শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ জুন, ২০২০ ১৯:২০
আপডেট : ৩০ জুন, ২০২০ ০৯:৫৯

লাদাখ সংর্ষের জেরে কলকাতার হোটেলে চীনা নাগরিকরা নিষিদ্ধ

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

লাদাখ সংর্ষের জেরে কলকাতার হোটেলে চীনা নাগরিকরা নিষিদ্ধ

পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপতক্যায় ভারত-চীন সংঘর্ষের জেরে ভারতে আগত চীনের কোনও নাগরিককেই ঘরভাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার কয়েকটি হোটেল। 

গত ১৫ জুন এক কর্ণেলসহ ২০ জন ভারতীয় সেনাসদস্যদের মৃত্যুর ঘটনার পরই ভারত জুড়ে বিক্ষোভে সামিল হয় দেশটির সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলি। চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং’এর কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর পাশাপাশি গোটা ভারত জুড়েই চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। এমন এক পরিস্থিতিতে কলকাতার হোটেল মালিকগুলি চীনা অতিথিদের স্বাগত না জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

কলকাতার নিউমার্কেট, লিন্ডসে স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট চত্বরে রয়েছে একাধিক ছোট-বড় হাসপাতাল। কলকাতা শহরে ঘুরতে এলে বহু বিদেশি নাগরিক এই সব হোটেলে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু এবার চীনাদের জন্য বেশ কয়েকটি হোটেল ও লঞ্জের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। 

ইতিমধ্যেই পার্ক ইন, গ্রীণ ভিউ, হোটেল বেঙ্গল, প্রেসিডেন্সি ইনসহ বেশ কয়েকটি হোটেলের বাইরে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে নোটিশ বোর্ড। যেখানে সাদা কাগজে ইংরেজিতে বড় বড় করে লেখা  ‘চাইনিজ বোর্ডারস আর নট অ্যালাউড।’ 

হোটেল পার্ক ইন’এর কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, আমরা একটা উদ্যোগ নিয়েছি তা হল- আমাদের কলকাতা শহরে যে চীনা অতিথি আসছেন তাদের আমরা আমাদের হোটেলে স্বাগত জানাবো না।

কারণ হিসাবে তিনি বলেন, একদিকে সীমান্তে আমাদের সেনাদের হত্যা করছে, অন্যদিকে আমরা তাদের আতিথেয়তা দেবো বা স্বাগত জানাবো, এটা হতে পারে না। আমরা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আবেদন জানাবো যে তারা যেন চীনের বিরুদ্ধে একটা যোগ্য জবাব দেয়।

চীনা নাগরিকদের কলকাতার হোটেলে স্বাগত না জানানোর জন্য শহরের অন্য হোটেল মালিকদের কাছেও আবেদন রাখেন ইশতিয়াক আহমেদ। তার দাবি পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ, বেনিয়াপুকুর সহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন হোটেল মালিকদের সাথে কথা হয়েছে এবং তারাও প্রায় প্রত্যেকেই চীনা নাগরিকদের তাদের হোটেলগুলিতে কোন ঘর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

হোটেল বেঙ্গল’র কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ জানা,ন আর্থিক ক্ষতি হলেও চীনাদের সাথে তাদের কোন ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। আর হোটেলে জায়গা দেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।
 
এর আগে গত সপ্তাতেই দিল্লির হোটেল অ্যান্ড হাউজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফেও রাজধানীতে চীনা নাগরিকদের কোন হোটেল, লঞ্জ বা রিসর্ট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে চীনা নাগরিকদের তারা স্বাগত জানাতে পারবে না।  

লাদাখে ভারত-চীন সংর্ঘষের পরই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে ভারতবাসীর মধ্যে। এমনকি চীনা সেনার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষ নিতে দেখা গেছে কলকাতার চায়না টাউনের বাসিন্দাদেরও। কয়েকদিন আগেই চায়না টাউনের বিভিন্ন রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। 

স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী জাভেদ খানের নেতৃত্বে ওই মিছিল থেকে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি ও চিনা ভাষায় লেখা বিভিন্ন পোস্টার নিয়ে চীনা বর্বরতার বিরুদ্ধে সরব হন চীনা প্রবাসীরা। তাদের প্রত্যেকের গলাতেই ছিল এক সুর- ‘আমরা এই কলকাতা শহরকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসি। আমাদের সাথে চীনের কোন সম্পর্ক নেই।’


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর