Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জানুয়ারি, ২০১৬ ২৩:১৯

যাচ্ছেন দাউদ আসছেন সালাহউদ্দিন

ফেরতের তালিকায় আরও পাঁচ জঙ্গি-সন্ত্রাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

যাচ্ছেন দাউদ আসছেন সালাহউদ্দিন
দাউদ মার্চেন্ট

বাংলাদেশের কারাগারে বন্দী ‘মাফিয়া ডন’ দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদুর রউফ দাউদ মার্চেন্টসহ ছয় জঙ্গি-সন্ত্রাসীকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বিনিময়ে ভারতের কারাগারে আটক বাংলাদেশি সন্ত্রাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এসব তথ্য দিয়ে বলেছে, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনকেও ফেরত আনার ব্যাপারে সরকার কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে আবদুর রউফ দাউদ মার্চেন্টের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ছিল তা থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য পুলিশ আবেদন করেছে। আর এই আবেদনের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলে তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকবে না। সূত্র জানায়, দাউদের বিনিময়েই বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনকে ফেরত আনতে চায় সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল বলেন, বলিউডের গুলশান কুমার হত্যা মামলার আসামি আবদুর রউফ ওরফে দাউদ মার্চেন্টকে ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, বিনিময় করে কাউকে দিতে হবে বা আনতে হবে তা নয়। যেসব বিদেশির সাজার  মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের কয়েকজন আমাদের কারাগারে রয়েছেন। যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ফেরত পাঠাতে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোতে যোগাযোগ করি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুধু দাউদ মার্চেন্টের সঙ্গে আরও পাঁচ জঙ্গি-সন্ত্রাসী হলেন, ভারতীয় জঙ্গি সংগঠন ‘আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্সে’র নেতা মাওলানা মনসুর আলী হাবিবুল্লাহ, মুফতি ওবায়দুল্লাহ ওরফে আবু জাফর ও মাওলানা এমদাদুল্লাহ এবং জাহিদ শেখ ও আরিফ হুসাইন। এর বিনিময়ে ভারতের কারাগারে বন্দী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হবে। এর মধ্যে দু-একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীও রয়েছে। সূত্র জানায়, গত নভেম্বরে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বন্দী প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা হয়।  বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, দক্ষিণ এশিয়া থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূলে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করবে। বন্দী বিনিময়-সংক্রান্ত আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার পর এ বিষয়ে কিছু তত্পরতা দৃশ্যমান হয়। দাউদ মার্চেন্টের অব্যাহতির আবেদন ওই প্রক্রিয়ার অংশ। গত ৯ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দাউদ মার্চেন্টকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় আটকাদেশ থেকে অব্যাহতির আবেদন করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আগামী ৩১ জানুয়ারি এ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

ভারতের মুম্বাইয়ের সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজের মালিক গুলশান কুমারকে ১৯৯৭ সালের ১২ আগস্ট আন্ধেরি এলাকায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই মামলায় ২০০২ সালে ভারতীয় আদালত দাউদ মার্চেন্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০০৯ সালে তাকে পারিবারিক কারণে ১৪ দিনের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তি পেয়েই তিনি পালিয়ে যান। ওই বছরই তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর ২০০৯ সালের ২৭ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সহযোগীসহ দাউদকে গ্রেফতার করে ডিবি। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে থাকার পর ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর দাউদ জামিন পান। ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ওই রাতেই তাকে ৫৪ ধারায় আবার গ্রেফতার করে ডিবি। তিনি বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, অব্যাহতি পাওয়ার পর দাউদ মার্চেন্টকে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে। এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন ১২ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ফেরত দেয় ভারত।

ভারতীয় আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্সের নেতা মাওলানা মনসুর আলী হাবিবুল্লাহ, মুফতি ওবায়দুল্লাহ ওরফে আবু জাফর ও মাওলানা এমদাদুল্লাহ এবং জাহিদ শেখ ও আরিফ হুসাইনকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শিগগিরই শুরু হচ্ছে। এই ছয়জন বিভিন্ন মামলায় জামিনও পেয়েছেন। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) আটকাদেশের কারণে তারা এখনো কারাগারে বন্দী। তাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনগত বাধা দূর করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, ভারতের কারাগারে আটক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি জঙ্গি সংগঠন হুজি বাংলাদেশের নেতা দুই সহোদর মুরসালিন, মুত্তাকীন, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, সাবেক এমপি আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দীপু, চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেন, চরমপন্থি নেতা মুক্তার হোসেনসহ শতাধিক অপরাধীকে ফেরত চায় বাংলাদেশ। তাছাড়া বিভিন্ন সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করে আসছিল, আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্সের সঙ্গে মুরসালিন ও মুত্তাকীনের সম্পর্ক রয়েছে।


আপনার মন্তব্য