Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৭ ২৩:২৮

দিনাজপুরে ২১ সিনেমা হল বন্ধ

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

দিনাজপুরে ২১ সিনেমা হল বন্ধ

দর্শকের অভাবে লোকসান গুনতে গুনতে বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুর জেলার ২৬টি সিনেমা হলের মধ্যে ২১টি। আর শহরের ৬টির মধ্যে বন্ধ ৫টি সিনেমা হল।

দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় ২৬টি সিনেমা হলে কর্মচারী ছিলেন হাজারখানেক। শহরের সিনেমা হলগুলো হলো— মডার্ন, লিলি, বোসান, চৌরঙ্গি, কুঠিবাড়ী, ছায়া। এর মধ্যে মডার্ন হলটি চালু রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলার সিনেমা হলগুলোর মধ্যে ফুলবাড়ীতে উর্বশী, অবকাশ, বিরামপুরে অবসর ও বীরগঞ্জে উল্লাস ছাড়া বাকিগুলো বন্ধ।

সিনেমা দর্শক আবদুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলামসহ অনেকে জানান, নিম্নমানের ছবি তৈরি হওয়ায় দর্শক হলবিমুখ হচ্ছেন।

বেকার হল শ্রমিকরা এখন কেউ কাপড় ব্যবসা, ফুচকা ও চটপটির দোকান, ফুটপাথে ডিম বিক্রি করছেন। মালিকরা হল ভেঙে নির্মাণ করছেন মার্কেট এবং নানা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান।

হল কর্মচারীরা জানান, এখন হলে দর্শক নেই। সংসারের অভাব-অনটন লেগেই আছে। এই বয়সে কোনো কিছু করার উপায় নেই। তাই এখনো সিনেমা হলে চাকরি করেন অনেকে। আর্থিক দৈন্যদশার কারণে হল মালিকরা হল মেরামত, ডেকোরেশন আর রং করা বা উন্নয়নে অর্থ খরচ করেন না। ভাঙা সিট আর ছারপোকা ভরা চেয়ারের গদির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তা ছাড়া পরিবারের সবাইকে নিয়ে হলে বসে ছবি দেখারও পরিবেশ নেই।

একমাত্র চালু থাকা দিনাজপুরের মডার্ন সিনেমা হল মালিক মো. সাহেবজাদা পারভেজ বলেন, বাংলাদেশের ছায়াছবি এখন মানসম্পন্ন নয়। চলচ্চিত্র নির্মাণকারীরা দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারছেন না বিধায় দর্শক হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। রয়েছে অভিনেতা-অভিনেত্রী সংকট। তাই ছবির মান এবং সংখ্যা কমেছে, আবার কম বাজেটের তৈরি ছবি বাজার ধরে রাখতে পারছে না। মডার্ন সিনেমা হল মালিক মো. সাহেবজাদা পারভেজ আরও বলেন, সিনেমা হলের টিকিটের ওপর কর রেয়াত ছাড়া আর কোনো সুবিধা নেই। এ শিল্পে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ডিজিলাইজড করাসহ সিনেমা হলের উন্নয়ন করতেও পারে না। আবার মানসম্পন্ন ছবি তৈরি না হওয়ায় দর্শক অভাবে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কর্মচারীদের কথা চিন্তা করে লোকসান দিয়েও সিনেমা হলটি চালু রেখেছেন বলে জানান তিনি।

 মডার্ন সিনেমা হল ১৯৫৭ সালে নির্মাণ করেন সাহেবজাদা পারভেজের পিতা এম এস জোহা। এই হলটি তৈরি করার পর থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ভালো ব্যবসা ছিল। তখন দর্শক ছিল প্রচুর। কিন্তু ১৯৮০ সালের পর থেকে চলচ্চিত্রের মান নেমে যাওয়ায় ওই সময় থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের চরম অবনতি ঘটে।


আপনার মন্তব্য