শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:১৫

বাংলাদেশেও নতুন করোনা, মিল আছে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে

আতঙ্ক নয় : বিসিএসআইআর

প্রতিদিন ডেস্ক

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বা বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের নতুন একটি স্ট্রেইন বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে, যেটির সঙ্গে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের সাদৃশ্য রয়েছে। তবে এ খবর নিয়ে আতঙ্কিত না হতে বলেছে বিসিএসআইআর।

বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানীরা গত মাসে ১৭টি নতুন জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করে পাঁচটিতে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের এই স্ট্রেইন শনাক্ত করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম খান বিবিসি বাংলাকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন যে একটি স্ট্রেইন পাওয়া গেছে, সেটি আগের স্ট্রেইনটির তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি গতিতে ছড়ায় বলে জানানো হয়েছে। ড. সেলিম খান বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ যে সিকোয়েন্স করা হয়েছে, তাতে ভাইরাসটির দুটি স্পাইকে প্রোটিন মিউটেশন পাওয়া যায়। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে শনাক্ত নতুন ভাইরাসটির স্ট্রেইনে যে বৈশিষ্ট্য আছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশে পাওয়া ভাইরাসটির পুরোপুরি মিল না থাকলেও অনেকটাই মিল রয়েছে। বাংলাদেশের আগে এমন মিউটেশনের খবর রাশিয়া এবং পেরুতে পাওয়া যায়। ওই দেশগুলোতে একটি করে নমুনায় এমন মিউটেশন পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে মোট ১৭টি নমুনার মধ্যে ৫টিতেই এমন মিউটেশন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। সেলিম খান বলেন, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার থেকে ওই নমুনাগুলো জেনোম সিকোয়েন্সের জন্য নিয়েছিলেন তারা। গবেষকেরা বলছেন, করোনাভাইরাসে মোট ২৮টি প্রোটিন থাকে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে স্পাইক প্রোটিন, যার মাধ্যমে মূলত ভাইরাসটি বাহককে আক্রমণ করে। এই স্পাইক প্রোটিনে ১ হাজার ২৭৪টি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। এর মধ্যে ‘ডি৬১৪জি’ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডটি আগে থেকেই বাংলাদেশে সক্রিয় ছিল। নতুন আরও দুই সক্রিয় অ্যামাইনো অ্যাসিডের নাম ‘পি৬৮১আর’ এবং ‘ডি১১১৮আর’। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৪৮৩টি করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিন নকশা বের করা হয়েছে। এর মধ্যে বিসিএসআইআরের জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষকেরা ২৮০টি ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিন নকশা উন্মোচন করেছেন। এগুলো জিনোম সিকোয়েন্সের উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা (জিএসআইডি) ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলিক্যাল ইনফরমেশনে (এনসিবিআই) এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। বিসিএসআইআর ছাড়া আরও নয়টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাসের জিন নকশা উন্মোচনের গবেষণায় কাজ করছে।

 বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ বলেছেন, তাদের অসমাপ্ত কাজের ভিত্তিতে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে ‘আতঙ্ক সৃষ্টি করা’ সমীচীন হবে না। এ খবর নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।


আপনার মন্তব্য