শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০২১ ২৩:৩৭

আল কোরআনের মর্যাদা

মুফতি মুহাম্মদ এহছানুল হক মুজাদ্দেদী

আল কোরআনের মর্যাদা
Google News

করোনাভাইরাসের এ মহামারীতে আল কোরআনের তিলাওয়াত, অর্থ বোঝা, তাফসির পড়ায় মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। পৃথিবীতে একমাত্র সন্দেহমুক্ত আসমানি কিতাব হলো আল কোরআন। এ কোরআন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে রমজানে। কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে যা মানুষের জন্য হেদায়াতস্বরূপ এবং হেদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৫।

কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই এ কোরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাজিলকৃত। বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাইল আলাইহিস সালাম) এটা নিয়ে অবতরণ করেছেন তোমার নুরানি কলবে (হৃদয়ে) যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’ সুরা আশ শুয়ারা, আয়াত ১৯২। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ এ কিতাব কোরআনুল কারিম। যা তাঁর ওপর দীর্ঘ ২৩ বছরে নাজিল হয়েছে। এ কিতাবটির নাম, নাজিলের ভাষা, বিষয়বস্তু সবই অভিনব ও মোজেজাপূর্ণ। কোরআন (কারউন) শব্দ থেকে নিষ্পন্ন হয়েছে। এর ধাতুগত অর্থ দুটি। ১. জমা করা। এর তাৎপর্য হলো এ কিতাবের মধ্যে অতীতের সব আসমানি কিতাবের মূল শিক্ষা একত্রিত হয়েছে। এর মধ্যেই পৃথিবীর প্রলয় দিন অবধি মানব জাতির প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও হেদায়াত সন্নিবেশিত হয়েছে (উলুমুল কোরআন)। ২. বারবার পাঠ করা। এ কিতাবটি কোটি কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত অধ্যয়ন করছে। এত অধিক পঠিত কিতাব দুনিয়ায় আর একটিও নেই (আল ইতকান)। এখন আমরা কোরআনের সুমহান মর্যাদা সম্পর্কে জানব ইনশা আল্লাহ। কোরআন হলো মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কোরআন শেখে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ বুখারি। রসুল (সা.) বলেছেন, সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর বাণী। আর সর্বশ্রেষ্ঠ পথ হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর দেখানো নুরানি পথ। মুসনাদে আহমাদ।

হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করল এতে সে ১০টি নেকির অধিকারী। (তিনি আরও বলেন,) আমি বলছি না যে আলিফ-লাম-মিম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ।’ তিরমিজি। হজরত ওসমান (রা.) তিন দিনে এক খতম কোরআন পড়তেন। ইমাম বুখারিও তিন দিনে এক খতম কোরআন পড়তেন বলে জীবনীকাররা উল্লেখ করেছেন। আমাদের ইমাম হজরত আবু হানিফা (রহ.) প্রতি রাতে এক খতম কোরআন পড়তেন বলে বর্ণিত আছে। কোরআন পাঠকারীর পিতা-মাতাকে কিয়ামতের ময়দানে হাশরে নুরের টুপি পরানো হবে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে এবং এর ওপর আমল করে তার মাতা-পিতাকে কিয়ামতের দিন এমন একটি (নুরের) টুপি পরানো হবে যার জ্যোতি দুনিয়ার সূর্যের জ্যোতি অপেক্ষা অধিক হবে।’ আবু দাউদ। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার হৃদয়ে কোরআনের কোনো শিক্ষা নেই তা বিরান ঘর সমতুল্য।’ তিরমিজি। আমাদের প্রতেক্যের অবশ্যকর্তব্য নিয়মিত কোরআন পড়া, কোরআনের চর্চা করা। নয় তো আমাদের অন্তর বিরান ঘরের মতো হয়ে যাবে। আল কোরআন সমপর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এ কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ সুরা আজ জুমার, আয়াত ১। আল কোরআন পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যয়নকারী। ‘আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি যথাযথভাবে, এর আগের কিতাবের সত্যয়নকারী ও এর ওপর তদারককারীরূপে।’ সুরা আল মায়েদা, আয়াত ৪৮।

লেখক : খতিব, মণিপুর বাইতুল আশরাফ (মাইকওয়ালা) জামে মসজিদ, মিরপুর-২, ঢাকা।