Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ আগস্ট, ২০১৯ ২২:৩৩

সাক্ষাৎকারে জেনারেল সফিউল্লাহ

সকাল ৬টার পর ডালিম আসে আমার অফিসে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সকাল ৬টার পর ডালিম আসে আমার অফিসে

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকা- প্রসঙ্গে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বলেছেন, ‘মেজর শাফায়াতকে   ফোন করার পর আমি জিয়া ও খালেদ মোশাররফকে ডাকি। শাফায়াতকে ফোনে নির্দেশনা দিলেও তখনো কোনো খোঁজ না পাওয়ায় আমি আমার অফিসে গেলাম। এর আগে খালেদ মোশাররফকে বাহিনী নিয়ে এগিয়ে যেতে বলি। এ সময় জিয়াও আমার সঙ্গে অফিসে আসেন। সকাল ৬টার দিকে খবর পাই যে বঙ্গবন্ধু আর নেই। এর কিছুক্ষণ পর মেজর ডালিম কয়েকজন সেনা সদস্য নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় আমার অফিসে আসে।’ গতকাল তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। সফিউল্লাহ আরও বলেন, ‘সে (ডালিম) সরাসরি আমার রুমে ঢুকে খুব কাছে এসে অস্ত্র তাক করে বলে, “আপনাকে প্রেসিডেন্ট যেতে বলেছেন”। তখন আমি বলি, বঙ্গবন্ধু তো বেঁচে নেই। তাহলে তিনি আমায় কীভাবে ডেকে পাঠান। ডালিম বলে, “এখন খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট। তিনি আপনাকে নিয়ে যেতে বলেছেন”। তখন আমি আমার দিকে তাক করা অস্ত্রের নলে হাত দিয়ে বলি, এ অস্ত্র আমি দেখে এবং ব্যবহার করে অভ্যস্ত। কথা বলার জন্য এসে থাকলে অস্ত্র আর অন্য সেনাদের বাইরে রেখে এসো। সে বাইরে অস্ত্র রেখে এসে আমাকে যেতে বললে আমি বলি, খন্দকার মোশতাক তোমার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, আমার নন। তোমরা যা ইচ্ছা করতে পারো, আমি কোথাও যাব না। এ কথা বলে আমি তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বাইরে এসে আমার গাড়িতে উঠতে যাই। ঠিক এই সময় পেছনে তাকিয়ে দেখি ডালিমকে জিয়াউর রহমান বলছেন, “কনগ্রাচুলেশন ডালিম! ওয়েল ডান।’ এ সময় তিনি আঙুল দিয়ে নিজের গাল দেখিয়ে বললেন, “কিস মি। এসো, আমার গাড়িতে ওঠো।” তখন ডালিম বলল, “না, আমি কোনো জেনারেলের গাড়িতে উঠব না। আমার সঙ্গে গাড়ি আছে।” জিয়ার কথা শুনে আমি খুব অবাক হয়ে যাই। তখনই আমার মনে হয় এর মধ্যে তার হাত আছে।’

বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে সফিউল্লাহ বলেন, ‘১৫ আগস্ট ফজরের নামাজের পরপরই ডিরেক্টর অব মিলিটারি ইনটেলিজেন্স (ডিএমআই) লে. কর্নেল সালাউদ্দিন আমার বাসায় এসে বললেন, “স্যার, সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য ট্যাঙ্ক নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে গেছে।” তখন আমি ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার শাফায়াতকে ব্যাটালিয়ন নিয়ে এগিয়ে যেতে বললাম। খবর পেয়ে আমি বঙ্গবন্ধুকে ২০-২৫ বার ফোন করি। কিন্তু তাঁকে ফোনে পাচ্ছিলাম না। একসময় ওই ফোনটা আমার স্ত্রীর হাতে দিয়ে যতক্ষণ রিসিভ না করে ততক্ষণ ডায়াল করতে বলি। আর আমি আরেক ফোন থেকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। এ সময় একবার ফোন রিসিভ করে তিনি বলেন, “সফিউল্লাহ! তোমার সৈন্যরা আমার বাড়ি আক্রমণ করেছে। কামালকে মনে হয় মেরেই ফেলেছে। তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নাও।” আমি তাঁকে বললাম, স্যার, আপনি কি বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যেতে পারবেন? এরপর আমি লাইনে থাকলেও তিনি আর কোনো সাড়া দেননি। কিছুক্ষণ পর আমি গুলির শব্দ শুনতে পাই।’ খন্দকার মোশতাক সরকারকে সমর্থন ঘোষণার ব্যাপারে জানতে চাইলে সফিউল্লাহ বলেন, ‘আমি ৪৬ ব্রিগেডের দিকে রওনা দিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি সব কমান্ডার ব্যস্ত। আমার কথা শোনার মতো লোক নেই। পরে অস্ত্র তাক করে আমাকে রেডিও স্টেশনে নিয়ে যায়। নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানকেও সেখানে নিয়ে আসা হয়। গিয়ে দেখি সেখানে খন্দকার মোশতাক বসে আছেন। আর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তাহের উদ্দিন ঠাকুর। আমাদের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হলো। সরকারকে সমর্থন দিয়েছি এ রকম একটা লেখা নিয়ে এসে পড়তে বলল। ওই লেখা পড়তে আমাদের বাধ্য করা হয়েছিল। লেখাটা পড়লে সেটা রেকর্ড করে বেতারে প্রচার করে।’


আপনার মন্তব্য