শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ এপ্রিল, ২০২০ ২১:৪৭

এক শক্তিমান অভিনেতার গল্প

শোবিজ ডেস্ক

এক শক্তিমান অভিনেতার গল্প
ইরফান খান - জন্ম : ৭ জানুয়ারি, ১৯৬৭। মৃত্যু : ২৯ এপ্রিল, ২০২০

মঙ্গলবার ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। বুধবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন অভিনেতা ইরফান খান। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে অকালেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন বলিউডের এই শক্তিমান অভিনেতা।

মাত্র পাঁচ দিন আগে তার মা সইদা বেগম জয়পুরে মারা যান। লকডাউনের কারণে সেখানে পৌঁছতে পারেননি ইরফান। তবে বেশকিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, অসুস্থতার জন্যই মায়ের শেষকৃত্যে যেতে পারেননি এই অভিনেতা।

ব্রেনে টিউমার নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন তিনি। সুস্থ হয়ে ‘আংরেজি মিডিয়াম’ ছবির মধ্য দিয়ে কামব্যাকও করেছিলেন। কিন্তু আবারও অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি হলেন ইনফেকশন নিয়ে। সম্প্রতি বাসায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ইরফান খান। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলিউড অঙ্গনে।

এ তারকা অভিনেতা দীর্ঘদিন কোলন ইনফেকশনসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। সবশেষ তিনি মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরফান খানের নিউরো অ্যান্ডোক্রিন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসে। এরপর দীর্ঘ সময় লন্ডনে চিকিৎসা হয় এই অভিনেতার। গত বছর এপ্রিলে ভারতে ফেরেন তিনি।

 

টুইটারে ইরফান খানের শেষ স্ট্যাটাস

অনুরাগীদের উদ্দেশে গত বুধবার টুইটারে ইরফান লেখেন, জীবনে জয়ী হওয়ার সাধনায় মাঝে মধ্যে ভালোবাসার গুরুত্ব ভুলে যাই আমরা। তবে দুর্বল সময় আমাদের তা মনে করিয়ে দেয়। জীবনের পরবর্তী ধাপে পা রাখার আগে তাই খানিকক্ষণ থমকে দাঁড়াতে চাই আমি। অফুরন্ত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য এবং পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আপনাদের এই ভালোবাসাই আমার যন্ত্রণায় প্রলেপ দিয়েছে। তাই ফের আপনাদের কাছেই ফিরছি। অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সবাইকে।

 

ফারুকীর শোক

উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের খ্যাতিমান অভিনেতা ইরফান খানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমি স্তব্ধ হয়ে গেছি। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না ইরফান খান নেই। ইরফানের সঙ্গে আমাদের শেষ দেখা হয় প্রায় আট মাস আগে লন্ডনে। লন্ডনে তাকে দেখে মনেই হয়নি সে অসুস্থ। আমরা মনে ভরসা পাচ্ছিলাম তার শরীরে ওষুধ ভালোভাবে কাজ করছে। তার মৃত্যুর খবর পুরো দৃশ্যপট পরিবর্তন করে দিল আমাদের। তার মতো বড় মাপের অভিনেতা আর কবে আসবে আমরা জানি না। অভিনয় জগতে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল অমাদের।

এই শক্তিমান অভিনেতার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। শ্রদ্ধা জানাই।

 

এক নজরে ইরফান খান

পারিবারিক জীবন : ইরফান ১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতের জয়পুরে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ইরফানের মা, বেগম তন্ক হাকিম পরিবার থেকে এসেছিলেন এবং এবং তার মরহুম পিতা জাগিরদার তন্ম জেলার বাসিন্দা ছিলেন। সেখানে পাগড়ির ব্যবসা করতেন। তিনি ১৯৮৪ সালে নয়াদিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) থেকে স্কলারশিপ অর্জন করেন, যদিও তিনি তখন এমএ ডিগ্রির জন্য অধ্যয়নরত ছিলেন। দুই ছেলে আর স্ত্রীকে রেখে ইরফান পাড়ি দিলেন নতুন দুনিয়ায়।

 

অভিনেতা ইরফান খান : ইরফান খান ছিলেন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি বলিউড, ব্রিটিশ ভারতীয়, হলিউড এবং তেলেগু ছবিতে অভিনয় করে সমান জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ২০১২ সালের মার্কিন চলচ্চিত্র অ্যামেজিং স্পাইডারম্যান অভিনয় করে প্রশংসা অর্জন করেন। এছাড়া তিনি হলিউডের সিনেমা জুরাসিক ওয়ার্ল্ড এ অভিনয় করেন।

 

সম্মাননা : ২০১১ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত করেন। এছাড়া সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান বহুবার। এর মধ্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন ২০১২ সালে ‘পান সিং তমর’ ছবির জন্য। ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন ৩ বার। যেসব ছবির জন্য এই সম্মাননা পান সেগুলো হলো ২০১২ সালে সেরা অভিনেতা (পান সিং তমর), ২০০৭ সালে সেরা অভিনেতা (লাইফ ইন এ মেট্রো), ২০০৩ সালে সেরা খলনায়ক (হাসিল)।

 

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকা

১৯৮৮ (সালাম বম্বে), ২০০৩ (দ্বন্দ্ব, দ্য ফগ), ২০০৩ (হাসিল), মকবুল (২০০৩), ২০০৭ (লাইফ ইন এ মেট্রো), ২০০৯ (বিল্লু), ২০১২ (পান সিং তমর), ২০১৫ (পিকু), ২০১৭ (হিন্দি মিডিয়াম), ২০১৭ (ডুব), ২০২০ (আংরেজি মিডিয়াম)

 

হলিউডের ছবি : হলিউডের বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছেন ইরফান খান। এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য ড্যানি বয়েলের ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’ (২০০৮),

রন হাওয়ার্ডের ‘ইনফারনো’ (২০১৬) এবং অ্যাঙ লি পরিচালিত ‘লাইফ অব পাই’ (২০১২)।

 

বাংলাদেশের ছবি : ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয় করেন ইরফান খান। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় ‘ডুব’ ছবির প্রধান চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। এর ইংরেজি নাম ‘নো বেড অব রোজেস’। এতে বাংলাদেশের কিংবদন্তি সাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের জীবনের ছায়া পাওয়া যায় তার জাভেদ চরিত্রে। এটি সহ-প্রযোজনা করেছিলেন তিনি। এ ছবির অন্য প্রযোজক ছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

 

শেষ ছবি ‘আংরেজি মিডিয়াম’ : বক্স অফিসে ইরফানের কামব্যাক সিনেমা ছিল ‘আংরেজি মিডিয়াম’। চলতি মাসে ছবিটি মুক্তি পায়। আপাতত ডিজিটাল প্লাটফরম ডিজনি হটস্টারে স্ট্রিম হচ্ছে সিনেমাটি।


আপনার মন্তব্য