Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৫

চালক-পথচারী নিয়ম মানছেন না কেউ, প্রথম দিনে ৬৯০৯ মামলা

ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চালক-পথচারী নিয়ম মানছেন না কেউ, প্রথম দিনে ৬৯০৯ মামলা

ঢাকায় যেখানে-সেখানে থামছে বাস। ইচ্ছা মতো যাত্রী ওঠা-নামা করছেন চালকরা। মানা হচ্ছে না গাড়ি থামানোর জন্য নির্ধারিত পয়েন্ট। যাত্রীরাও দৌড় দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে ওঠানামা করছেন। এসব ঘটছে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই। ট্রাফিক পুলিশও নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরছেন। বলছেন, মানুষ সচেতন না হলে শুধু আইন দিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মঙ্গলবার শুরু হয়েছে ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ। চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথম দিনেই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৬ হাজার ৯০৯টি মামলা করা হয়েছে। জরিমানা করা হয় ৩৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ৩৮টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৮৮৯টি রেকার করা হয়। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সূত্র বলছে, উল্টোপথে গাড়ি চালানোয়  ১ হাজার ২৯০টি, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করায় ২১৮টি, হুটার ও বিকনলাইট ব্যবহারের জন্য ১১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা এবং মাইক্রোবাসে কালো গ্লাস ব্যবহারের কারণে ২৩টি মামলা করা হয়েছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করায় ২ হাজার ৭৬৮টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা ও ১৩৯টি জব্দ করা হয়। এ ছাড়া গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের অপরাধে ২৬ চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জেব্রাক্রসিং ছাড়াই রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারী। ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত যানবাহনের সামনে দিয়ে যখন-তখন রাস্তা পার হচ্ছে পথচারীরা। সিগন্যাল মানতে চাইছে না কেউ। সুযোগ পেলেই দ্রুতগতিতে পার হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে মোটরসাইকেল। ফলে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে নামে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। পুলিশ ও সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা তখন মারধর করে তাদের উঠিয়ে দেন। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নাড়া দেয় সরকারের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। এরপর কয়েক দফায় বিশেষ ট্রাফিক সচেতনতা মাস, ট্রাফিক সপ্তাহ, ট্রাফিক পক্ষ পালন করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মাথায় হেলমেট উঠলেও সার্বিক পরিস্থিতি তেমন বদলায়নি। এবারের ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষে স্টপেজ ছাড়া অন্য সময় চলন্ত বাসের দরজা বন্ধ এবং যত্রতত্র বাস থামলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষে মডেল করিডর হিসেবে ঘোষিত বিমানবন্দর থেকে শহীদ জাহাঙ্গীর গেট, ফার্মগেট, সোনারগাঁও, শাহবাগ, মৎস্য ভবন, কদম ফোয়ারা, পুরাতন হাই কোর্ট হয়ে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ভিআইপি সড়কের সংযোগগুলোয় রিমোট নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বাতি কার্যকর করা হবে। ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।


আপনার মন্তব্য