শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:০০
প্রিন্ট করুন printer

জলজ প্রাণী খাওয়ার বিধান

মুফতি রফিকুল ইসলাম আল মাদানি

জলজ প্রাণী খাওয়ার বিধান

জলে বাস করে অসংখ্য প্রাণী। সমুদ্রে আছে আমাদের জানা অজানা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর সমাহার। মাছ, কুমির, ব্যাঙ, কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টোপাস, শামুক ও ঝিনুক ইত্যাদি সবই জলজ প্রাণী। বিভিন্ন দেশের মানুষ বিভিন্ন প্রাণী খেয়ে অভ্যস্ত। আধুনিক জগতের ইসলামী স্কলারদের ভিন্ন ভিন্ন মতামতে সাধারণ মুসলান আজ বিব্রত হচ্ছে। তাই অনুসন্ধিৎসু পাঠক মহলের লক্ষ্যে জলজ প্রাণী খাওয়ার ইসলামী বিধান প্রসঙ্গে সংক্ষেপে লিখার প্রয়াস পাব। জগৎ বিখ্যাত গবেষক ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতানুসারে একমাত্র মাছ ব্যতীত কোনো জলজ প্রাণীই মুসলমানদের জন্য হালাল নয়। জনৈক ডাক্তার মহানবী (সা.)-এর নিকট ব্যাঙ হত্যা করার অনুমতি চাইলে তাকে তিনি ব্যাঙ হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। বস্তুত ব্যাঙ খাওয়া বৈধ হলে তা হত্যা করতে তিনি নিষেধ করতেন না। বরং তা আহার করা নিষিদ্ধ হওয়ায় অযথা হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। (আহকামুল কুরআন জাসসাস-৪/১৯০)

অপর হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “তোমাদের জন্য দুই ধরনের মৃত জীব ও দুই ধরনের রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃত জীব দুটি হলো মাছ ও টিড্ডি (মধ্য প্রাচ্যের বিশেষ পঙ্গপাল), আর দুই প্রকারের রক্ত হলো- কলিজা ও প্লিহা। (ইবনে মাজাহ, হা. ৩৩১৪)

কোনো কোনো বর্ণনাতে সাগরের মৃত জীব হালাল বলে উল্লেখ আছে। যাতে মাছের বিবরণ উল্লেখ নেই। (তিরমিজি, হা. ৬৯) তবে উপরোল্লিখিত হাদিসের আলোকে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় সাগরের ওই হালাল জীব হলো মাছ।
কুরআনে কারিমে মোমেনদের পরিচয় হিসেবে মহান প্রভু ঘোষণা করেন, তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল করে ও নিষিদ্ধ করে যাবতীয় ঘৃণিত বস্তুসমূহ। (আরাফ-১৫৭) যেসব বস্তু অপবিত্র এবং স্বাভাবিক বিবেচনায় খাদ্য হতে পারে না অথবা মানুষের জন্য ক্ষতিকর তা সবই ঘৃণিত ও নিষিদ্ধ বস্তু। হিদায়া গ্রন্থে মাছ ব্যতীত যাবতীয় জলজ প্রাণী ঘৃণিত বলে উল্লেখ করেছে। (হেদায়া : ৪/৩৫৩)

বস্তুত মাছ ব্যতীত অন্যান্য জলজ জীব সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিমদের নিকট ঘৃণিত জীব। অতএব বিচিত্র কোনো মতামতের ভিত্তিতে সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ইত্যাদি খাদ্য হিসেবে হালাল বলা সমীচীন হবে না। এ ছাড়া ইসলামী শরিয়তে কোনো বিষয়ে হালাল বা হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে সন্দেহযুক্ত হলে সতর্কতা হিসেবে হারাম গণ্য করাই নিরাপদ নীতিমালা। মাছ ব্যতীত যাবতীয় জলজ প্রাণী হালাল হওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে। তাই তা পরিহার করাই ইসলামী বিধান।

লেখক : কলামিস্ট, গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।

 

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:৩৬
প্রিন্ট করুন printer

ঋণমুক্তির তিন আমল

যুবায়ের আহমাদ

ঋণমুক্তির তিন আমল

পারস্পরিক সাহায্যে পূর্ণ হয়ে ওঠে মানুষের সামাজিক জীবন। সুখে-দুঃখে একে অন্যের পাশে দাঁড়ায় বন্ধু হয়ে। অভাবে ঋণ আদান-প্রদান করে একে অন্যের সঙ্গে। ঋণ করার পর তা দ্রুত পরিশোধ করা জরুরি। ঋণগ্রস্ত নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতের মতো হাজারো ভালো কাজ করে থাকলেও মৃত্যুর পর ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার আত্মা জান্নাতের দিকে ঝুলে থাকবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘অন্য সব দিকে ভালো মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর ঋণের কারণে তার আত্মা বেহেশতের পথে লটকে থাকবে। যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে কেউ সেই ঋণ পরিশোধ করে দেয়।’ ইবনে মাজাহ। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে তার জীবন কোরবানি করে দিয়ে শহীদ হলো তারও ঋণ মাফ করা হবে না। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ঋণ ছাড়া শহীদের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ মুসলিম। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ঋণখেলাপির জানাজা পড়তেন না। ঋণ পরিশোধে আমাদের সবারই আন্তরিক চেষ্টা থাকা উচিত। যেভাবে আমরা ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি : ১. ঋণ পরিশোধের নিয়ত করা : অনেকে পরিশোধ না করার ইচ্ছা নিয়েই ঋণ করেন। পাওনাদারকে ঠকানোই যাদের ইচ্ছা। ‘ভবিষ্যতে একান্তই দিতে হলে দিয়ে দেব; আর না দিয়ে পারলে তো বাঁচা গেল’- এই তাদের মনোবৃত্তি। এ ধরনের খেলাপির ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে হাদিসে। যখন কেউ একান্ত প্রয়োজনে ঋণ করে এবং পরিশোধ করার দৃঢ় সংকল্প রাখে আল্লাহ তাকে ঋণ পরিশোধের তৌফিক দান করবেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পরিশোধ করার নিয়তে মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে আল্লাহ তাকে পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে মানুষের সম্পদ ধ্বংসের জন্য গ্রহণ করে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন।’ বুখারি। ২. ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা : ঋণ পরিশোধের জন্য কেবল নিয়ত করে বসে থাকলেই হবে না বরং চেষ্টা করতে হবে। ঋণ পরিশোধ আমার বড় একটি প্রয়োজন এটি মাথায় রেখে অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজনের খরচগুলো কমানো এবং অপ্রয়োজনের খরচগুলো একদম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে খরচ নিয়ন্ত্রণ করে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ জমাতে হবে এবং কিছু কিছু করে ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে হবে। ৩. দোয়া করা : ঋণ পরিশোধের প্রাণান্ত চেষ্টার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য চেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা ইসলামের শিক্ষা। হজরত আবু ওয়ায়েল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আলী (রা.)-এর কাছে এক ক্রীতদাস এসে বলল, আমাকে সাহায্য করুন, আমি চুক্তির টাকা আদায় করতে পারছি না। তখন হজরত আলী (রা.) তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি শব্দ শিখিয়ে দেব না যা আমাকে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিখিয়েছেন? যদি তোমার ওপর সায়ির পাহাড় পরিমাণও ঋণ থাকে তবু আল্লাহ তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেবেন। এ ছাড়া হাদিসে আরও দোয়া রয়েছে সেগুলো বেশি বেশি পড়লে এবং ঋণ পরিশোধের নিয়ত করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলে আল্লাহ ঋণমুক্ত করে দেবেন!

লেখক : খতিব, বাইতুশ শফিক মসজিদ।

 

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:১৪
প্রিন্ট করুন printer

মাদক থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম

এম এ মান্নান

মাদক থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম

মানুষ সৃষ্টির সেরা। মানুষের জন্য যা কিছু কল্যাণকর ও উপকারী তা মহান আল্লাহ তাঁর পেয়ারা হাবিব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বারা জানিয়ে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে যা কিছু ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর তা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গোটা পৃথিবীর রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর আমি আপনাকে পৃথিবীর রহমতরূপে পাঠিয়েছি।’ যখন তিনি এ পৃথিবীতে আসেন তখন পৃথিবীর সর্বত্র ছিল জুলুম -নির্যাতনের বাড়াবাড়ি, বিদ্বেষ-হানাহানি, কুপ্রথা ও অশ্লীলতায় ভরপুর। মানুষ আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে কল্পিত দেবতাদের মূর্তিপূজায় নিজেদের নিমগ্ন রেখেছিল। আর সর্বত্র অবাধে চলত মদ্যপান ও অশ্লীল বেহায়াপনা। এহেন কঠিন মুহূর্তে ইসলাম এসেছে বিশ্বমানবতার দ্বারে শান্তির বার্তা নিয়ে আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন-বিধান হিসেবে। এতে রয়েছে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক পথের সঠিক দিশা।

আল কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ আহার কর, যা আমি তোমাদের জীবিকা হিসেবে দান করেছি এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা তারই বন্দেগি করে থাকো।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১৭২। উপরোক্ত আয়াতে মুমিনদের হালাল বস্তু পান ও  আহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রকারান্তরে যা কিছু হারাম তা পরিহারের ইশারা দেওয়া হয়েছে।

যেসব পানীয় এবং দ্রব্য সুস্থ ও স্বচ্ছ বিবেক অবলুপ্ত করে তা-ই মাদক এবং এটি হারাম। মাদক শব্দটি এসেছে মদ থেকে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সব নেশাকারী বস্তুই মদ বা মাদক আর সব নেশাকারী বস্তুই হারাম। মাদকদ্রব্য প্রাকৃতিক হোক যেমন মদ, তাড়ি, আফিম, গাঁজা, চরস, হাশিশ ইত্যাদি আর রাসায়নিক হোক যেমন ইয়াবা, হেরোইন, মরফিন, কোকেন, প্যাথেড্রিন, ফেনসিডিল ইত্যাদি- পরিমাণে কম হোক আর বেশি হোক পান বা আহার বা অন্য কোনোভাবে গ্রহণ করা হারাম। ইসলামী চিন্তাবিদদের সর্বসম্মত অভিমত, ইসলামে মদ্যপান সম্পূর্ণ হারাম। আল কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিন! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার দেবী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?’ সুরা মায়েদা, আয়াত ৯০-৯১।
লক্ষণীয়, কোরআনে মূর্তিপূজা, জুয়া ও ভাগ্যনির্ণায়ক শরের মতো মাদককে অভিন্ন কাতারে ফেলা হয়েছে এবং এ থেকে দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মদপান কোর না, কেননা মদ সব অনিষ্টের চাবিকাঠি।’ ইবনে মাজাহ। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি ইমানদার অবস্থায় মদপান করে না।’ মুসনাদে আহমাদ। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন, ‘মদ্যপায়ী ব্যক্তি মৃত্যুর পর মূর্তিপূজারির মতো আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ তিবরানি। ইরশাদ হচ্ছে, ‘মদ্যপায়ী ব্যক্তি মৃত্যুর পর জান্নাতে যাবে না।’ ইবনে হিব্বান।

কোরআন ও হাদিসের নিরিখে মাদক গ্রহণকারীদের ইহকাল শুধু নয় পরকালেও কঠিন সাজার সম্মুখীন হতে হবে। মাদকের অপকারিতা অসংখ্য- যেমন এটা আল্লাহর ইবাদতে ও নামাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, চিন্তা ও বিবেককে বিকৃত করে এবং পরস্পরের মাঝে হিংসা ও শত্রুতার জন্ম দেয়। এ ছাড়া আখিরাতের কঠিন ও ভয়াবহ শাস্তি তো রয়েছেই। মাদকের সঙ্গে বহু ধরনের গুরুতর অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে। মাদক সেবনকারী জিনা ও অশ্লীল কাজে এবং কঠিন গুনাহর মধ্যে রত থাকে।

হজরত আনাস (রা.) রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘রসুলুল্লাহ মদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে এমন ১০ শ্রেণির ব্যক্তিকে লানত করেছেন। ১. যে লোক নির্যাস বের করে। ২. প্রস্তুতকারক। ৩. পানকারী। ৪. যে পান করায়। ৫. আমদানিকারক। ৬. যার জন্য আমদানি করা হয়। ৭. বিক্রেতা। ৮. ক্রেতা। ৯. সরবরাহকারী ও ১০. এর লভ্যাংশ ভোগকারী।’ তিরমিজি।

মদ শারীরিক ও মানসিকভাবে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইসলামী শরিয়তে তাই মাদক নিষিদ্ধ। আল কোরআনে হারাম ঘোষণার পর মদ বাজারের রাস্তায় ঢেলে দেওয়া হয় এবং পানপাত্র ভেঙে চুরমার করা হয়। মাদকাসক্তি মানুষের দেহে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। মাদকদ্রব্য গ্রহণে ফুসফুস ও মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি হয়, হৃৎস্পন্দন ও নাড়ির গতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়, দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মুখ ও গলা শুকিয়ে আসে। মাদকে হজমশক্তি হ্রাস পায়, খাদ্যস্পৃহা কমে যায়। ফলে মানবদেহে ক্রমাগত অপুষ্টি বাসা বাঁধে। মাদক সেবন বক্ষব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি নেশার ব্যয় সংকুলানে অপরাধে লিপ্ত হয়। এ জন্য রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মাদকদ্রব্য সব অপকর্ম ও অশ্লীলতার মূল।’

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাদকাসক্তি যেমন একটি চরম অপরাধ তেমনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি জঘন্য পাপাচার। তাই সমাজে এমন ঘৃণ্য মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও প্রসার রোধ করা খুবই দরকার। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাদক থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:২৬
প্রিন্ট করুন printer

আল্লাহ ইমানদারদের মহান অভিভাবক

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

আল্লাহ ইমানদারদের মহান অভিভাবক

আল্লাহ স্বয়ং নিজেকে ইমানদারদের অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এটি ইমানদারদের জন্য একটি সম্মান। একই সঙ্গে একটি বড় ভরসা। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ইমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফুরি করে তাগুত তাদের অভিভাবক। তারা তাদের আলো থেকে অন্ধকারের দিকে বের করে আনে। এরাই হলো অগ্নি অধিবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।’ সুরা বাকারা, আয়াত ২৫৭।

মানুষ সৃষ্টির সেরা। সে মানুষই নিজেকে সৃষ্টির সেরা হিসেবে দাবি করতে পারে যে ইমানদার। যে আল্লাহর সন্তুষ্টিবিধানে সক্ষম। নিজেকে সৎকর্মশীল হিসেবে প্রমাণ করতে সমর্থ। যারা ইমানদার তাদের অশুভ ও অকল্যাণকর শক্তির প্রতিভূ শয়তান সম্পর্কে সতর্ক ও দূরে থাকতে হবে। আল কোরআনে এ বিষয়ে তাগিদ দিয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোর না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ সুরা বাকারা, আয়াত ২০৮।

ইমানদার হতে হলে সব ক্ষেত্রে তার ভালোবাসা ও শত্রুতার লক্ষ্য থাকতে হবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির ভালোবাসা ও শত্রুতা, দান করা ও না করা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই হয়, প্রকৃতপক্ষে সে-ই পূর্ণ ইমানদার।’ বুখারি।

আল্লাহ মানুষকে ইমানের পথে আনার জন্য যুগে যুগে নবী-রসুল পাঠিয়েছেন। শেষ নবী হিসেবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন ঘটেছে। তারপর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না। আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো ওহি বা কিতাব নাজিল হবে না। ইমানদার হতে হলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনা দীনের প্রতি ইমান আনতে হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মদের জীবন। এ উম্মতের যে কেউ চায় সে ইহুদি হোক বা নাসারা হোক আমার রিসালাতের কথা শুনবে, অথচ আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ইমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, সে অবশ্যই জাহান্নামের অধিকারী হবে।’ মুসলিম। ইমানের পথে থাকার জন্য মুমিনদের অনেক সময় দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। বাহ্যিক দিক থেকে ক্ষতির সম্মুখীন হলেও প্রকৃত অর্থে যারা ইমানদার নয় তারাই ক্ষতির সম্মুখীন। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ মহাকালের! নিশ্চয় সব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা ছাড়া যারা ইমান এনেছে, সৎ আমল করেছে এবং পরস্পর পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পর পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিয়েছে।’ সুরা আসর, আয়াত ১-৩। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইমানে অটল থাকার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:২৫
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:২৬
প্রিন্ট করুন printer

অন্যের সাফল্যে অসন্তুষ্টি মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়

সাআদ তাশফিন

অন্যের সাফল্যে অসন্তুষ্টি মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়

অন্যায় নিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ: কিছু মানুষ অন্যের সাফল্য সহ্য করতে পারে না। কেউ আল্লাহর রহমতে তার থেকে এগিয়ে যাবে, এটা সে সহ্য করতে পারে না। তাই সে প্রতিনিয়তই তার সাফল্য ম্লান করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। তার মনোবল ভেঙে দিতে সামনে-পেছনে মিথ্যা ও অযৌক্তিক সমালোচনা করে। 

সফল হওয়ার জন্য নিজের কাজে মনোযোগ না দিয়ে অন্যের ক্ষতি করার জন্য বিভিন্ন ফন্দি আঁটে। মিথ্যা প্রচারণা চালায়, যা কখনোই একজন মুমিনের কাজ হতে পারে না। বরং এ ধরনের কাজ মানুষকে আরো পেছনে নামিয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ সে লোকের, যে সামনে-পেছনে মানুষের নিন্দা করে। (সুরা : হুমাজাহ, আয়াত : ০১)

অমূলক ধারণ নিষেধ: অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থেকো। কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান কোরো না এবং একে অন্যের গিবত কোরো না। 

তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে করো। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)

অনুগ্রহ আল্লাহর ইচ্ছাধীন: তা ছাড়া সাফল্য আল্লাহর নিয়ামত। মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকেই সফল করেন। যারা অন্যের সাফল্যে অযৌক্তিকভাবে ব্যথিত হয়, তারা মূলত আল্লাহর সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারে না বলেই ব্যথিত হয়। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা কি আপনার রবের রহমত বণ্টন করে? আমিই দুনিয়ার জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি এবং তাদের একজনকে অন্যের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করি, যাতে একে অন্যের দ্বারা কাজ করিয়ে নিতে পারে; আর আপনার রবের রহমত তারা যা জমা করে তা থেকে উৎকৃষ্টতর।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩২)

আল্লাহর অনুগ্রহে বাধাদানকারী নেই: তাই কোনো মুমিন তার অন্য ভাইয়ের সাফল্যে ব্যথিত হতে পারে না। তাকে ধ্বংস করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হতে পারে না। আল্লাহ যদি কাউকে সফলতা দিতে চান, কারো হিংসা, বিদ্বেষ ও মিথ্যা অপবাদ, ষড়যন্ত্র কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো অনুগ্রহ অবারিত করলে কেউ তা নিবারণ করতে পারে না এবং তিনি কিছু বন্ধ করলে কেউ তার উন্মুক্ত করতে পারে না। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ২)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ কারো প্রতি রহমতের দৃষ্টি দিলে কেউ তার ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি পুরো পৃথিবী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেও তার কিছুই করতে পারবে না। একবার রাসুল (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলেন, ‘জেনে রেখো, যদি সব মানুষ তোমার কোনো উপকারের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে ততটুকু উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। 

অন্যদিকে যদি সব মানুষ তোমার কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হয়, তাহলে ততটুকু ক্ষতি করতে সক্ষম হবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৬)

অতএব কারো সাফল্যে ব্যথিত না হয়ে খুশি হওয়া উচিত। তাকে সহযোগিতা করা উচিত। সফল হওয়ার জন্য নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে চেষ্টা করা উচিত। মহান আল্লাহ কারো চেষ্টাকেই বৃথা করেন না।

মহান আল্লাহ সবাইকে এই নিকৃষ্ট অভ্যাস ত্যাগ করার তাওফিক দান করুন।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৩৮
প্রিন্ট করুন printer

পবিত্র জুমার নামাজের গুরুত্ব

মুফতি মুহাম্মাদ এহছানুল হক মুজাদ্দেদী

পবিত্র জুমার নামাজের গুরুত্ব

করোনাভাইরাসের এ মহামারীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে মসজিদে যাওয়া সময়ের দাবি। জুমা বিশ্বের মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন। জুমার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত প্রসঙ্গে সুরা জুমার ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয় তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বোঝ।’ এ আয়াতের মাধ্যমে জুমার নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। জুমার নামাজের তাগিদ শুধু কোরআনেই নয়, হাদিসেও এসেছে। হজরত তারিক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তি- এ চার প্রকার মানুষ ছাড়া সব মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য।’ আবু দাউদ, মুসতাদরিকে হাকেম। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জুমার নামাজ ছেড়ে দেয় তবে তার ব্যাপারে রয়েছে কঠোর হুঁশিয়ারি।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে তার নাম মুনাফিক হিসেবে এমন দফতরে লিপিবদ্ধ হবে যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তনও করা যাবে না।’ তাফসিরে মাজহারি। জুমার দিন মুসলমানের সাপ্তাহিক ঈদের দিন এবং এটি দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। ইবনে মাজায় বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর কাছে তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ আর মুসলিমের হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যেসব দিনে সূর্য উদিত হয়েছে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। সে দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সে দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সে দিনেই জান্নাত থেকে তাঁকে বের করা হয়েছে। যেদিন কিয়ামত হবে সেদিনও হবে জুমার দিন।’ সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে জুমার দিনের ফজিলত অনেক। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমার দিনে ফেরেশতারা মসজিদের প্রতিটি দরজায় দাঁড়িয়ে যায়। তারা মসজিদে আগমনকারী মুসল্লিদের নাম পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করতে থাকে। এরপর যখন ইমাম এসে যায় তখন তারা রেজিস্টার বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকে। যে সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করে সে একটি উট আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব লাভ করে। যে দুই নম্বরে প্রবেশ করে সে একটি গরু আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়। যে তিন নম্বরে প্রবেশ করে সে একটি দুম্বা দান করার সওয়াব পায়। যে চার নম্বরে প্রবেশ করে সে একটি মুরগি দান করার সওয়াব লাভ করে। আর যে পাঁচ নম্বরে প্রবেশ করে সে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়।’ বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে শাফি।

লেখক : খতিব, মণিপুর বাইতুল আশরাফ জামে মসজিদ
মিরপুর, ঢাকা।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর