১৯ মে, ২০২২ ১৮:০৪

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বগুড়ার ফুল ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বগুড়ার ফুল ব্যবসায়ীরা

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বগুড়ার ফুল ব্যবসায়ীরা। গত দুই বছরে করোনায় প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীরা। এই ক্ষতি কাটিয়ে সবে মাত্র নতুন করে সুবাস পেতে শুরু করেছে তারা। 

জানা যায়, বগুড়ায় কৃষিতে নতুন সংযোজন হয়েছে ফুল চাষ। ফুল চাষ করে লাভবান হওয়ার পর থেকে বগুড়ায় ফুল চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু হয়েছে। বগুড়ায় চাষকৃত ফুল দিয়ে অর্ধেক চাহিদা পুরণ হচ্ছে। এতে স্থানীয় চাষিদের পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতা হচ্ছে লাভবান। জেলার সোনাতলা উপজেলায় ৫টি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। ফুল চাষে দিয়ে নিজেদের সংসার পরিচালনা করছেন অনেকেই। একই সঙ্গে জেলা সদরের মহাস্থানগড় এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল ও ফুল গাছের চাষ শুরু হয়েছে অনেক আগেই। সে ফুল গাছ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি শুরু হয়। নব্বই দশকে বগুড়া শহরের খোকন পার্কের সামনে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গোলাপ ফুল বিক্রি শুরু করে। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এই ফুলের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। পরে চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে বগুড়া পৌরসভা থেকে ওই এলাকায় ১৭টি দোকান করে দেয়। ফুল মার্কেট এর দোকান ব্যবসায়ীরা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন রকমের ফুল কেনাবেচা করে আসছে। এই ফুল ব্যবসায়ীরা যশোর থেকে কুরিয়ার সার্ভিস ও বাসে করে নিয়ে বগুড়ায় ফুল বিক্রি শুরু করে। ২০০০ সালের দিকে এসে ফুলের চাহিদা দিগুণ হয়ে যায়। তখন মহাস্থানগড়, শিবগঞ্জ, গাবতলী, সোনাতলা উপজেলায় গোলাপ ও গাদা ফুল চাষ শুরু হয়। স্থানীয় ফুল দিয়ে চাহিদা পূরণ হতে থাকে। ফুল পরিবহনে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ার কারণে ফুল ব্যবসায়ীরা বগুড়ায় চাষ করা ফুল বিক্রি শুরু করে। 

পর্যায়ক্রমে ফুল চাষিরা গোলাপ, গাদা, ভুট্টা, রজনী দেশি ও হাইব্রিড, কামিনি, ফুল সাথে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পাতারও চাষ শুরু করে দেয়। বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে এগিয়ে আছে সোনাতলা উপজেলা। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ফুল চাষ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন শতাধিক যুবক। বেকার যুবকদের এখন পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুল চাষ। কৃষি কাজের সাথে ফুল চাষ করেই এখন অনেকের সংসার চলছে। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা যমুনা ও বাঙালি নদীর তীরে অবস্থিত। নদী প্রতিবছর ভাঙ্গছে। নদী যেমন ভাঙ্গে ঠিক তেমনি বাড়ে সর্বশান্ত মানুষের সংখ্যা। এই মানুষগুলো নিজেদের টিকিয়ে রাখতে জড়িয়ে পড়ছে কৃষি কাজের সাথে। কৃষিতে তারা ফুল চাষ শুরু করেছে। ফুল চাষ করেই এখন তারা নিজেদের ভাগ্য বদল করে ফেলেছে। সোনাতলা উপজেলার কামারপাড়া, চামুরপাড়া, সুজায়েতপুর, রাখালগাছি, বড়বালুয়া গ্রামে ব্যাপক আকারে ফুল চাষ হচ্ছে। এ ৫টি গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ফুল চাষ করছে। এ গ্রামের মানুষগুলো ফুল চাষের মাধ্যমে সংসারে স্বচ্ছলতা নিয়ে এসেছে। 

বগুড়া শহরের ফুল মার্কেটের ফুল বিক্রেতা মখলেছুর রহমান বাটু জানান, সোনাতলা উপজেলায় যে ফুল চাষ হয় তা দিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যবসায় বেশি লাভ পাওয়া যায়। আগে যশোর থেকে ফুল নিয়ে আসতে হতো। তখন খরচ পড়তো বেশি। এখন বগুড়ায় যে ফুল পাওয়া যায় সে ফুল বিক্রি করে লাভ বেশি পাওয়া যায়। 

বগুড়া জেলা ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও করতোয়া ফুল ঘরের মালিক অমিত দাস লক্ষণ বলেন, তাদের ফুল মার্কেটে ১৭টি দোকান রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন প্রতিটি দোকানে ৫ হাজার টাকা ফুল বিক্রি করলেও এক দিনে দাঁড়ায় ৮৫ হাজার টাকা। এ হিসাবটি শুধুমাত্র বগুড়া শহরের খোকন পার্কের ফুল মার্কেট ব্যবসায়ীদের। এর সঙ্গে প্রায় শতাধিক নার্সারি আছে যারা প্রতিদিন পাইকারি বাজারে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করে থাকে। বগুড়ায় প্রতিদিন লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়ে থাকে। এতে করে বছরে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মত ফুলের বাজার দাঁড়ায়। কিন্তু করোনাভাইরাসকালে নার্সারির ফুল, বাগানের ফুল এবং চাষের ফুল বিক্রি হয়েছে খুবই কম। কম বিক্রি হওয়ার কারণে করোনার সময় প্রতি বছর কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে বগুড়ার ফুল ব্যবসায়ীদের। সারা বছর ফুল বিক্রি হলেও বিশেষ দিবস ও উৎসবকে সামনে রেখে বিভিন্ন মোকাম থেকে ফুল আনা হয়। করোনার কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় গত দু বছরের তুলনায় ব্যবসা অনেক ভালো এখন। 

করোনাকালীন দোকান বন্ধ থাকার পর ভালো ব্যবসা করায় তারা সবাই খুশি। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয় এ ফুল মার্কেটে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক দুলাল হোসেন জানান, জেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়ে থাকে। বগুড়ায় দিন দিন বাড়ছে ফুলের চাষ।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর