শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০২

বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন

সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামাতে প্রতিশ্রুতি ভারতের

বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যার হার শূন্যে নামিয়ে আনার ফের প্রতিশ্রুতি দিল ভারত। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনের সীমান্ত সম্মেলনের শেষ দিনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এ কথা জানান ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা। বুধবার থেকে ঢাকায় শুরু হওয়া বৈঠকের আলোচ্যসূচির অন্যতম বিষয় ছিল সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার বিষয়টি। সীমান্তে যে কোনো ঘটনায় মানবাধিকার প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে যৌথ দলিলে একমত হয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ।

বাংলাদেশ-ভারতের প্রায় পাঁচ দশকের বন্ধুত্বের মধ্যেও অন্যতম অমীমাংসিত বিষয় সীমান্ত হত্যা। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সাড়ে আট মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৯ বাংলাদেশির। এর মধ্যে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে। পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বিএসএফ সদস্যদের শারীরিক নির্যাতনের পর। ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলনের ৫০তম আসরে শেষ দিন গতকাল যৌথ দলিল সই হয়। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দুই প্রধান। বিএসএফের মহাপরিচালক আগের মতোই আশ্বাস দেন সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে। দুই বাহিনীর প্রধান একমত, অপরাধীদের কোনো দেশ নেই, সীমান্তের দুই পাশেই তাদের অবস্থান। এবারের সম্মেলনের আলোচনায় সন্তোষ জানিয়ে বিজিবি প্রধান বলেন, সীমান্তে অপরাধ কমাতে যৌথভাবেই কাজ করতে হবে। সম্মেলনে মানব পাচার ও অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে। এ ছাড়াও উভয় পক্ষই বিদ্যমান পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণে সম্মত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভিতরে ঢুকে পড়ছে। সে কারণে হত্যার ঘটনা ঘটছে। এই ব্যর্থতা বিজিবির কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি। নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত আছে। তারপরও এখন পাঁচ কিলোমিটার পর পর সীমান্ত চৌকি আছে। বিএসএফের মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা বলেন, হত্যাকান্ডের বেশির ভাগ ঘটনা ঘটছে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে। তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন, হত্যাকান্ডের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। এজন্য বিজিবি-বিএসএফ সীমান্তে যৌথ টহল দেবে এবং এলাকার লোকজনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে যৌথ টহল বন্ধ থাকায় অপরাধ কিছুটা বেড়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে বলা হয়েছে মৃত্যু ঘটায় না এমন অস্ত্র ব্যবহার করতে, পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালেই তাদের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বারবার একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া ও সীমান্তে হত্যাকা- চালিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাকেশ আস্থানা বলেন, তিনি বিএসএফে নতুন যোগ দিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে যাতে বাংলাদেশে মাদক না ঢোকে সেজন্য তারা কাজ করছেন বলে জানান। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারত ১৪ দফা সিদ্ধান্ত নিলেও সংবাদ সম্মেলন জুড়ে বারবারই সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গ আসে। ২০০০ সালের পর থেকে হত্যাকান্ডের ঊর্ধ্বগতি কেন, বিএসএফ বরাবর বলে আসছে তারা আক্রান্ত হলেই কেবল গুলি ছোড়ে, তাহলে গুলি কেন দেহের ওপরের অংশে, ঠাকুরগাঁওয়ে সম্প্রতি সকাল ১০টায় মাছ ধরার সময় গুলি করে বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে, এ ঘটনা কেন ঘটল এ প্রশ্নগুলো তোলেন সাংবাদিকরা। এক পর্যায়ে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যার বাইরের ইস্যুতে প্রশ্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এদিকে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্তে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক হত্যার ঘটনা শূন্যে নামাতে বিজিবি এবং বিএসএফের যৌথ প্রচেষ্টা এবং ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্রই কেবল ব্যবহার হবে। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির পুনরাবৃত্তি করে বিজিবি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করেছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্মেলন শেষে ভারতের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানার নেতৃত্বে আসা ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বিজিবি-বিএসএফের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতের গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর