Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ জুন, ২০১৯ ০৬:১০
আপডেট : ২৫ জুন, ২০১৯ ০৬:১৩

ফ্রান্সে তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

মোসাদ্দেক হোসেন সাইফুল, ফ্রান্স

ফ্রান্সে তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত
ফাইল ছবি

ফ্রান্স জুড়ে তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার সকাল থেকে বাড়তে থাকে সাহারা মরুভূমি থেকে উড়ে আসা গরম তাপমাত্রার পারদ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে অসহনীয় তাপদাহে বাড়তে থাকে গরম। এ অঞ্চলে এখন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওঠা-নামা করছে। তীব্র গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন স্থানীয় অধিবাসীসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা।

এই সপ্তাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এমনটি হলে জুন মাসে ফ্রান্সে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, সাহারার গরম হাওয়ার জন্যই আগে-ভাগেই গ্রীষ্মের রুদ্ররূপ দেখতে হচ্ছে ইউরোপকে।

ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মাতিও ফ্রান্স জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই উচ্চ তাপমাত্রা সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে ৪০ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। এমনকি আগামী বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপদাহ হতে পারে।

তাপপ্রবাহের সঙ্গে অতিরিক্ত আদ্রতার কারণে প্যারিসে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রির মত অনুভূত হবে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

তীব্র গরমে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই অসহনীয় গরমে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। গরমের কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় মনোযোগ দিতে পারবে না। এছাড়াও পরীক্ষার হলগুলোতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে ২৭ ও ২৮ জুনের চলমান Bac পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বাতিলকৃত পরীক্ষা দু'টি যথাক্রমে আগামী ১ ও ২ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ।

অপরদিকে গরমে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ঝর্ণা বসানো হচ্ছে। এছাড়া তাপ আরও বাড়লে সরকারি পুলগুলো জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে জানানো হয়েছে। ঘর ছাড়াও পথচারীদের জন্য জল বিতরণ এবং শিশু ও বয়স্কদের মত ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সেবার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে সঙ্গে পানীয় জল ও সানস্ক্রিন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০০৩ সালে ফ্রান্সে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছিল এবং সে সময়ে তীব্র দাবদাহে একমাসে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য