শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১৭:৫০

বগুড়ায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় চাষিরা

আব্দুর রহমান টুলু, বগুড়া

বগুড়ায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় চাষিরা
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় সরিষা ক্ষেতে ফুটেছে ফুল

বগুড়া অঞ্চলে এবার শীতের আমেজটা বেশ তীব্র। শীতের তীব্রতার কারণেই জেলার সরিষা চাষিরা এবার ভাল ফলনের স্বপ্ন দেখছেন। ভাল ফলন পাওয়ার আশায় চাষিরা মাঠে মাঠে ক্ষেতের যত্ন নিচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবের পরেও চলতি মৌসুমে ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে সরিষা। আর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। 

বগুড়ার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গত ৫ নভেম্বরে দেশে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বয়ে যায়। এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জেলার অর্ধেক এলাকায় আমন ধান কাটকে দেরি হয়ে যায়। ঝড়ের সময় ঝড়ো বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় পানি জমে যায়। সে কারণে ধান কাটা ও শুকাতে দেরি হয়ে যায়। আর দেরি হওয়ার কারণে অনেক কৃষক সময়মত সরিষা আবাদ করতে পারেননি। সরিষার চাষবাস কম হলেও জেলায় গত বছরের মত এ বছরও সরিষার ভাল ফলন পাওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৭ হাজার ১০০ হেক্টর। সেখানে ডিসেম্বরের মধ্যমাস পর্যন্ত চাষ হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর। ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন। জেলায় গত বছরের মত এ বছরও উচ্চফলনশীল জাত চাষ করেছে চাষিরা। যে কারণে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পাবে। ২০১৮ সালে জেলায় আগস্ট মাসে দুই দফা বন্যার পর আবার অক্টোবর মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে নিচু এলাকার জমি নরম থাকায় সেখানে সরিষা চাষ কমে যায়। সরিষার পরিবর্তে অন্য সবজি চাষ করে চাষিরা। জেলায় বন্যার আগে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর। বর্ষা ও বন্যার কারণে চাষ হয়েছে ২৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর। গত বছর প্রায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সরিষা উৎপাদন হয়েছিল। 

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, অন্য ফসলের মত সরিষা চাষ বেশ লাভজনক। বাড়তি ফসল হিসেবে এ অঞ্চলে সরিষা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সরিষা চাষ করে অনেক কৃষকের ঘুরছে ভাগ্যের চাকা। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং সরিষার ভালো মূল্য পেলে এ অঞ্চলে সরিষা চাষের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে। 

বগুড়ার সরিষা চাষিরা জানান, বগুড়ার শেরপুর উপজেলা নদী ও হাওড় বেশি থাকায় শীতের প্রকোপও বেশি। শীত আসার আগে থেকেই স্থানীয় চাষিরা শীতকালিন সবজির পাশাপাশি সরিষার চাষ করে থাকে। দেশে সরিষার চাহিদা এবং বাজারে সরিষার দাম থাকায় শেরপুর উপজেলার চাষিরা উৎসাহিত হয়ে সরিষা চাষ করে যাচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সরিষা চাষিরা জানান, ভাল ফলন হলে উৎপাদন খরচ বাদে ৭-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি সরিষা চাষের শুরু থেকে ঘরে ওঠানো পর্যন্ত প্রায় সমপরিমাণ খরচ হয়ে থাকে। বাজার ভাল থাকলে সরিষা বিক্রি করে আরও বেশি আয় করা যাবে। গত বছর প্রথম দিকে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা মন বিক্রি হয়।

বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম আযাদ জানান, জেলায় সরিষার ফলন প্রতি হেক্টরে এবার ২ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন ফলন ধরা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে জেলায় আমন ধান কাটা মাড়ায় দেরি হয়ে যায়। এবার প্রায় ২৩ হাজার মেট্রিক টন সরিষা চাষ হয়েছে। এ পরিমাণ জমিতে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৮০ টন ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জমি কমলেও উচ্চফলনশীল জাত চাষ হওয়ায় এ ফলন বাড়বে। 

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য

close