শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:০৮

তারকাদের প্রেম-বিয়ের গল্প

তারকাদের প্রেম-বিয়ের গল্প

চলচ্চিত্রে প্রেমের দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে অনেক সময় নায়ক-নায়িকারা পর্দা থেকে ব্যক্তিজীবনেও টেনে আনেন প্রেমকে। দেশীয় চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫৬ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির মাধ্যমে। এই ছবিতেও প্রেম ছিল। এরপর আরও অনেক ছবিতে নায়ক-নায়িকার প্রেমের গল্প। চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকাদের প্রেমে পড়া শুরু হয় কখন ও কীভাবে, সেই গল্পই তুলে ধরেছেন - আলাউদ্দীন মাজিদ

 

ডাকবাবুতে প্রেমে পড়েন আজিম-সুজাতা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই জুটিই প্রথম যারা ব্যক্তিগত জীবনে প্রেম আর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আজিমের চলচ্চিত্রে অভিষেক ১৯৬০ সালে ‘রাজধানীর বুকে’ ছবির মাধ্যমে। ১৯৬৫ সালে ‘রূপবান’ ছবির মাধ্যমে সুজাতা চলচ্চিত্রে আসেন। ১৯৬৬ সালে ‘ডাকবাবু’ চলচ্চিত্রে একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে সুদর্শন নায়ক আজিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান সুজাতা। আজিমই নাকি সুজাতাকে ওই ছবির সেটেই প্রেমের প্রস্তাব দেন। সুজাতারও পছন্দ ছিল মানুষটিকে। তাই তিনি সহজেই ‘হ্যাঁ’ বলে ফেলেন। ১৯৬৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় হোটেল শাহবাগ-এ আয়োজন করেন জাঁকজমক অনুষ্ঠানেরও।

 

অবুঝ মনে শাবানার প্রেমে সাদিক

১৯৬৭ সালে ‘চকোরি’ ছবির মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু শাবানার। প্রথম ছবি থেকেই জনপ্রিয়তায় ভাসতে থাকেন তিনি। ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় শাবানা অভিনীত ‘অবুঝমন’ ছবিটি। এ ছবিটি দেখে ব্যবসায়ী ওয়াহিদ সাদিক প্রেমে পড়ে যান বিউটি কুইন শাবানার। তিনি নাকি একটানা ৩০ বার ছবিটি দেখেন। এরপর শাবানার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। শাবানাও নাকি সাদিককে দেখে পছন্দ করে ফেলেন। এরপর শুরু তাদের প্রেম পর্ব। অবশেষে ১৯৭৪ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। আজও তারা সংসার সন্তান নিয়ে সুখে ঘর সংসার করে যাচ্ছেন।

 

একমুঠো ভাতে ববিতায় কাতর জাফর ইকবাল

১৯৭৬ সালে ‘একমুঠো ভাত’ ছবিতে জুটি বাঁধেন ববিতা-জাফর ইকবাল। অবশ্য এর আগেও জুটি হয়ে অনেক ছবিতে কাজ করেন তারা। এই ছবিতে কাজ করতে গিয়ে শুরু হয় তাদের মন দেওয়া-নেওয়া। তখনকার সময়ে চলচ্চিত্র পত্রিকা চিত্রালী, পূর্বাণী, সিনেমায় এই তারকা যুগলের প্রেম কাহিনি ফলাও করে প্রকাশ হতে থাকে। তারা তখন এসব খবর নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করেননি। তাদের এই প্রেমকে দর্শক-ভক্তরা ভালোভাবেই গ্রহণ করেছিল। সবার আশা ছিল বাস্তব জীবনেও তারা জুটি বাঁধবেন। না, তা আর হয়নি। এই সম্পর্ক ভাঙার জন্য ববিতাই নাকি দায়ী ছিলেন। চলচ্চিত্র জগতে তাদের প্রেম কাহিনির চর্চা এখনো হয়। ববিতাকে হারিয়ে বিরহকাতর জাফর গেয়ে ওঠেন ‘সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী, হয়ে কারও ঘরনী, জেনে রেখো প্রেম কভু মরেনি।’

 

আজও শাবনাজ-নাঈমের কানে বাজে প্রেমের বাঁশি

১৯৯১ সালে ‘চাঁদনী’ ছবিতে নতুন জুটি শাবনাজ-নাঈম অভিনয় করেন। প্রথম ছবিতেই অভিনয় দিয়ে ঝড় তোলেন এই জুটি। অভিনয় করেন বেশ কয়েকটি ব্যবসা সফল ছবিতে। যার বেশির ভাগই ছিল প্রেম কাহিনি নির্ভর ছবি। পর্দায় প্রেমের ঝড় তুলতে গিয়ে এক সময় তাদের বাস্তব জীবনেও প্রেমের বাঁশি বেজে ওঠে। কমপক্ষে তিন বছর লুকিয়ে প্রেম করার পর ১৯৯৪ সালে বিয়েতে সফল হয় সেই প্রেম। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকতেই সংসারের টানে অভিনয় জীবনকে গুডবাই জানান তারা। সংসার সন্তান নিয়ে সুখে আছেন এখনো। আজও পরস্পরের কানে বেজে চলেছে সেই প্রেমের বাঁশি। বারে বারে তারা গেয়ে ওঠেন ‘বন্ধুর বাঁশি বাজেরে আমার কানে কানে।’

 

কোটি টাকার কাবিন টেকেনি শাকিব-অপুর

২০০৬ সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে জুটি বাঁধেন শাকিব খান-অপু বিশ্বাস। এরপর প্রবল জনপ্রিয়তার কারণে একের পর এক ছবিতে জুটি বাঁধতে বাঁধতে অপুকে নিয়ে শাকিব গেয়ে ওঠেন ‘আমি তোমার হতে চাই এটা মিথ্যে কোনো গল্প নয়’। দুজনের প্রেম যখন তুঙ্গে তখনই ২০০৮ সালে গোপনে প্রথমে মিরপুরের একটি মাজারে তারপর শাকিবের গুলশানের বাসায় বিয়ের বাঁধনে বাঁধা পড়েন তারা। কিন্তু এক সময় ঘরভাঙা ঝড় এসে তছনছ করে দেয় তাদের অনেক সাধের প্রেমের বাগান। সন্তান থাকলেও ২০১৭ সালে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন দুজন। বিরহ ব্যথায় অপু এখনো গেয়ে চলেছেন- ‘না জানি কোন অপরাধে দিলা এমন জীবন, আমার পোড়াইতে তোমার এত আয়োজন।’

 

গরীবের রানী মৌসুমীর প্রেমে সানী

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে নায়িকা হিসেবে অভিষিক্ত হন মৌসুমী। একই বছর ‘চাঁদের আলো’ ছবির মাধ্যম ওমর সানীর বড় পর্দায় যাত্রা শুরু। মৌসুমী-সানী জুটি পর্দা প্রেমের সঙ্গে সঙ্গে এক সময় বাস্তবেও প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। ‘গরীবের রানী’ ছবিতে তাদের প্রেম পূর্ণতা পায়। মৌসুমীকে মনের গভীরে রেখে সানীর প্রশ্ন ছিল- ‘মৌসুমী কারে ভালোবাস তুমি’। এর জবাব প্রেমের মধ্য দিয়েই দেন এই নায়িকা। পরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।


আপনার মন্তব্য