Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মার্চ, ২০১৯ ২৩:০৩

কেমন আছেন খালেদা জিয়া

সরকারি মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট মতে, সাড়ে তিন মাস ধরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না, চেকআপ জরুরি

মাহমুদ আজহার

কেমন আছেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে নানা রোগে আক্রান্ত বলে জানা গেছে। অসুস্থতায় তিনি অনেকবার আদালতে যেতে পারেননি। সম্প্রতি সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ড কারাগারে বেগম জিয়াকে দেখতে যায়। বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, বেগম জিয়া কারও সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারছেন না। একা চলাফেরাও করতে পারছেন না। তাঁর বাঁ বাহু ও বাঁ পায়ে ব্যথা আছে। হাতের কব্জিও দুর্বল। তাঁর বাঁ কাঁধে শক্তি কম। সাড়ে তিন মাস ধরে তাঁর লিভার, কিডনি বা রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছে, রক্ত, কিডনি, লিভারসহ কয়েকটি পরীক্ষা জরুরিভাবে করতে হবে। এ ছাড়া ইসিজি, লিপিড প্রোফাইল, সিবিসি পরীক্ষাও পরামর্শ দেন তারা। এ প্রসঙ্গে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক জলিল চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বেগম জিয়ার ওঠে বসে দাঁড়াতে পারেন না। তার হাড়ে সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তার কিছু ব্যথাও রয়েছে। আমরা কিছু টেস্টের পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু সেগুলো এখনও হয়নি।

বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বেশ কয়েকটি রোগে আক্রান্ত। এগুলো হলো- রিউমেট্রিক আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ম্যারিটা, হাইপারটেনশন, অস্ট্রিও আর্থ্রাইটিস, টানেল সিসড্রোম, ফ্রোজেন স্নোডার, লাম্বার স্টোনাইসিস, থাইটিকা, ক্রনিক হাইপো নিথ্রেমিয়া ও ক্রোনিক কিডনি। কয়েকটি রোগ আগে থেকেই ছিল। আবার কিছু নতুন করে হয়েছে। এখনো এগুলোর উন্নতি হয়নি। বিশেষায়িত হাসপাতালে তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা দরকার। বিএনপি নেতারা বেগম জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে দল তাঁর চিকিৎসাব্যয় নির্বাহ করবে বলে জানানো হয়েছে। পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে গত মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন অত্যন্ত অসুস্থ। মঙ্গলবার আদালতে আসার আগে বমি করেছেন। তিনি মাথা সোজা রাখতে পারছেন না। বেগম জিয়াকে ক্রমেই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি সম্প্রতি বেগম জিয়াকে দেখে এসেছি। তাঁর শরীর এতটাই খারাপ যে, আগে কখনই এমনটা দেখিনি। কিন্তু সরকার তাঁর কোনো চিকিৎসা করছে না। তিনি তো সাধারণ কোনো নাগরিক নন। তাঁর পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা করালে সরকারের কি সমস্যা? তাদের নিয়ন্ত্রণেই কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা হোক। কিংবা তিনি বাইরে যেতে চাইলেও সরকারের সেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া এক বছরের বেশি সময় ধরে একমাত্র বন্দী হিসেবে রয়েছেন। তাঁকে নিয়ে এত দিনেও রাজপথের ‘শক্ত’ কোনো কর্মসূচিতে যায়নি বিএনপি। তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা চান জোরালো কর্মসূচি। সর্বশেষ দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও ধারাবাহিক আন্দোলন-কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু ছোটখাটো কর্মসূচিতেই রয়েছে দলটি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটের অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যেও কঠোর কর্মসূচি দিতে নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তাঁর আইনজীবী দলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ করে যাচ্ছি। তবে বেগম জিয়ার মুক্তি শুধু আইনি প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়। বিষয়টি যেহেতু রাজনৈতিক, তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবিতে রাজপথের আন্দোলনও করতে হবে। রাজপথ গরম করলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। আমরা রাজপথ গরম করতে পারছি না বলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম হচ্ছে না।’

কটূক্তির মামলায় খালেদা জিয়ার  বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান এ পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাকিব চৌধুরী সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুন দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস। এরপর মামলার বাদী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে : কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার ‘পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে’ অভিযোগ করে বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুরান ঢাকায় বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে আসা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা দেখে আসার পর গতকাল দুপুরে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। 

তিনি বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) আমি আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি বলে বোঝাতে পারব না, আমি এই বেগম খালেদা জিয়াকে কখনো দেখিনি। তিনি এতটা অসুস্থ যে, মাথা সোজা করে বসতে পারছিলেন না। তার সমস্ত শরীরে যন্ত্রণা-ব্যথা। তিনি  কোনো কিছু  খেতে পারছিলেন না। কিছু খেলে সেটা থাকছে না। তাকে (খালেদা জিয়া) সুপরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই প্রতীকী অনশনের আয়োজন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে ৫ ঘণ্টার এই অনশন সমাপ্তি ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) বিএনপি সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুর পরিচালনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু আশরাফ খন্দকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সারা দেশে আন্দোলনের প্রস্তুতি  নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একই মামলায় সব আসামি জামিন পেলেও দেশনেত্রীর জামিন হয় না। তাই আজকে আর বসে থাকার সুযোগ নেই। এই গণঅনশন ছোট  কোনো অনুষ্ঠান নয়, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, বড় আন্দোলন। এটাকে সামনে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিএনপিসহ সব অঙ্গসংগঠনের এই অনশনকে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন জাতির জন্য অনিবার্য। এই অনিবার্য কাজটি আমাদের যে কেনো সংকট মোকাবিলা করে করতে হবে। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পাওয়া তার মৌলিক অধিকার। কিন্তু পত্র-পত্রিকায় আমরা যেসব খবর পাচ্ছি, তিনি শুধু অসুস্থই নন, উনার জীবন সংকটাপন্ন। তারপরও আদালত তাকে ছাড়ছে না। অর্ধমৃত দেহ নিয়ে আদালতে তাকে হাজিরা দিতে হয় এবং আদালত তার প্রতি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত দেখাতে পারছে না।’


আপনার মন্তব্য