Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১০:২৩
আপডেট : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:৪১

এইডস’র ভয়ে পানি শূন্য করা হচ্ছে লেক!

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

এইডস’র ভয়ে পানি শূন্য করা হচ্ছে লেক!

লেকের (হৃদ) মধ্যে থেকেই উদ্ধার এইচআইভি (এইডস) পজেটিভ সংক্রমিত এক নারীর লাশ। গ্রামবাসীদের ধারণা এইচআইভি পজেটিভ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে ওই লেকের পানিতেও! তাই ৩৬ একর বিস্তৃত ওই লেকের পানি পাম্প করে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন গ্রামের মানুষরাই।

লেকের দূষিত পানি পাম্প করে বাইরে বের করে দেওয়ার পর পার্শ্ববর্তী মালাপ্রভা খাল থেকে পানি এনে ওই লেকটি ফের পানি দিয়ে ভর্তি করা হবে। অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্নাটকের ধারবাদ জেলার মোরাব গ্রামে। গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের পানির প্রধান উৎসই হল এই লেকের পানি।

জানা গেছে, বিশ বছর বয়সী এক নারী নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার জন্য দিন কয়েক আগে ওই লেকটিতে ঝাঁপ দেয়। গত ২৯ নভেম্বর লেকের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ওই নারীর লাশ। ততক্ষণে লাশটির অর্ধেক অংশই ওই লেকের মাছেরা খেয়ে ফেলেছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই গ্রামবাসীরা ওই লেকের পানি ব্যবহার করতে অস্বীকার করেন, তাদের ধারণা ওই পানি খেলে তারা এইচআইভি-তে সংক্রমিত হতে পারেন।

এরপরই ওই লেকের সমস্ত পানি সেচ করে ফেলে দেওয়ার দাবি তোলেন গ্রামবাসীরা। তাদের সেই চাপের কাছে মাথা নোয়াতে হয় প্রশাসনকেও।

মোরাবা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য লক্ষণ জানিয়েছেন ‘ওই নারী এইচআইভি সংক্রমিত হওয়ার খবর জানতে পেরেই গ্রামবাসীরা ভীত হয়ে পড়েন এবং লেকের পানি খেতে অস্বীকার করেন। তাদের দাবি ছিল, যেভাবেই হোক লেকের পানি শূন্য করে দিতে হবে। লেকটিকে পানি শূন্য করতে আমাদের আরও ৫ দিন সময় লাগবে এবং সেটিকে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভরাতে লাগবে ১৫ দিন।’

নাভালগ্র্যান্ড’র তহসিলদার নবীন হুল্লুর জানান ‘গ্রামবাসীদের দাবি মেনে না নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। প্রায় এক হাজারেরও বেশি গ্রামবাসী আটটি জলের ট্যাঙ্ক ভাড়া করে নিয়ে লেকের কাছে এসেছিল। তারাই বলল যে প্রশাসনের তরফে যদি এই লেকের পানি বাইরে বের করে না দেওয়া হয়, তবে তারাই এই ট্যাঙ্কার দিয়ে এই কাজ করবে। এই পরিস্থিতিতে আমরাই বা কি করতে পারি?’ 

এরপর বুধবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে ওই লেকের তথাকথিত দূষিত পানি বের করে দেওয়ার কাজ, সমস্ত পানি বের করার পর ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে পাশ্ববর্তী মালাপ্রভা খাল থেকে পানি এনে তা ভর্তি করা হবে। 

রাজীব গান্ধী ইন্সিটিউট অব চেস্ট অ্যান্ড কমিউনিকেবল ডিজিজেস’এর ডিরেক্টর ড. নাগরাজ দাবি করেন, গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত হওয়ার পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে ওই লেকের পানি এইচআইভি-দূষিত হয়েছে। কারণ জরিপে দেখা গেছে, ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বেশি তাপমাত্রায় পানির ভিতর কোন জীবাণু আট ঘণ্টা পর সক্রিয় থাকতে পারে না। আর এক্ষেত্রে লাশটি উদ্ধারের পর ছয় দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে।’

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য