীবন। প্রতিদিন জোর করে পড়াতে বসিয়ে সে যে কি মার-ই না মারত। ছোট্ট বয়সে সহ্যের বার হয়ে গিয়েছিল। বাড়ি থেকে পালিয়েছি ছয়বার। কিন্তু তেমন কিছু করতে পারিনি। পুলিশের কাছ থেকে চোরেরও তবু রক্ষা আছে। কিন্তু বড় ভাই আর বাবার হাত থেকে আমার রক্ষা ছিল না। কী করে যে তারা জেনে ফেলতেন আমি কোথায় আছি। এক-দুই-তিন মাসের মধ্যেই আসামি ধরার মতো কান ধরে নিয়ে আসতেন। এভাবেই ’৬৫ সাল পর্যন্ত চালিয়ে ছিলাম। তারপর হঠাৎই কীভাবে যেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে গিয়েছিলাম। দুই বছর আট মাসের মতো সেখানে ছিলাম। তারপর আবার ঘরে ফিরে প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে ম্যাট্রিক পাস করে করটিয়া কলেজে ভর্তি হই। দিনগুলো মোটামুটি ভালোই চলছিল। বাবা এবং বড় ভাইয়ের কোনো শাসন ছিল না। মজার ব্যাপার আমি ম্যাট্রিক পাস করার পর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কেউ কথা বলত না। মারপিট তো দূরের কথা, কোনো ব্যাপারে কেউ জোরে কথা বলত না। কলেজে গিয়ে দেখলাম, স্কুলের মতো কোনো খিটিমিটি নেই, কোনো শাসন-ত্রাসন নেই; সে এক চমৎকার পরিবেশ। বেশ আনন্দে লেখাপড়ায় আকৃষ্ট হয়েছিলাম। কিন্তু ইয়াহিয়া খান শান্তিতে থাকতে দেননি। আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিলেন। সেখানেও পিছপা হইনি। আমাদের চরিত্র ও সততা ছিল বলে আমরা জয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু আজ বড় দুঃখ লাগে আমরা চরিত্র হারিয়ে ফেলেছি, নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছি। একটা সমাজে মেয়েরা যদি নির্বিবাদে চলতে না পারে, তাদের বিকাশ ঘটাতে না পারে তাহলে সে সমাজের অর্ধেক তো আপনাআপনিই হারিয়ে গেল, পিছিয়ে পড়ল। আর শিক্ষাঙ্গন হওয়া উচিত পূত-পবিত্র মসজিদ-মন্দিরের মতো। কিন্তু আমি কখনো ছাত্রলীগের সদস্য ছিলাম এ কথা বলতে এখন আর উৎসাহবোধ করি না, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অহংকার করতে পারি না। কী করে বলি, সিলেটের এমসি কলেজ, যার কত অবদান। কত ছাত্র এমসি কলেজ থেকে বেরিয়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধেও বিপুল ভূমিকা রেখেছে। হজরত শাহজালাল, শাহ পরান (রহ.)-এর পরানের সিলেট এমসি কলেজ বন্ধের সময় ছাত্র হোস্টেলে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষিত হয়- এটা ভাবতেই কেমন লাগে। আমাদের দেশে একটি মেয়ে যখন বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয় তখন তাকে শতভাগ নিরাপদ মনে করা হয়। স্বামীর সঙ্গে কোনো মেয়ে যখন বেড়াতে যায় তখন সে নিগৃহীত হবে সভ্য সমাজে এটা ভাবা যায়? কিন্তু বাস্তবে তাই হয়েছে। শুনলাম মূল হোতা সাইফুর ও অর্জুন গ্রেফতার হয়েছে। কী হবে, না হয় তাদের ফাঁসি হবে। কিন্তু যদি মনুষ্যত্ব, জীবনবোধ এভাবে হারিয়ে যায় তাহলে এসব ঘৃণিত কিটদের জেল-ফাঁসি দিয়ে কী হবে? কেন যে আমরা মানবিক মূল্যবোধে সবার শ্রেষ্ঠ বাঙালি এভাবে মানবতায় দরিদ্র হয়ে গেলাম! একে তো করোনা, তার ওপর এমন অকল্পনীয় অমানবিক কর্মকান্ডে কেমন যেন দিশাহারা হয়ে পড়েছি। সেদিন সাভারে প্রেমের টানে নীলা রায় নামের এক মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে মিজান নামের এক লম্পট। কিন্তু পুলিশ তার মা-বাবাকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি শুনে খুবই বিরক্ত হয়েছি। বাবা-মায়ের অপরাধে যেমন সন্তান অপরাধী নয়, তেমনি সন্তানের অপরাধে কোনোকালেই বাবা-মা অপরাধী নন। অথচ বাহাদুরি দেখিয়ে পুলিশ তার মা-বাবাকে গ্রেফতার করেছে। এমন যদি আইন-প্রশাসন হয় তাহলে মানুষের জীবন, মান-সম্মানের নিরাপত্তা কোথায়? আজ এক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের প্রবাসীরা টিকিটের জন্য সে যে কি উৎকণ্ঠায় দিন-রাত রাস্তায় কাটাচ্ছে। কিন্তু বিমানের ব্যবস্থা নেই- এ কেমন সমাজে বাস করি! কদিন থেকে শুনছি, দুই যুগ আগে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিতে হবে। মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশ পাসপোর্ট দেবে কী করে? আমি ১৬ বছর নির্বাসনে ছিলাম। ইংল্যান্ড ও জার্মানি সফরে ভারত আমাকে পাসপোর্ট দিতে পারেনি। দিয়েছিল ট্রাভেল ডকুমেন্ট। আন্তর্জাতিক উদ্বাস্তু আইনে ট্রাভেল ডকুমেন্ট কূটনৈতিক পাসপোর্টের চেয়েও মূল্যবান। কোনো ডকুমেন্টের প্রয়োজন হলে সৌদি আরবে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের তা দিতে হবে কেন? যখন তখন সৌদি আরবই ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিতে পারে। শুনছি আমাদের ২২-২৫ লাখ যে বাঙালি সৌদি আরবে আছে কথা না শুনলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এটা সত্য, অনেক বাঙালি সৌদি আরবে কাজ করে। সৌদি আরব কিন্তু তাদের দয়া করে রাখেনি। শুষ্ক মরুভূমি যেখানে একটা গাছের পাতা পাওয়া যেত না সেই মরুভূমির অনেক জায়গা আজ মরূদ্যানে পরিণত হয়েছে সে শুধু বাঙালির কল্যাণে। তাই ইচ্ছা করলেই কেউ যা খুশি তা করতে পারে না।

আজ প্রায় এক যুগ বাংলাদেশ প্রতিদিনে মঙ্গলবারে আমার লেখা ছাপা হয়। কমবেশি পাঠকও আছে। তারা অনেকেই লেখাটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন। রবিবারে লেখা তৈরি করে সোমবার চোখ বুলিয়ে পত্রিকায় পাঠিয়ে দিই। এবারও তাই করেছিলাম। ভেবেছিলাম, সোমবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোন শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর শান্তিময় দীর্ঘজীবন কামনা করে লেখাটি পাঠিয়ে দেব। কিন্তু হঠাৎ বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলমের মহাপ্রয়াণে দারুণ মর্মাহত হয়েছি। জনাব মাহবুবে আলমের সঙ্গে আমার খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা ছিল না। তিনি আমাকে জানতেন, আমিও তাঁকে চিনতাম। একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্তু লারমা আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারের প্রস্তাব করায় তাঁর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আমার গভীর সন্দেহ জেগেছিল। বিরক্তও ছিলাম প্রচুর। আমার বাবা একজন প্রসিদ্ধ আইনবিদ হলেও কোর্ট-কাচারিতে যাওয়ার অভ্যেস নেই। খুব একটা যাইও না। ’৯০-এ দেশে ফেরার আগে হাই কোর্ট সুপ্রিম কোর্টে খুব একটা যাইনি। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠনের পর নির্বাচনী মামলা নিয়ে বেশ কয়েকবার হাই কোর্ট সুপ্রিম কোর্টে গেছি। কালিহাতী উপনির্বাচনের মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে কোর্টে যুক্তিতর্কে প্রথম দেখি। খুব একটা সাবলীলতা ছিল না। অযৌক্তিক সব কথাবার্তা। বিচারকরা তাঁকে অনেক প্রশ্নবাণে নাজেহালও করছিলেন। তার পরও খোঁড়া যুক্তি দিয়ে সময় চেয়ে এটাওটা করে আইনের বাইরে সরকারের স্বার্থ দেখার চেষ্টা করছিলেন। একদিন হঠাৎ কোর্টের বারান্দায় তাঁর সঙ্গে দেখা। কেমন আছি এটাওটা জিজ্ঞেস করে দুই হাতে আমার হাত চেপে ধরেছিলেন। সাধারণত অমন আন্তরিকভাবে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ, অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুল হক আমার হাত চেপে ধরতেন। আমিও মাহবুবে আলমকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেমন আছেন? তিনি বলেছিলেন, ‘এমনিতে ভালোই আছি। সব সময় খুব একটা স্বস্তি পাই না। হাসিমুখে আপনার সঙ্গে কথা বলতে পেরে ভালো লাগল, স্বস্তি পেলাম। আপনার মূল্যায়ন আপনার সম্মান আমরা দিতে পারিনি। এত কিছুর পর আপনি যে আমার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছেন এজন্যই আপনি বঙ্গবীর, বাঘা সিদ্দিকী। এজন্যই আপনাকে আমরা অন্য চোখে গভীর সম্মানের সঙ্গে দেখি।’ মাহবুবে আলমের মৃত্যু সংবাদে তাঁর সেদিনের সে কথা বারবার মনে পড়ছে। দোষেগুণে মানুষ। আমাদের সবার দোষ আছে। তার পরও আল্লাহ ক্ষমতাবান, দয়াশীল। আল্লাহ তাঁকে মাফ করুন, বেহেশতবাসী করুন।

লেখক : রাজনীতিক।

www.ksjleague.com


আপনার মন্তব্য