শনিবার, ১ জুন, ২০২৪ ০০:০০ টা

বেতনভোগীর শতকোটি

ভূত তাড়ানোর সর্ষেতেই ভূত

প্রজাতন্ত্রের বেতনভোগী একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কীভাবে কোটি কোটি, এমনকি শতকোটি টাকার মালিক হন, তা দেশবাসীর জন্য হতবাক হওয়ার বিষয়। এই খেদ প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ। বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবসে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দেওয়া বিদায় সংবর্ধনায় তিনি বলেন, দুর্নীতি আমাদের সব অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সমাজে এখন দুর্নীতির ব্যাপকতা অনেক। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাত থেকে অফিস-আদালত, সব কর্মক্ষেত্র মুক্ত রাখতে হবে। একজন প্রবীণ বিচারপতি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে জীবনজারিত এই মন্তব্য করেছেন। লুটেরা দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য যেন দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেড়ে গেছে। সম্প্রতি ক’জন সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপুল বিত্তবৈভব অর্জনের সংবাদ নিয়ে ব্যাপক চর্চা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, কোনো অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার সারা জীবনের বৈধ আয় হয়তো এক, দেড় বা দুই কোটি টাকা। অথচ সম্পদ-সম্পত্তি ও নগদ অর্থ মিলে তার প্রকৃত অর্জন হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রশাসন, পুলিশ, ব্যাংক-বীমা এমনকি শিক্ষাখাত- কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে এরকম দুই-একজনকে পাওয়া যাবে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- কীভাবে এসব সম্ভব হচ্ছে? সরকারের কোনো কর্মচারী নিশ্চয় একদিন, এক মাস বা এক বছরে কোনো প্রক্রিয়াতেই শতকোটি টাকার মালিক হতে পারেননি। অবৈধ অর্জনের তিলকে তালে পরিণত করতে তাদের অনেক সময় নিতে হয়েছে। হয়তো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কর্মকালের প্রতিটি দিনই তারা লাগাতারভাবে অসৎ চর্চাই করে গেছেন। এদের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ করার কি কেউ ছিল না? রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা আছে- এটাই যাদের দায়িত্ব। তারা তাদের রুজি কীভাবে হালাল করেন? একেকজন অবৈধভাবে শত বা হাজার কোটি টাকা অর্জনের পর এসব তথ্য উন্মোচন হয় কেন? ব্যাংক-বীমা-লিজিংয়ের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের পর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে কেন? তবে কি ভূত তাড়ানোর সর্ষেতেই ভূত? হয়তো তাই। এসব প্রতিরোধে রাষ্ট্রকেই শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্নীতি দমন-সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর দায়িত্বশীলতা ও সততা নিশ্চিত করতে হবে।

 

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর