শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ২২:০৮

চলচ্চিত্র অবশেষে টিকবে তো!

চলচ্চিত্র অবশেষে টিকবে তো!
Google News

বলতে গেলে নব্বই দশকের শেষ ভাগ থেকেই দেশীয় চলচ্চিত্র চরম খরার কবলে পড়েছে। অশ্লীলতা, নকল, পাইরেসি, দেশি-বিদেশি ছবি দেখার নানা মাধ্যম সৃষ্টি হওয়ায় দর্শক আর সিনেমা  হলে যেতে চান না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানসম্মত ছবি, গল্প ও নির্মাণের অভাব। এতদিন ধুঁকে ধুঁকে কোনোভাবে চললেও গত বছর থেকে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যুক্ত হয়েছে করোনা মহামারী। এখন চরম ধস নেমেছে চলচ্চিত্র ব্যবসায়। এর থেকে উত্তরণের উপায় কী?  বিষয়টি নিয়ে মত দিয়েছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। তা-ই তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

 

আমি আশাবাদী

আনোয়ারা [অভিনেত্রী]

চলচ্চিত্র অবশ্যই টিকে যাবে। আমি এখনো আশাবাদী। হয়তো একটু সময় লাগবে। এক সময় যে দক্ষ লেখক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ছিলেন যে কোনো কারণে তারা দূরে সরে গেছেন। তাই বলে আর যে ওই মাপের মানুষ আসছেন না তা কিন্তু নয়। চলচ্চিত্রে দর্শক পছন্দের গল্পের অভাব চলছে। আগের নির্মাতা ও শিল্পীরা অর্থটাকে মুখ্য করে দেখতেন না। ভালো শিল্পী-নির্মাতা-ছবি কীভাবে তৈরি করা যায় সেই ভাবনাতেই নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন সবাই। এ ধরনের চিন্তা এখনো থাকতে হবে। তাহলেই চলচ্চিত্র আবার প্রাণ ফিরে পাবে। শিল্পীরা আগে সময় মেনে সেটে আসতেন। নির্মাতা- শিল্পী সবার মধ্যে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা ও শ্রদ্ধা থাকত। সিনিয়ররা জুনিয়ারদের কখনো অবজ্ঞা করতেন না। এসব বিষয় যদি ধরে রাখা যায় তাহলে অবশ্যই চলচ্চিত্রের সুদিন আবার ফিরে আসবে।

 

ভিন্ন ফরম্যাটে টিকে যাবে

অনুপম হায়াৎ [চলচ্চিত্র গবেষক]

চলচ্চিত্র হয়তো শেষ পর্যন্ত টিকে যাবে, তবে ভিন্ন ফরম্যাটে। এখন তো ছবি দেখার অনেক মাধ্যম তৈরি হয়েছে। পাতাল রেল, বিমান, জলে, স্থলে অন্তরীক্ষে সব জায়গাতেই ছবি দেখার সুযোগ এখন সহজলভ্য এবং খুবই নাগালে। সবই সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে।

এভাবেই হয়তো এক সময় চাঁদেও ছবি দেখার অপশন পৌঁছে যাবে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ উন্নত প্রযুক্তি এখন সব কিছুই সম্ভব করে দিচ্ছে। দর্শকদের সিনেমা হলে ফেরাতে হলে মানসম্মত ছবি ও ছবি দেখার আধুনিক ব্যবস্থা মানে সিনেপ্লেক্স তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া সারা দেশে উন্নত মানের ১০০ সিটের সিনেমা হল প্রচুর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গল্পের বিষয়বস্তুতে আধুনিকতা ও নতুনত্ব আনতে হবে। এভাবে পজিটিভভাবে এগুতে পারলে চলচ্চিত্র অবশ্যই  টিকে যাবে।

 

ভবিষ্যৎ বলা মুশকিল

কাজী ফিরোজ রশীদ [প্রদর্শক]

পৃথিবীজুড়ে চরম দুঃসময় চলছে। মানুষ মহামারীর সঙ্গে লড়াই করছে। দুঃসময়ে মানুষের মনে বিনোদনের মানসিকতা থাকে না। এই দুঃসময় কতদিন থাকবে তাও বলা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের আয় রুজি রোজগার প্রায় বন্ধ। সিনেমা হলে এখন যারা যায় তাদের বেশির ভাগই নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির। তাদের খাবারের টাকাই নেই আবার সিনেমা দেখতে যাবে কী করে। অর্থনৈতিক চাপে শুধু তারা নয়, সমস্যা সংকুল পথ পাড়ি দিচ্ছেন সিনেমা হল মালিক ও নির্মাতারা। প্রায় সব সেক্টরই করোনার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে। এ সমস্যা থেকে মানুষ কখন মুক্তি পাবে তা কেউ জানে না। আগে চলচ্চিত্রের সমস্যা ছিল অন্যরকম। সে সমস্য এই সেক্টরকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে। সঙ্গে করোনাকাল যুক্ত হয়ে পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দিয়েছে। কবে চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরবে বলা মুশকিল।

 

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

খোরশেদ আলম খসরু [প্রযোজক]

গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রায় আট মাস সিনেমা হল বন্ধ ছিল। পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দিলেও মানসম্মত ছবির অভাবে প্রযোজক আর প্রদর্শকরা আবারও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর সিনেমা হল খুলে দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৪টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে দু-একটি ছাড়া সবই ব্যবসায়িকভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তারপরও করোনার প্রকোপ একটু কমাতে নতুন করে চলচ্চিত্রকাররা আশার আলো দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সম্প্রতি আবার সব আশার আলো নিভিয়ে দিয়েছে। এটি বলতে গেলে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো হয়েছে।

এ অবস্থায় আসলে আগামীতে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ কী হবে তা এই মুহূর্তে অনুমানও করতে পারছি না।

কোনো আশার আলোও দেখতে পাচ্ছি না।

 

সরকারি সাহায্য দরকার

আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল [প্রদর্শক]

চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে আনতে সর্বপ্রথম সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। কারণ চলচ্চিত্রের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করে বলতে গেলে এক প্রকার অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে পড়েছে। তার উপরে আবার বৈশ্বিক মহামারী করোনা চলচ্চিত্র শিল্পকে বলতে গেলে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই এই শিল্পের প্রত্যেক বিভাগে সরকার যদি প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে বিনাসুদে বিনা মরগেজে ঋণ দেয় তাহলে হয়তো আবার শিল্পটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

মানে সরকারি সহযোগিতা ছাড়া চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচনোর এখন আর কোনো পথ খোলা নেই। তারপরও আমি সুদিন ফেরার ব্যাপারে হতাশ নই। কারণ মানুষ যুগে যুগে নানা দুর্যোগ মোকাবিলা করে ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও তাই হবে বলে আমি আশাবাদী। আবারও বলছি চলচ্চিত্র এখন যে ধ্বংস অবস্থায় আছে তার উত্তরণে সরকারি  সাহায্যের বিকল্প নেই।