Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ জুন, ২০১৯ ১৮:০২

দলীয় কর্মীর মৃত্যু: ১২ ঘণ্টার হরতাল ও কালা দিবস পালন বিজেপির

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

দলীয় কর্মীর মৃত্যু: ১২ ঘণ্টার হরতাল ও কালা দিবস পালন বিজেপির
নিহত দুই বিজেপি কর্মীর সৎকার নিয়ে রবিবার রাতে উত্তেজনা দেখা দেয় পুলিশ ও বিজেপি নেতাদের মধ্যে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সন্দেশখালিতে দুই দলীয় কর্মীর মৃত্যু ও রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির কারণে সোমবার পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কালা দিবস পালন করছে বিজেপি। হাতে কালো ব্যাজ পরে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করেছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। একইসাথে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমায় ১২ ঘণ্টা (আধা বেলা) হরতাল পালন করছে দলটি। 

হরতালের ফলে এদিন সকাল থেকে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন। সকালে বসিরহাটের ভ্যাবলা রেল স্টেশনে বিজেপি কর্মীদের অবরোধের ফলে সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে রেল চলাচল। পরে স্থানীয় পুলিশ ও রেলের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় শুরু হয় ট্রেন চলাচল। একাধিক জায়গায় সড়কও অবরোধ করা হয়। বেশিরভাগ দোকান-বাজারই বন্ধ। রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। 

উল্লেখ্য, শনিবারই বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালির ন্যাজাটে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয় প্রদীপ মন্ডল ও সুকান্ত মন্ডল নামে দুই বিজেপি কর্মী। ওই সংঘর্ষে মৃত্যু হয় কায়ুম মোল্লা নামে এক তৃণমূল কর্মীও। যদিও বিজেপির দাবি, তাদের পাঁচজন কর্মী নিহত হয়েছে। খুনের পর থেকেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালি।
 
এদিকে, সোমবারও গোটা সন্দেশখালি জুড়েই থমথমে চেহারা। নতুন করে অশান্তি ঠেকাতে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। এদিন মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় মিছিল বের করে অভিযুক্তদের চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

গত মাসে সমাপ্ত ভারতের লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন সময়েই পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ভোট পরবর্তী সময়েও যেভাবে এরাজ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এবং অশান্তি বেড়ে চলেছে তাতে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য সরকারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে মন্ত্রণালয় থেকে রবিবার রাতেই রাজ্যকে ‘পরামর্শ’ পাঠিয়ে বলা হয়েছে-গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যে যে সংঘর্ষ চলছে তা প্রশমিত করতে না পারা রাজ্যের ব্যর্থতা। রাজ্যবাসীর আস্থা অর্জনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের থেকে বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এরপর রাতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিব (চিফ সেক্রেটারি) মলয় কুমার দে-ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে, ভোটের পর কিছু বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা ঘটেছে। যারা জন্য সমাজবিরোধীরাই দায়ী। প্রতিটি ক্ষেত্রেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্দেশখালির ঘটনারও তদন্ত চলছে। মোটের ওপর সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন ব্যর্থতার প্রশ্ন নেই। 

এদিকে, সোমবার দুপুরে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের সাথে বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠি। বৈঠকে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যে ঘটে চলা রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে বিস্তারিত জানান রাজ্যপাল। বৈঠক শেষে রাজ্যপালও গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে জানান, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলার প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেছি। তবে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাবে না।’

বিডি-প্রতিদিন/১০ জুন, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য