Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৬

অযোধ্যা মামলার রায় নিয়ে সাবধানতা ভারতের প্রধান বিচারপতির

অযোধ্যা মামলার রায় নিয়ে সাবধানতা ভারতের প্রধান বিচারপতির

অযোধ্যা মামলা। ১৩৩ বছরের পুরনো এবং ‘বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ’ মামলা। এ মামলার রায় কি দু-এক দিনের মধ্যেই? উত্তর প্রদেশ পুলিশ প্রশাসনের প্রধানদের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর তলব ঘিরে এ সম্ভাবনাই জোরদার হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি গতকাল দুপুরে নিজের চেম্বারে ডেকে পাঠিয়েছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যসচিব রাজেন্দ্র কুমার ও ডিজি ওম প্রকাশ সিংহকে। মূলত অযোধ্যাসহ গোটা রাজ্যে নিরাপত্তার আগাম কী বন্দোবস্ত করা হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

আগামী ১৭ নভেম্বর দেশের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রঞ্জন গগৈ। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, অবসর নেওয়ার আগেই তিনি অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার রায় দিয়ে যেতে চান। সে অনুযায়ী তার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে প্রতিদিন শুনানি হয়েছে। ৪০ দিন শুনানির পর রায় সংরক্ষিত রেখেছেন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতির অবসরের দিন ১৭ নভেম্বর হলেও তার শেষ কাজের দিন ১৫ নভেম্বর। তাই ১৫ নভেম্বরের আগেই রায় হওয়ার কথা।

ভারতের রাজনীতিতে এ রায়ের ফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। রায়ের আগে-পরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেই প্রধান বিচারপতির তলব বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রায়ের পর কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার মোকাবিলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন তিনি। উত্তর প্রদেশ পুলিশের তরফে অবশ্য বৃহস্পতিবারই জানানো হয়েছে, চার স্তরের নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে অযোধ্যা, সংলগ্ন জেলা এবং গোটা রাজ্য ঘিরে। সে পরিকল্পনায় কোথাও কোনো খামতি রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও পুলিশ প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্তার সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধান বিচারপতি। বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

প্রায় কয়েক দশক ধরে আদালতে বিচারাধীন রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এ মামলাটি। ২ দশমিক ৭৭ একর জমি নিয়েই এ দ্বন্দ্ব। এ জমির দাবিদার   হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ই। ভারতের রাজনীতিতে এই রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ  বিষয়টি ছিল ১৯৮০-এর দশকের অন্যতম  রাজনৈতিক ইস্যু। ১৯৯২ সালে ষোড়শ শতকে নির্মিত মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। তাদের বিশ্বাস, ভগবান রামচন্দ্রের জন্মভূমিতে এই মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। সেই হিংসার ঘটনায় দেশজুড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।


আপনার মন্তব্য