শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৩৯

তৃতীয় ড্রিমলাইনার উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

ধার করে আর বিমান কেনা হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধার করে আর বিমান কেনা হবে না
গতকাল বিমানের বহরে নতুন বোয়িং ৭৮৭-৮ গাঙচিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার -বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগে আমরা বিমান কিনতে বিদেশ থেকে টাকা ধার করতাম। এখন আমরা আমাদের ব্যাংক থেকেই নিজেরা লোন নিয়ে বিমান কিনব, যেন অন্য কোথাও থেকে ধার না নিতে হয়। তিনি বলেন, এখনো আমরা আমেরিকা যেতে পারছি না। আশা করি খুব শিগগির এ সমস্যার সমাধান হবে। যে বিমানগুলো কেনা হয়েছে, এগুলো সরাসরি আমেরিকা যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। আমরা চেষ্টা করছি লন্ডনে আরও স্লট বৃদ্ধি করতে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান।

‘গাঙচিল’ বাংলাদেশ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়া তৃতীয় ড্রিমলাইনার। এর আগে ‘আকাশবীণা’ ও ‘হংসবলাকা’ নামে আরও দুটি ড্রিমলাইনার বোয়িং যুক্ত হয় বাংলাদেশ বিমানে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির তৃতীয় প্রজন্মের বোয়িং ৭৮৭-৮ মডেলের ‘গাঙচিল’ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিমানবহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫-এ। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজটিতে আরোহণ করেন ও ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং পাইলট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন। এ উপলক্ষে দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিমানের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল এনামুল বারী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ক্যাপ্টেন ফরহাত হাসান জামিল। অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে আমি সবাইকে বলব আন্তরিকতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এটি পরিচালনা করবেন। কারণ দেশ যদি উন্নত হয়, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়, দেশের উন্নতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সবাই সুন্দর জীবন পাবেন, সুখীভাবে চলতে পারবেন। আমার গাঙচিল যেন ভালোভাবে ডানা মেলে উড়তে পারে, সবাই যত্ন নেবেন। বিমানের সুনাম বাড়াতে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি, বিমানের সুনাম বৃদ্ধি, যাত্রীসেবার মান উন্নত করা এবং যে বিমানগুলো আমরা এনে দিচ্ছি সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে। যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, এটা সবার দায়িত্ব। কারণ এটা নিজের দেশের ও নিজস্ব সম্পদ। সে কথা মনে রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে। বিমানের রুট বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, বোয়িং থেকে আমাদের নবম প্লেন এলো। আরেকটা এলে ১০টি হবে। কাজেই বোয়িং থেকে আমরা ১০টি বিমান কিনলাম। তবে এখনো আমরা আমেরিকা যেতে পারছি না। আশা করি খুব শিগগির এ সমস্যার সমাধান হবে। যে বিমানগুলো কেনা হয়েছে, এগুলো সরাসরি আমেরিকা যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। আমরা চেষ্টা করছি লন্ডনে আরও স্লট বৃদ্ধি করতে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশেও চেষ্টা করছি। আমাদের যাত্রীসেবা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক আমাদের রক্ত দিয়ে গেছেন। তাঁর রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। ২৯টি বছর হারিয়ে গেছে এটা দুর্ভাগ্যের। এই সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা উন্নয়ন করেনি, করতেও চায়নি। কারণ যারা ছিল তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করত না।

আগের সরকারের আমলে বাংলাদেশ বিমানের কোনো উন্নতি হয়নি এমন অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২৯ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তাদের সময় দেশের উন্নতি হয়নি। এই ১০ বছরের মধ্যে আজ আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে একটি উন্নত স্থানে নিতে সক্ষম হয়েছি। বিমানও তার মধ্যে একটি। এই বিমান আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটি প্রতীক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যখন বিমান যায়, মানুষ বাংলাদেশকে চেনে। বিমানের মধ্য দিয়ে অন্য দেশের মানুষ বাংলাদেশকে চিনবে, জানবে, সম্মান করবে।

তিনি বলেন, এই দিকটি লক্ষ্য রেখেই বিমানকে আরও উন্নত করতে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছি। আমি প্রথমবার যখন প্রধানমন্ত্রী হই, সিলেট ও চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করে দিয়েছিলাম। শুধু তাই নয়, ১৯৯৬ সালের আগের বিমানবন্দরগুলোর ছবিগুলো দেখবেন, আর এখনকার ছবি দেখবেন। তখন কোনো বোর্ডিং ব্রিজ বা কোনো আধুনিক ব্যবস্থাই ছিল না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর