Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০১৭ ২২:২০

ফোকফেস্ট মাতাবেন যারা

 ফোকফেস্ট মাতাবেন যারা

বর্তমান সময়ে এ দেশের বাঙালির নিকট বিভিন্ন ধারার গান আর বিনোদনের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে ব্যাপকভাবে। মানুষের রুচির পরিবর্তন আর উন্নতি সাধনে দেশ-বিদেশের তথা উপমহাদেশের সংগীত অনুরাগ আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করে। আন্তর্জাতিক মানের সংগীতের রস আস্বাদনের সুযোগ এদেশের তরুণ-তরুণীরা তথা সব বয়সের মানুষেই লুফে নিতে কখনোই কার্পণ্য করে না; আর ওদিকে তো আছেই দেশের অফুরন্ত সংগীত ভাণ্ডার। তাই গানপ্রিয় মানুষদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’। প্রতিবারের মতো এবারও বসছে দেশি-বিদেশি নানা শিল্পীর অংশগ্রহণে লোক শিল্পীদের এই মিলনমেলা। লোকসংগীতের বিশেষত্ব হচ্ছে এর আলাদা একটা  বৈচিত্র্য আছে। সুরের ভিতরে ডুবে শিল্পীরা খেলতে থাকেন তাল-লয়ের খেলা।

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে কিছুদিন বাদেই শুরু হবে আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব-১৭ এর তৃতীয় আসর। আগামী ৯ থেকে ১১ নভেম্বর তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই আয়োজন চলবে। উৎসবের সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। লোকজ আঙ্গিকের কণ্ঠসংগীতের সঙ্গে যন্ত্রসংগীত ও লোকনৃত্যে সজ্জিত উৎসবে অংশ নিচ্ছেন দশটি দেশের ১৪০ জন শিল্পী। লোকসংগীতের এই উৎসবে দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের লোকগানের সঙ্গে বরাবরের মতো যুক্ত থাকবে লোকজ বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা। এবারও বরাবরের মতো সবার জন্য উম্মুক্ত থাকবে লোকসংগীতের বিশাল এই পরিসর। দেশজ লোকসংগীতের চর্চা ও প্রসার এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আবারও এ বিশাল আয়োজন।

মেরিল নিবেদিত এই উৎসবের আয়োজক সান ইভেন্টস। এই বছর বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ইরান, ব্রাজিল, মালি, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও জাপান থেকে প্রায় ১৪০ জন লোক শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন। আসরে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করবেন দৃষ্টিহীন বাউল শিল্পী শাহ্জাহান মুন্সি, আরিফ দেওয়ান, ফকির শাহাবুদ্দিন, শাহনাজ বেলী, শাহ আলম সরকার, আলেয়া বেগম এবং বাউল-বাউলিয়ানা। বাইরের শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের পাপন, নুরান সিস্টারস এবং বাসুদেব দাস বাউল। আরও থাকছেন মালির বিখ্যাত গ্রামী বিজয়ী তিনারিওয়েন ব্র্যান্ড, পাকিস্তানের মিকাল হাসান ব্র্যান্ড, নেপাল থেকে কুটুম্ব, তিব্বতের ফোক শিল্পী তেনজিন চোয়েগাল, ইরান থেকে রাস্তাক, ব্রাজিল থেকে মোরিসিও টিযুমবাহ আরও অনেক শেকড় সন্ধানী শিল্পী। 

মালেক দেওয়ানের নাতি আরিফ দেওয়ান। সাধক খবির দেওয়ানের পুত্র আরিফ দেওয়ান সমানতালে লিখছেন আর গাইছেন দেহ-আত্মার গান। বাউলের আলোকময় জীবনগাঁথা নিয়ে ঘুরছেন দেশ-বিদেশেও। উপমহাদেশের বিখ্যাত ‘সংগীত সাধন কুঞ্জ’ বলে পরিচিত দেওয়ান পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের প্রতিনিধি আরিফ দেওয়ান। এই আসরে ফোক গান নিয়ে হাজির হবেন শিল্পী ফকির শাহাবুদ্দিন। তার কণ্ঠে শোনা যাবে হাসন রাজা, দূরবীন শাহ, শাহ আবদুল করিমের জনপ্রিয় সব বাউলা গান। ফকির শাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের লোক সংগীত এবং বাউল ও সুফি গানের এক অসাধারণ শিল্পী। অন্যদিকে ফোক গানের পরিচিত শিল্পী শাহনাজ বেলী। কুষ্টিয়ার এ শিল্পীর শুরুটা হয়েছে বাবার সঙ্গে লালনের গান করার মধ্য দিয়ে। শাহ আলম সরকার বাংলাদেশের আরেকজন বাউল সাধক ও শিল্পী। তার কণ্ঠে এবারকার আসরে শোনা যাবে বেশ কিছু বাউল গান। বাউল গান, শরিয়ত-মারফত আর পালাগান গেয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন আলেয়া বেগম। তার বিখ্যাত গান ‘সাথী মালা কার লাগিয়া গাথী’। এই আসরে তিনি দর্শকদের তার গানে মুগ্ধ করবেন বলে আয়োজকরা মনে করছেন। অন্যদিকে বাইরের তথা ভারতের বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পাপন। পাপন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামক সংগীত ব্যান্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি গতবারের উৎসব মাত করেছিলেন তার ভিন্নধর্মী গানে। অসম তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের ধর্মীয় গানে প্রভাবিত হয়ে পাপন আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে ধর্মীয় গানগুলো শ্রোতাদের মধ্যে ফিউশন রূপে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এবারের আসরের গতবারের ওস্তাদ গুলশান মীরের দুই মেয়ে জ্যোতি নুরান ও সুলতানা নুরান আসছেন মঞ্চ মাতাতে। নিজেদের ঐতিহ্যের সঙ্গে থেকে শিকড়সন্ধানী গান গেয়ে ভারতে জনপ্রিয় হন তারা। পরিচিতি পান ‘নুরান সিস্টারস’ নামে। তাদের গানগুলো অল্প সময়েই পৌঁছে যায় বিশ্বের নানা প্রান্তে। এর আগের ২য় আসরে বাংলাদেশের শিল্পী মমতাজ, বারী সিদ্দিকী, ইসলাম উদ্দিন কিস্সাকার, আবদুর রহমান বাউল, বাউল শফি মণ্ডল, সুনীল কর্মকার, টুন টুন বাউল, পালাকার লতিফ সরকার এবং ফরিদা ইয়াসমিন দর্শকদের গানে গানে মুগ্ধ করেছিলেন। অন্যদিকে ভারত থেকে এসে মঞ্চ মাতিয়েছিলেন কৈলাস খের, পবন দাস বাউল, ওস্তাদ গুলশান মীরের মেয়ে বিবি নুরান, জ্যোতি নুরান ও সুলতানা নুরান-এর ব্যান্ড ‘নুরান সিস্টার্স’, ব্যান্ড দল ‘ইন্ডিয়ান ওশেন’, প্রসাদ এবং রাজু দাস বাউল। উৎসবের বিভিন্ন পর্বে আরও ছিলেন পাকিস্তানের ওস্তাদ জাভেদ বশির, স্পেনের মিউজিক্যাল গ্রুপ ‘কারেন লুগো অ্যান্ড রিকার্ডো মোরো’ এবং ইংল্যান্ডের ‘সুশীলা রহমান অ্যান্ড স্যাম মিলস’ ব্যান্ড দল।

‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’ চলবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত। লোকসংগীত প্রেমী শ্রোতাদের গান শোনাবেন। এবারও শ্রোতারা বিনামূল্যে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফেসবুকের ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’ পেইজটিতে পাওয়া যাবে আয়োজনের সব তথ্য। আয়োজক সান কমিউনিকেশন লি:। মাছরাঙা টিভি অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।


আপনার মন্তব্য