শিরোনাম
শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০ টা
তহবিলে টান

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সাহায্য কমিয়ে দিচ্ছে জাতিসংঘ

প্রতিদিন ডেস্ক

তহবিল ঘাটতির কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে জাতিসংঘের সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম-ডব্লিউএফপি। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আগামী মাস থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য সহায়তা বাবদ মাথাপিছু বরাদ্দ ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ১০ ডলার করা হবে। সূত্র : রয়টার্স

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, এত দিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য সহায়তা বাবদ মাথাপিছু ১২ ডলারের যে বরাদ্দ তারা দিয়ে আসছিল, আগামী মাস থেকে তা ১৭ শতাংশ কমিয়ে ১০ ডলার করা হবে। মহামারি এবং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির কারণে দাতারা বাজেট কমিয়ে দেওয়ায় তারা এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর কাছে সাড়ে ১২ কোটি ডলারের জরুরি তহবিল চেয়ে ডব্লিউএফপি বলেছে, ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দাদের এক- তৃতীয়াংশই শিশু, পুষ্টির অভাবে যাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, বেশির ভাগেরই ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম। এ অবস্থায় তাদের খাদ্যের জন্য জরুরি তহবিল না পেলে তার প্রভাব হবে ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই শরণার্থী শিবিরে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সংকট এবং পুষ্টিহীনতা আরও বাড়বে। জাতিসংঘের দুই বিশেষ দূত মাইকেল ফাখরি ও টম অ্যান্ড্রুজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার তহবিলে ঘাটতি হলে তার ফল হবে বিপর্যয়কর। তাদের ভাষায়, রোজার মাসের আগে এভাবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের রেশন কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনো ভ্যান ম্যানেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক দাতারা যদি ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শিশু এবং তাদের পরিবারের দিক থেকে এভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তা হবে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা এই জনগোষ্ঠীর প্রতি প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ।’ কক্সবাজারে বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই পর্যায়ে এসে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হলে শরণার্থীরা কাজের খোঁজে আরও মরিয়া হয়ে উঠবে। তাতে তাদের ক্যাম্পের মধ্যে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক মাসে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে বাংলাদেশে ছিল আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার, টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে বসবাস করছে।

সর্বশেষ খবর