শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৮

আল্লাহর কাছে বান্দার দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম

আবদুর রশিদ

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দোয়া ইবাদত। অদৃশ্যের যাবতীয় জ্ঞানভা-ারের মালিকের কাছে দোয়ার মর্যাদা অতি ঊর্ধ্বে। বর্ণিত আছে, আখেরি নবীর উম্মতকে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা আগেকার নবীদের দেওয়া হলেও তাদের উম্মতদের দেওয়া হয়নি। মহান আল্লাহ যখন কোনো নবী পাঠাতেন তখন তাকে বলতেন, ‘তুমি আমাকে ডাকো, আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব, আর এ উম্মতকে বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো (দোয়া কর) আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ সুরা গাফের আয়াত ৬০। আর আগের নবীর জন্য তাঁর দীনে কোনো জটিলতা রাখেননি, কিন্তু এ উম্মতের সবারই জন্য তাদের দীনে কোনোরূপ সংকীর্ণতা রাখেননি। আগের নবীকে তাঁর জাতির জন্য সাক্ষী হিসেবে নির্ণয় করেছেন, পক্ষান্তরে এ উম্মতকে সমগ্র মানব জাতির জন্য সাক্ষী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ চান বান্দা সব সময় তাঁর কাছে দোয়া করুক। দোয়ার প্রতি তাই আমাদের বেশি বেশি যত্নবান হতে হবে। ইবরাহিম ইবনে আদহামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আমাদের কী হলো আমরা দোয়া করি অথচ তা কবুল হয় না? উত্তরে তিনি বিশেষ কতগুলো কারণ উল্লেখ করেন যেমন তোমরা আল্লাহর পরিচয় লাভ করছে অথচ তাঁর বশ্যতা স্বীকার করনি। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিচয় লাভ করেছ অথচ তাঁর সুন্নাতের ইত্তেবা করনি। কোরআনের পরিচয় লাভ করেছ অথচ সে অনুযায়ী আমল করনি। আল্লাহর নিয়ামত ভক্ষণ করছ অথচ তাঁর শুকরিয়া আদায় করছ না। জান্নাতের পরিচয় পেয়েছ অথচ তার তলব করনি। আগুনের (জাহান্নাম) পরিচয় লাভ করছে অথচ তা থেকে পলায়ন করনি। শয়তানের পরিচয় লাভ করেছ অথচ তার সঙ্গে লড়াই করনি বরং তার আনুগত্য করেছ। মৃত্যু সম্পর্কে জেনেছ অথচ এর জন্য কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ করনি। মৃতকে দাফন করেছ অথচ এ থেকে কোনো শিক্ষা অর্জন করনি এবং নিজের অপরাধের কথা ভুলে পরচর্চায় লিপ্ত হয়েছ। এসব কিছু দোয়া করতে বাধা প্রদান করেনি। আমরা হেদায়াত ও আত্মশুদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। সবচেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি ইবলিশের দোয়াও আল্লাহ কবুল করেছেন, ‘সে বলল, হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ বললেন তোমাকে অবকাশ দেওয়া হলো।’ সুরা সোয়াদ  আয়াত ৭৯-৮০।

কোনো মানুষই আল্লাহর কাছে শয়তানের মতো অবাঞ্ছিত নয়। মানুষ আল্লাহর কাছে তার অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইলে এবং হেদায়াতের জন্য সহায়তা কামনা করলে আল্লাহ অবশ্যই তার প্রতি রহম হবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দোয়া করার তৌফিক দান করুন।

 

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য