শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০১৮ ২৩:১৮

অক্সিজেনের চাহিদা যখন বাড়ে কমে

অক্সিজেনের চাহিদা যখন বাড়ে কমে

হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনের চাহিদা বিশ্রামকালীন সময়ের চাহিদার চেয়ে অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। সুতরাং যারা হৃদরোগে ভুগছেন তাদের রক্ত সরবরাহের অপ্রতুলতা থাকায় পরিশ্রমকালীন সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে হৃৎপিণ্ডের ব্যথা বা বুক ব্যথা যাকে  চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এনজিনা বলা হয়ে থাকে তা পরিলক্ষিত হয়। আবার বিশ্রামকালীন বা পরিশ্রম করা থেকে বিরত হলে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরবরাহের ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। ফলে উপসর্গগুলো দ্রুত কমে যেতে থাকে। এত গেল হৃদরোগের স্বাভাবিক বর্ণনা যা শতকরা ৮০ জন হৃদরোগীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তবে শতকরা ২০ জন রোগীর ক্ষেত্রে হৃদরোগের স্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত না হয়ে অন্য ধরনের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। এসব রোগী প্রাথমিক অবস্থায় নিজেও বুঝতে পারেন না, তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সাধারণ চিকিৎসকও প্রায় ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয়ে জটিলতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। যার ফলে রোগীরা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। কেউ কেউ কবিরাজি বা হোমিও চিকিৎসকেরও শরণাপন্ন হয়ে রোগমুক্তির চেষ্টা করতে থাকেন। অনেক ডায়াবেটিস রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, অনেক বয়োবৃদ্ধ রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে অস্বাভাবিক উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। যেমন- পরিশ্রম করতে গেলে তারা খুব তাড়াতাড়ি হাঁপিয়ে ওঠেন, তাদের হাঁটা চলাফেরার যোগ্যতা খুব তাড়াতাড়ি কমে যায়, অনেকের চোয়ালে ব্যথা অনুভব করেন, অনেকে মনে করেন দাঁতে ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন। কারও কারও ঘাড় বা পিঠে ব্যথা হয়ে থাকে, কেউ কেউ খাবার পরে শ্বাসকষ্টে বা অস্থিরতায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কেউ কেউ রাতে শুতে গেলে শ্বাসকষ্ট, শুকনো কাশি অথবা অস্থিরতা বোধ করে থাকেন। কারও কারও নাক ডাকার প্রবণতা থাকলে তার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। কারও শ্বাসকষ্টের জন্য রাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং প্রায়ই বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত হয়। আবার অনেকে শুধু হাত বা বাহু বা কাঁধের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কেউ কেউ পেটের উপরের অংশের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং এসব ব্যথার জন্য গ্যাসের ওষুধ সেবন করেও কোনো পরিত্রাণ লাভ করেন না। কারও কারও মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। অনেকের পেটে প্রচুর গ্যাস উৎপন্ন হয়ে ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। আবার অনেকের শারীরিক ওজন তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি ঘটে, খুব বেশি ক্লান্তি অনুভূত হওয়ায় কর্মদক্ষতা দারুণভাবে কমে যায়। খাবার গ্রহণ করলে তারা আরও ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং অস্থিরতা বোধ করেন। অনেককে বলতে শুনেছি, তারা পেটে ও বুকে জ্বালা অনুভব করেন বিশেষ করে খাবার গ্রহণের পর রাতে বিছানায় শুতে গেলে। কারও কারও হাত, পা, মুখ ফুলে পানি জমে। এসব অস্বাভাবিক উপসর্গ ডায়াবেটিস ও বয়োবৃদ্ধি ব্যতীত অন্য ব্যক্তিদের বেলায় পরিলক্ষিত হতে পারে। হৃদরোগ প্রাণঘাতী রোগ তাই এসব উপসর্গ পরিলক্ষিত হলে প্রথমেই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণপূর্বক চিকিৎসা নেওয়া উত্তম। সবচেয়ে বড় কথা, যে কোনো রোগের ক্ষেত্রে প্রতিকার নয় প্রতিরোধ উত্তম। এ জন্য নিজের শরীরের প্রতি যত্নবান হতে হবে। সতর্ক হতে হবে খাওয়া-দাওয়া গ্রহণে। এ ছাড়া মেনে চলতে হবে ডাক্তারের প্রয়োজনীয় পরামর্শ।

ডা. এম শমশের আলী, সিনিয়র কনসালটেন্ট (প্রা.), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


আপনার মন্তব্য