রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

ইভ্যালির নেওয়া টাকার অস্তিত্ব নেই : মন্ত্রী

চেয়ারম্যান-এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ই-কমার্স প্ল্যাটফরম ইভ্যালি গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে অগ্রিম যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে, এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

টিপু মুনশি বলেন, ইভ্যালি মানুষের কাছ থেকে এবং তাদের সাপ্লায়ারদের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে, এর মোট অঙ্ক ৩০০ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে তাদের কাছে সেই টাকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে টাকার খুব সামান্য অংশের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সে জন্যই প্রশ্ন উঠেছে, এই বিশাল দায় কীভাবে তারা শোধ করবে? তিনি বলেন, ইভ্যালি এর মধ্যে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে, তা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তাদের ফান্ড কোথায় রেখেছে, অন্য কোনো উৎস আছে কি না তা তদন্তের পর জানা যাবে।

ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডির দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা : আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেলের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেয়। গতকাল সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের কোর্ট পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দুদক ১৫ জুলাই তাদের দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে। মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আবেদনটি মঞ্জুর করেন। দুদক সূত্র জানায়, ইভ্যালির বিরুদ্ধে আগে থেকেই তাদের কাছে একাধিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইভ্যালির আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠি পাওয়ার পর দুদকের পক্ষ থেকে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর সদস্য হলেন সহকারী উপ-পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম। দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, অনুসন্ধানের শুরুতেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল গোপনে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে দুদকের পক্ষ থেকে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারির চিঠি ইস্যু করা হয়। দুদক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইভ্যালির আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখা প্রসঙ্গে একটি চিঠি পেয়েছেন। ওই চিঠির সূত্র ধরেই অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। অনুসন্ধানে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে ইভ্যালি কী করেছে, তা জানার পাশাপাশি এসব অর্থ মানি লন্ডারিং করে কোথাও পাচার করা হয়েছে কি না তা জানার চেষ্টা করা হবে। গ্রাহকের অর্থ পাচার করা হলে ইভ্যালির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে।

৪ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুদকে পাঠানো চিঠিতে ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে পণ্যের অর্ডারের নামে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করলেও এর বিপরীতে তাদের সম্পদ অনেক কম। এ ছাড়া মার্চেন্টদের কাছেও তাদের শত কোটিরও বেশি অর্থ দেনা রয়েছে। গ্রাহক ও মার্চেন্টদের মিলিয়ে ৩০০ কোটি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এসব অর্থ আত্মসাৎ বা পাচার করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করা হয়। দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, এর আগে দুদকের কাছে গ্রাহক পর্যায়ের কিছু অভিযোগ জমা পড়েছিল। কিন্তু সেসব অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু উল্লেখ ছিল না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হচ্ছে।