Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৪

ভোটের হাওয়া সারাদেশে

মহাজোট প্রার্থীদের বেড়েছে সম্পদ, জোটের মামলা

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

মহাজোট প্রার্থীদের বেড়েছে সম্পদ, জোটের মামলা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীদের সম্পদের পরিমাণ গত ১০ বছরের ব্যবধানে হু হু করে বেড়েছে। পক্ষান্তরে ২০-দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের বেড়েছে মামলা। মহাজোট ও জোট মনোনীত রাজনৈতিক নেতাদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় উঠে এসেছে এ চিত্র। গত ১০ বছরের ব্যবধানে মহাজোটের কোনো কোনো প্রার্থীর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ২৬৭ গুণ। পক্ষান্তরে ২০-দলীয় জোটের কোনো কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সর্বোচ্চ ৭৭টি। প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডা. আফসারুল আমিন হলফনামায় উল্লেখ করেন, তার নগদ ৪ কোটি ৮ লাখ ১৯ হাজার ২৪৫ টাকা। অথচ তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হলফনামায় নিজের নগদ টাকার উল্লেখ করেন ১৮ হাজার ১ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে সাবেক এ মন্ত্রীর নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ২ হাজার ২৬৭ গুণ! চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে জাসদ কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দিন খান বাদল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় উল্লেখ করেন তার ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬১ হাজার ৫২৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় তিনি অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছিলেন ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকার। ১০ বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১৭ দশমিক ২৯ গুণ! চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দিদারুল আলম হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২০ কোটি ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৬৮৩ টাকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখ করেন ২৩টি। অথচ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৩ টাকা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭টি। একই ভাবে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মহাজোটের প্রার্থীদের বেশির ভাগেরই সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। মহাজোটের প্রার্থীদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সম্পদের পরিমাণ বাড়লেও বিপরীত চিত্র ২০-দলীয় জোট প্রার্থীদের। ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা এসব নেতার মামলার সংখ্যা বেড়েছে হু হু করে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসিতে দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলা রয়েছে। গত ১০ বছরেই এসব মামলা করা হয়। যদিও মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বাতিল করা হয় আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র। একইভাবে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুল আলম উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা রয়েছে। তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। একই আসনের বিএনপির আরেক প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের নামে মামলা রয়েছে ৪০টি। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনের বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামে মামলা রয়েছে ১৪টি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যা ছিল দুটি। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনের বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমানের নামেও রয়েছে ১৪টি মামলা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও) আসনের বিএনপির প্রার্থী এম মোরশেদ খানের নামে মামলা রয়েছে সাতটি এবং একই আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে।

পাঁচ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল পাঁচটি। যাচাই-বাছাইয়ে মোরশেদ খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর