Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৬

বুড়িগঙ্গা ঘিরে মহাপরিকল্পনা

দখল ঠেকাতে নির্মাণ হবে ওয়াকওয়ে ইকোপার্ক, বাস্তবায়নের গতি দ্রুত

জয়শ্রী ভাদুড়ী

বুড়িগঙ্গা ঘিরে মহাপরিকল্পনা

ঢাকা শহরের প্রাণ বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে নেওয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা। ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ইকোপার্ক এবং বাগান করে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হবে বুড়িগঙ্গাকে। স্থায়ীভাবে দখল-দূষণ প্রতিরোধ করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা যায়, অবৈধ স্থাপনা ও দখলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। বুড়িগঙ্গার দুই পাশ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ২০০ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কামরাঙ্গীরচর, ছাতামসজিদ, বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল, কিল্লার মোড়, শ্মশান ঘাট এলাকার সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা টিনের ঘর, আধাপাকা, পাকা বহুতল ভবন, বিভিন্ন স’ মিল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে যাদের স্থাপনা উচ্ছেদ হয়েছে, তারা আক্ষেপ প্রকাশ করলেও স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন এবং স্থানীয়রা। অভিযান পরিচালনাকারীরা বলছেন, অবৈধ স্থাপনা তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। অভিযানকালে নদীর তীর, জায়গা দখল ও ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে কয়েকজনকে আটক ও জরিমানাও করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ঢাকা নদীবন্দরে কুলি হয়রানি, যাত্রী হয়রানি এবং বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদী দখল-দূষণ সম্পর্কে অভিযোগ জানানোর জন্য ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। হটলাইন নম্বরগুলো হলো : ০১৩০৪ ০০৪০০৩, ০১৩০৪ ০০৪০০৬। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও কিছুদিন না যেতেই আবার দখল হয়ে যায়। তাই এবার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বুড়িগঙ্গার উচ্ছেদকৃত এলাকায় ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, পুরো এলাকাকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে ইকোপার্ক এবং বাগান গড়ে তোলা হবে। ওয়াকওয়েতে নদীর সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেলে এ জায়গা দখল হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। হাতিরঝিলের মতো পুরো এলাকা স্থাপত্য শৈলীর বৈচিত্রতা ও সবুজায়নে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হবে। এখানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ইকোপার্ক। নগরবিশ্লেষক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, নদীর দুই পাশের দখল ঠেকাতে ওয়াকওয়ে নির্মাণ একটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এর সফল উদাহরণ হাতিরঝিল। যেখান থেকে নদীর সীমানা শুরু সেখান থেকে ওয়াকওয়ে তৈরি করে সবুজায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। এর পাশাপাশি সাইকেল লেনের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। বুড়িগঙ্গা নিয়ে পরিকল্পনা বিষয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রতিটি নদীকে দখল ও বিষমুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। বুড়িগঙ্গার পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। দখলমুক্ত করার পর যেন আবার কোনো দখলদার নদীকে গ্রাস করতে না পারে এজন্য ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে। নদী এবং নগরী বাঁচাতে এখানে ইকোপার্ক গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পনা করে সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজও শুরু করব আমরা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর