শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মার্চ, ২০২০ ২৩:২৪

করোনা মোকাবিলায় মূল্যবান সময় ক্ষেপণ করেছে সরকার

ড. কামাল হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা মোকাবিলায় মূল্যবান সময় ক্ষেপণ করেছে সরকার

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করাটা দলীয় রাজনীতির কোনো বিষয় নয়। এটি জাতীয় অস্তিত্বের বিষয়। এ ভাইরাস মোকাবিলায় সরকার অনেক মূল্যবান সময় ক্ষেপণ করে যৎসামান্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু মূল্যবান সময়টাই সরকার অযথা ক্ষেপণ করেছে। আমাদের একটি লম্বা সময় ধরে জনজীবনে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি, অর্থনৈতিক কর্মকা  বিঘিœত হওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি থাকতে হবে। এ পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া হবে দীর্ঘ এবং কষ্টসাধ্য। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে গণফোরাম সভাপতি বলেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে দ্রুত দৃঢ় ও সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ত্যাগ স্বীকারের মধ্য দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকার বিষয়টি (করোনাভাইরাস) মোকাবিলায় অনেক মূল্যবান সময়ক্ষেপণ করে যৎসামান্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের কার্যকরভাবে আলাদা রাখতে ব্যর্থতার বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এসব ব্যর্থতার ফলে দেশের ৬৩ জন শিক্ষক ও গবেষক প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়ে একটি সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনা সুপারিশ করেছে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন মাস ও বছরগুলোতে আমাদের জনগণের ওপর এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগের প্রভাব কমিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সতর্ক পরিকল্পনা এবং সুস্পষ্ট নীতি প্রণয়ন আবশ্যক।

কামাল হোসেন বলেন, আমরা ৬৩ জন বিশিষ্ট নাগরিকের প্রদত্ত গঠনমূলক ও সুবিবেচনাপূর্ণ সুপারিশগুলো সমর্থন করি। ভাইরাসটির ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে চীন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেওয়া ব্যবস্থার মধ্যে বিস্তর ফারাক (পার্থক্য) রয়েছে। কিছু কিছু দেশ গত জানুয়ারি মাস থেকেই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিয়েছে।

গণফোরামের এই শীর্ষ নেতা বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশ্বের বহু দেশ তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা  প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন শহর এবং কিছু দেশে সম্পূর্ণ লকডাউন করেছে।

অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে যাদের কোনো সঞ্চয় নেই এবং দৈনিক/সাপ্তাহিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল তাদের সহায়তা করতে অনেক দেশ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে সহায়-সম্পদহীন, এরূপ কয়েক কোটি মানুষের অবস্থা আরও বেশি সঙ্গীণ। এই মানুষগুলোকে অনাহার, অপুষ্টি (বিশেষ করে শিশুদের) ও ক্ষুধা থেকে বাঁচাতে অন্তত কয়েক মাস খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। এছাড়া উদ্ভূত বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা বিগত এক শতকের যে কোনো মন্দার চেয়ে ভয়াবহ ও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এই মন্দার পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে বলে ড. কামাল উল্লেখ করেন।


আপনার মন্তব্য