শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৫

শূন্য শুল্ক সুবিধা দেবে চীন

ঢাকাকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিল ৯৭ শতাংশ পণ্যের কথা

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

শূন্য শুল্ক সুবিধা দেবে চীন

চীনে শূন্য শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশটির প্রস্তাবিত ‘জিরো ট্যারিফ স্কিম’ সুবিধা নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে সম্মতিপত্র পাঠানোর প্রায় ৯ মাস পর ঢাকাকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিল বেইজিং। বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এখন এ বিষয়ে চুক্তির দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে ঢাকাকে।

গত ৩১ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ চিঠি পাঠানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন ঢাকার চীন দূতাবাসের ইকোনমিক অ্যান্ড কমার্শিয়াল কাউন্সিলর লা গুয়ানজিয়ান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কোন কোন পণ্যে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে তার তালিকা ও রুলস অব অরিজিনের শর্তসহ চিঠির সঙ্গে তারা একটি সংযুক্তিও পাঠিয়েছে। তবে সেটি চাইনিজ ভাষায় হওয়ায় অনুবাদ করতে বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হবে। এরপর অনুবাদ পর্যালোচনা করে চুক্তির দিনক্ষণ জানানো হবে। জানা গেছে, চীনের বাজারে জিরো ট্যারিফ স্কিমের আওতায় বাণিজ্য সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে গত বছরের এপ্রিলে চিঠি পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। তার আগে এ বিষয়ে ট্যারিফ কমিশন ও ব্যবসায়ীদের মতামত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তারা জানান, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ আপটার (এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট) আওতায় চীনের কাছ থেকে ৫ হাজার ৭৪টি রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে। জিরো ট্যারিফ স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ চীনে বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণ করলে সেখানে আর আপটার আওতায় বাণিজ্য সুবিধা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ প্রচলিত আপটা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধার পরিবর্তে চীনের বাজারে ‘জিরো ট্যারিফ স্কিম’ নামে নতুন এই বাণিজ্য সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

সূত্র জানায়, বর্তমানে চীনের বাজারে আপটার আওতায় ৮৩টি পণ্যে এবং ডব্লিউটিও-এর আওতায় আরও প্রায় ৫ হাজার পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। আপটার আওতায় শুল্ক সুবিধার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে ৩৫ শতাংশ এবং শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধার আওতায় ৪০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত রয়েছে। এই দুটি সুবিধায় চীনের ট্যারিফ লাইনের ৬৫ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা পায় বাংলাদেশ। তবে এর মধ্যে তৈরি পোশাকসহ দেশের প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত না থাকায় চীনের বাজারে প্রচলিত এই বাণিজ্য সুবিধা বাংলাদেশের কোনো কাজে লাগছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন জিরো ট্যারিফ স্কিম সুবিধায় ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে, যা প্রচলিত দুই সুবিধার চেয়ে বেশি। এ ছাড়া চীন যে সুবিধা দিতে চাচ্ছে তা কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী বাজার গড়ে উঠবে। কারণ শ্রমের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চীন পোশাক খাত থেকে সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের তৈরি পোশাকের মূল্যও বেশি পড়ছে। এ অবস্থায় চীনের নিজেদের জনগণও সস্তা তৈরি পোশাক খুঁজছে। এ সুযোগে বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার এ দেশটির পোশাক খাতের বাজার ধরতে পারলে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমে যাবে। পোশাক খাতের রপ্তানি বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। দুই দেশের বাণিজ্য বৈষম্যও অনেকটা হ্রাস পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে চীন যে ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিতে চাচ্ছে সেখানে তৈরি পোশাক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নতুন প্রস্তাবে আমাদের তৈরি পোশাকসহ ১৭টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। চীন বলেছে, তারা তামাক ও ভুট্টা ছাড়া বাকি ১৫টি পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেবে। ফলে নতুন স্কিমটি আমাদের জন্য লাভজনক হবে বলে মনে করছে ট্যারিফ কমিশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য ২০১৫ সালে ‘জিরো ট্যারিফ স্কিম’ ঘোষণা করার পর ২৪টি দেশ এই সুবিধা নিতে ওই বছরই চীনের সঙ্গে লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করে। এরপর আরও ১২টি স্বল্পোন্নত দেশ চীনের সঙ্গে লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশসহ কেবলমাত্র দুটি দেশ এই সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ফলে শূন্য শুল্কের প্রস্তাবিত সুবিধাও পায়নি। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে এবং বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণও অনেক। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারই চীনের রপ্তানি আয়। বর্তমানে চীনে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশি পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, মাছ ও কাঁকড়া, প্লাস্টিক পণ্য, ফুল, সবজি, ফল, মসলা এবং তামাক ইত্যাদি রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রক্রিয়াজাত চামড়ার ৬০ শতাংশের বেশি রপ্তানি হয় চীনে। এ ছাড়া অপ্রক্রিয়াজাত চামড়ারও বড় একটি অংশ যায় দেশটিতে।


আপনার মন্তব্য