প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০২০ ১৪:৩১

বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রত্যাবর্তনের পর কোয়ারেন্টাইনে যেতে অস্বীকৃতি ১৬০ শিক্ষার্থীর

বিমানবন্দরে ব্যাপক হট্টগোল

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রত্যাবর্তনের পর কোয়ারেন্টাইনে যেতে অস্বীকৃতি ১৬০ শিক্ষার্থীর

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই বাংলাদেশে আটকা পড়েছিলেন ভারতের কাশ্মীরের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার ১৬০ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ বিমানে করে শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরত নেওয়া হয়। কিন্তু এরপরই ঘটে বিপত্তি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের নির্দিষ্ট কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানতে অস্বীকার করেন। এসময় বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা রীতিমতো তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ। এমনকি বিমানবন্দরের বাইরে ওই শিক্ষার্থীদের  অভিভাবকরাও দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

কাশ্মীর পুলিশের এক সিনিয়র কর্মকর্তা এ ব্যাপারে জানান “বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ থেকে বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। বাদাগাম জেলা প্রশাসনের   নির্দেশ অনুযায়ী করোনাভাইরাস সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই ছাত্র-ছাত্রীদের কোয়ারেন্টাইন করে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তরফ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদন জানানো হয় তারা যেন এ ব্যাপারে সব রকম সহযোগিতা করেন। কিন্তু তার বদলে তারা বিমানবন্দরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এবং ভিতরে কাচের জানালা ভাঙচুর করেন।

তিনি আরও জানান, “ঠিক ওই সময়ে বিমানবন্দরের বাইরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফ স্থানীয় পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনার পরই বিমানবন্দরে পৌঁছে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এরপর বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং ভাঙচুর চালাতে থাকেন।

বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের প্রতিহত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়। ছত্রভঙ করে দেওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের এবং পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করেন। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশ ফেরত ওই শিক্ষার্থীদের প্রশাসনের ঠিক করে দেওয়া কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।”

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান কর্মকর্তা।

যদিও শিক্ষার্থীদের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা স্ক্রিনিংয়ের জন্য বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা মজুদ ছিল না। এমনকি বিমানবন্দরে যে হল ঘরটিতে তাদের রাখা হয়েছিল সেটিও অতিরিক্ত জনবহুল হওয়ার কারণে তারা ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় তারা সরকারের নির্ধারিত কোয়ারেন্টাইনে না গিয়ে নিজেদের বাড়িতে চলে যেতে চেয়েছিলেন। 

উল্লেখ্য, গোটা ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৬, যার মধ্যে ২৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। দিল্লি, কর্নাটক, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র রাজ্যে একজন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর