শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ মে, ২০২১ ২২:০৭

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন

ভোটের লড়াইয়ে তারকাদের হারজিত

ভোটের লড়াইয়ে তারকাদের হারজিত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তারকাখচিত নির্বাচনের পর্দা নামল। মূলত এবার গেরুয়া মানে বিজেপি আর ঘাসফুল অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনী মাঠের লড়াইয়ে নেমেছিলেন  অনেক জনপ্রিয় শোবিজ তারকা। নিজেদের পর্দা ক্রেজ কাজে লাগিয়ে অনেকে বিধানসভার আসন নিশ্চিত করেছেন। আবার অনেকের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। নির্বাচনে তারকাদের হারজিতের চিত্র তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

রুপালি পর্দার তারকাদের মধ্যে অনেকেই একসময় নামেন রাজনীতির মাঠে। ভোটযুদ্ধেও অবতীর্ণ হন।  রাজনৈতিক দলগুলোরও আগ্রহ থাকে শোবিজ তারকাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতি। কারণ তারকাদের দলে ভিড়ানো বা নির্বাচনের মাঠে নামানো মানেই তরকাখচিত কান্ড। ভোটারদের বাড়তি নজর পাওয়া। এ অবস্থা যুগ যুগ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলে আসছে। ভারতও এদিক দিয়ে অনেক আগে থেকেই এগিয়ে আছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে ছিল শোবিজ জগতের তারকাদের ছড়াছড়ি। আর ভোটারদের নজর ছিল টলিপাড়ার তারকাদের দিকেই। ভোটের আগে কেউ যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে, কেউ বিজেপিতে। সিপিএমের প্রার্থীও হয়েছিলেন একজন। তবে লড়াই মূলত ছিল তৃণমূল বনাম বিজেপির। সেখানে জয়ের তালিকায় ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি। গেরুয়া শিবিরের দুই তারকা প্রার্থী জয় পেয়েছেন নির্বাচনে। পরজয়ের তিক্ত স্বাদও পেয়েছেন দুই শিবিরের একাধিক তারকা প্রার্থী। বারাসাত কেন্দ্রে এবার হ্যাটট্রিক করলেন তৃণমূল প্রার্থী চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। বারাকপুরের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় বাজিমাত করলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। প্রথমবার সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়েই জয়ের স্বাদ পেলেন অদিতি মুন্সি, লাভলি মৈত্র, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে প্রচার করেও হারতে হলো সায়নী ঘোষকে। আসানসোল দক্ষিণে জিতলেন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল। দিলীপ ঘোষের গড় হিসেবে পরিচিত খড়গপুর সদরে জিতলেন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। টলিউড অভিনেত্রী জুন মালিয়া গত মার্চে তৃণমূলে  যোগ দেন। রাজনীতিতে নাম  লেখিয়ে মেদিনীপুর আসন  থেকে নির্বাচনে অংশ নেন এই অভিনেত্রী। আর বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরলেন জুন মালিয়া। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির সমিত কুমার দাস। টেলিভিশন অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র  সোনারপুর দক্ষিণ আসন  থেকে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির অঞ্জনা বসু। টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দুইবার বারাসাত আসন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হন। এবারও তাঁর ব্যাতিক্রম ঘটেনি। বিজেপি প্রার্থী শংকর চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন চিরঞ্জিৎ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন চিত্রনায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। খড়গপুর সদর আসনে তৃণমূলকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন হিরণ। টলিউডের কমেডিয়ান কাঞ্চন মল্লিক প্রথমবার রাজনীতিতে নাম লেখিয়েছেন। আর তৃণমূলে যোগ দিয়েই উত্তরপাড়ার টিকিট পেয়ে যান তিনি। সর্বশেষ বিজেপি প্রার্থী প্রবাল ঘোষালকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন এই অভিনেতা। বারাকপুর আসন  থেকে তৃণমূলের হয়ে জয়ী হলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। চন্ডীপুর আসনে তৃণমূলের হয়ে জয়ী হয়েছেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী।

অন্যদিকে, যশ দাশগুপ্ত এবারের বিধানসভা নির্বাচনে চন্ডীতলা আসন থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। এ আসনে তৃণমূলের প্রার্থী স্বাতী খান্দেকর বিজয়ী হয়েছেন। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে নির্বাচন করেন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। এ আসনে বিজেপির তারকা প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল জয়ী হয়েছেন। চুঁচুড়ায় বিধানসভার ভোটে বিজেপির হয়ে লড়েন অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অজিত মজুমদারের কাছে হেরেছেন এই অভিনেত্রী। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ ভবানীপুর আসন থেকে বিজেপির হয়ে নির্বাচনে লড়েন। এতে তৃণমূলের প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিজয়ী হয়েছেন। বিজেপির হয়ে শ্যামপুর আসন থেকে লড়েন অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তী। তৃণমূলের প্রার্থী কালীপদ মন্ডল এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। কৃষ্ণনগর উত্তর আসনে তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনে লড়েন অভিনেত্রী কৌশানী মুখার্জি। বিজেপি প্রার্থী মুকুল রায়ের কাছে হেরে গেছেন কৌশানী। বাকুড়া আসনে হেরে গেছেন তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।  বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিপরীতে বিজয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

একনজরে তারকাদের হারজিত


বিজয়ের হাসি হাসলেন যাঁরা 

> লাভলি মৈত্র-সোনারপুর দক্ষিণ (তৃণমূল) > চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী- বারাসাত (তৃণমূল) > জুন মালিয়া-মেদিনীপুর (তৃণমূল) > রাজ চক্রবর্তী-বারাকপুর (তৃণমূল) > কাঞ্চন মল্লিক-উত্তরপাড়া (তৃণমূল) > বীরবাহা হাঁসদা-ঝাড়গ্রাম > ইন্দ্রনীল সেন-চন্দননগর (তৃণমূল) > অদিতি মুন্সি-রাজারহাট-গোপালপুর (তৃণমূল) > সোহম চক্রবর্তী -চন্ডীপুর (তৃণমূল) > হিরণ চট্টোপাধ্যায়-খড়গপুর সদর (বিজেপি) > অগ্নিমিত্রা পল-আসানসোল দক্ষিণ (বিজেপি)

স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল যাঁদের

> রুদ্রনীল ঘোষ-ভবানীপুর (বিজেপি) > বাবুল সুপ্রিয়-টালিগঞ্জ (বিজেপি) > পায়েল সরকার-বেহালা পূর্ব (বিজেপি) > শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়-বেহালা পশ্চিম (বিজেপি) > তনুশ্রী চক্রবর্তী-শ্যামপুর (বিজেপি) > যশ দাশগুপ্ত-চন্ডীতলা (বিজেপি) > পার্ণো মিত্র- বরানগর (বিজেপি) > অঞ্জনা বসু-সোনারপুর দক্ষিণ (বিজেপি) >  লকেট চট্টোপাধ্যায়-চুঁচুড়া (বিজেপি) > পাপিয়া অধিকারী- উলুবেড়িয়া দক্ষিণ (বিজেপি) > কৌশানি মুখোপাধ্যায়-কৃষ্ণনগর উত্তর (তৃণমূল) > সায়নী ঘোষ-আসানসোল দক্ষিণ (তৃণমূল) > সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-বাঁকুড়া (তৃণমূল) > দেবদূত ঘোষ-(সিপিএম) >  কল্যাণ চৌবে-মানিকতলা-(বিজেপি)