শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৬

সিনেমা হল বন্ধের সিদ্ধান্তে চলচ্চিত্রকারদের প্রতিক্রিয়া

ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে

ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে

সারা দেশে বর্তমানে সিনেমা হল আছে মাত্র ১৭৪টি। এগুলো চালানোর মতো অবস্থা না থাকায় অচিরেই ঘোষণা দিয়ে সব সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রদর্শকদের এমন সিদ্ধান্তে চলচ্চিত্রকারদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

 

সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে : মিশা সওদাগর

প্রদর্শক-প্রযোজক উভয়ের স্বার্থ একসঙ্গে রক্ষা করা দরকার। প্রদর্শকরা ছবি না পেলে লোকসান গুণে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে যাবে কেন? সিনেমা হল তো কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়। অন্যদিকে ছবি নির্মাণ করে প্রযোজক যদি মূলধনই সিনেমা হল থেকে তুলে আনতে না পারেন তাহলে তিনি ছবি নির্মাণ করবেন কেন? প্রযোজক হচ্ছেন নির্মাণ সহযোগী আর প্রদর্শক হলেন প্রচারমাধ্যম। একে অপরের পরিপূরক। তাই উভয়েরই স্বার্থ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আগে এফডিসি থেকে পর্যাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মিত হতো। এখন আর সেই অবস্থা নেই। আমি মনে করি, সম্মিলিতভাবে সবাই বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উত্তরণের পথ বের করা দরকার। প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে বিদেশি ছবি আমদানি করা যেতে পারে।

 

সব বিষয় নীতিমালার মধ্যে আনতে হবে : শাকিব

নতুন করে সিনেমা হল বন্ধের কথা বলে তো লাভ নেই। দেশে এখন নামে মাত্র সিনেমা হল আছে। পর্যাপ্ত ছবি নেই, বিদেশি ছবি আমদানিতে নানা জটিলতা সবই ঠিক। অন্যদিকে একজন প্রযোজক সিনেমা হল থেকে যথাযথ শেয়ার মানি পান না। সিনেমা হলের মেশিন ভাড়া থেকে শুরু করে থার্ড পার্টি মানে ব্রোকারদের টাকাসহ সব খরচ প্রযোজককে বহন করতে হয়। ছবি সুপার হিট হলেও প্রদর্শকের কাছ থেকে প্রযোজক যথার্থ অর্থ পান না। একজন প্রযোজক যদি মুনাফা দূরে থাক লগ্নিকৃত অর্থই ফেরত না পান তাহলে তিনি নির্মাণে আসবেন কেন? চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচাতে হলে আগে প্রযোজককে বাঁচাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে প্রদর্শক, প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী, কলাকুশলীদের একসঙ্গে বসে সময়োপযোগী একটি নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

 

সম্মিলিত প্রয়াসে সমস্যার সমাধান হবে : ফেরদৌস

ছবির অভাবে সিনেমা হল বন্ধ অব্যাহত রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এটি সত্যিই দুঃখজনক। একদিকে পর্যাপ্ত ছবি নেই, অন্যদিকে লোকসানের কবলে পড়ে সিনেমা হল এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিচ্ছিন্নভাবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সরকার তখনই এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাবে যখন চলচ্চিত্রের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ দেখবে। বর্তমান সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে আন্তরিক এ কথা বার বার প্রমাণ হয়েছে।

 

গ্রোস সেল সমহারে ভাগ করতে হবে : আবু মুসা দেবু

আগে প্রযোজককে বাঁচাতে হবে। সিনেমা হল মালিক তাদের শেয়ার মানি দেন না। একটি টিকিট থেকে মাত্র শতকরা ১০ ভাগ টাকা পেলেও তাও অনিয়মিত। গ্রোস সেল থেকে যদি ফিফটি ফিফটি অঙ্ক প্রদর্শক আর প্রযোজক ভাগ করে নেন তাহলে উভয়ে কিছুটা হলেও লাভবান হবেন। প্রদর্শকদের বুঝতে হবে যে, প্রযোজককে বাঁচিয়ে রাখলে সিনেমা হল এবং চলচ্চিত্রশিল্প বাঁচবে।

 

নীতিমালা সহজ করতে হবে : খসরু

সিনেমা হল বন্ধ করে দিলে বিপর্যয় বাড়বে। তবে এ কথা ঠিক যে, পর্যাপ্ত ভালো ছবি না পেলে তারা কতদিন লোকসান দিয়ে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে পারবে। আমরা তো যথেষ্ট পরিমাণে কন্টেন্ট দিতে পারছি না। চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা যদি সহজ করে দেওয়া হয়, যাতে এক্ষেত্রে কালক্ষেপণ না হয় এবং দুই দেশের ছবি একসঙ্গে মুক্তি দেওয়া যায়, তাহলে অবস্থার উন্নতি হতে পারে।

 

এসব হুমকি দিয়ে লাভ নেই : খোকন

বার বার সিনেমা হল বন্ধের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। প্রদর্শকরা নতুন শিল্পীর ছবি চালাতে চান না। একজন শাকিব খান দিয়ে তো সারা বছরের ছবি নির্মাণ সম্ভব নয়। প্রযোজককে তারা ১০০ টাকার টিকিটে দেন মাত্র ১০ টাকা। এভাবে ঠকিয়ে ব্যবসা করতে গেলে লোকসান গুণে কোনো নির্মাতা নির্মাণে আসতে চাইবেন না।


আপনার মন্তব্য