Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৩৫

জিয়া নয়, আওয়ামী লীগের নেতারাই জড়িত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জিয়া নয়, আওয়ামী লীগের নেতারাই জড়িত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যায় আওয়ামী লীগের নেতারাই জড়িত, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নন। তিনি বলেন, দীর্ঘকাল ধরেই এই ইতিহাস তারা বিকৃত করার চেষ্টা করছেন। এটা ধ্রুবতারার মতো সত্য, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি কোনোমতেই কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ইতিহাসই এর প্রমাণ। জড়িত ছিলেন তাদের (আওয়ামী লীগ) লোকেরা। যারা পরবর্তীতে সরকার গঠন করেছেন, পার্লামেন্টে গেছেন। গতকাল স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে শহীদ জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা জানানোর পর ‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত’ আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বিএনপির যুগ্মমহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন। চামড়ার দরপতন সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সরকারের মন্ত্রীরা এ নিয়ে অর্বাচীনের মতো কথাবার্তা বলছেন। এ ছাড়া আর কিছুই করার নেই তাদের। আসলে তারা দেশ চালাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। একটা অনির্বাচিত সরকার কখনো ভালোভাবে দেশ চালাতে পারে না। তিনি বলেন, জাতির জনকের হত্যাকান্ডে র সঙ্গে তাদের দলের লোকই জড়িত ছিলেন, যারা পরবর্তীতে সরকার গঠন করেছিলেন। সরকার বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ভারত আমাদের থেকে সব সময় উপকার পেয়েছে, তারা কখনো কোনো উপকার করেনি।

‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিএনপি চামড়া কিনে পানিতে ফেলে দিয়েছে’- শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, এ সরকারের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাই চামড়াশিল্পকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চামড়ার দর নিয়ে সিন্ডিকেট করে কারসাজি করা হয়েছে। আর নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই চামড়ার বাজারে অস্থিতিশীল অবস্থা নিয়ে বিএনপিকে জড়িয়ে অর্বাচীনের মতো বক্তব্য দিচ্ছে এ সরকার। সরকারের মন্ত্রীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, অবৈধ সরকার এটা। জনগণের কোনো ম্যান্ডেট তাদের প্রতি নেই। পার্লামেন্ট বলুন, আর সরকার বলুন, এখানে জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। ফলে অর্বাচীনের মতো কথাবার্তা বলা ছাড়া তাদের আর কিছু করারও নেই। তিনি আরও বলেন, অবৈধ সরকার সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন তারা দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের লক্ষ্যে কাজ করছে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য- দেশে একটি একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিএনপির প্রত্যাশা কী? এ সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব বেশি প্রত্যাশা করছি না। আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সুউচ্চ পর্যায়ে আছে, খুব ভালো আছে। তার পরও গত ১০ বছরে আমরা তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা পাইনি। সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি। যেটা হয়েছে ভারতের সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে। সে কারণে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছি না। ভারতের এয়ারপোর্ট সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের কাছে জমি চাওয়ার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি। বাংলাদেশ সরকার এখনো জমি দিতে রাজি হয়নি। রাজি হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমার দেশের জমি অন্য কাউকে দেওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না।

দলের কাউন্সিলের বিষয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আমাদের সব জেলা পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এগুলো শেষ হলেই কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু করব।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পূর্ণ বিরাজনৈতিকীকরণ করে আওয়ামী লীগ এককভাবে প্রভুত্ব করতে চায়। তবে এটা কখনই সম্ভব হবে না। মানুষ এটা কখনো মেনে নেবে না। এ দেশের মানুষ অতীতে যেভাবে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে, ঠিক সেভাবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে ইনশা আল্লাহ। পরে বেলা ২টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম লীর এক যৌথসভা শেষে বিএনপি মহাসচিব জানান, ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে র‌্যালি বের করা হবে। ২ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।


আপনার মন্তব্য